হারিয়ে যাবার পর/ শেখ জলিল
অনেকদিন পর ঠিক এভাবে তোমাকে পাবো ভাবিনি আমি।
আমি এলে সজনে তলার ঝিঁঝিঁরা ডাকবে
পাতার আড়াল থেকে শিস দিয়ে উঠবে একটি রাতজাগা পাখি
বাড়ির নেড়ী কুত্তাটা ঘেউ ঘেউ করে বলবে স্বাগতম, স্বাগতম তোমায়
গোয়াল থেকে অবুঝ ছাগলছানাটা ম্যা ম্যা করবে অন্তত কয়েকবার
দখিনা বাতাস বয়ে যাবে মৃদুমন্দে
চারদিক মাতানো হাস্নু-হেনার ঘ্রাণ
সুড়সুড়ি দেবে দেবে আমার এ নাকের গভীরে
আর তুমি আড়মোড়া ভেঙে
বিছানায় এলানো তোমার শরীর তুলে দাঁড়াবে দরজার পাশে
হা-করা চৌকাঠে তোমার মুখ রেখে বলবে-
এতোদিন পরে এলে?
তোমার চালধোয়া হাত আমার হাতে রেখে
শীতলতা স্পর্শ করে চমকে উঠবে
আপাদমস্তক চেয়ে দেখবে কয়েকবার
তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলবে-
অনেক শুকিয়ে গ্যাছো তুমি
না জানি কতোদিন ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া করোনি।
আজ ঠিক সেই তোমাকে এভাবে পাবো ভাবিনি কখনো!
হাস্নু-হেনার ঘ্রাণ নেই
নেড়ী কুত্তাটা ঘুমিয়ে আছে বেঘোর ঘুমে
ঝিঁঝিঁ ডাকলো না, রাতজাগা পাখি শিস দিলো না
কিংবা ছাগলছানাটাও একবারও ম্যা ম্যা করলো না
আড়মোড়া ভেঙে তুমি আর উঠলে না
গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে রইলে অন্যের গলা ধরে।
যে নারী রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে গাইতে
হাত ধরে হেঁটে যায় অন্য প্রেমিকের সাথে
মিহি কণ্ঠে বেজে ওঠে তার ধ্রুপদী- বেহাগ
নিতম্বে ঢেউ তুলে ঠিকঠাক করে নেয় তাল-লয়-ঘাট
সেই নারীর তুল্য হলে কিনা তুমি!
কী বশই না মেনে নিয়েছো আজকাল-
সাথে সাথে পোষা প্রতিটি প্রাণীও যেন হয়ে গেছে তার
অনেকদিন পর ঠিক এভাবে তোমাকে পাবো ভাবিনি আমি!
আমার প্রিয় রং ফিরোজা রঙেই তুমি আজ অন্যের হাতে সমর্পিতা
এলোমেলো হয়ে গেছে তোমার প্রতিটি নিভাঁজ
এলানো চুল আঁধার রাতকেও হার মানিয়েছে।
বাইরে দাঁড়িয়ে অমাবস্যার সুমহান আঁধারে
কেবলি হারিয়ে যাচ্ছি আমি
ব্যথার চৌকাঠে ঠকঠক করে কাঁপছে দু্থটি পা
আর বুকের অরণ্যে হুইসেল বাজিয়ে কেবলি বলে যাচ্ছো তুিম-
জীবনানন্দের বনলতা নয়, নজরুলের নার্গিস নয়
ঘর ছেড়ে লালনের একতারাকেই নিও জীবনসঙ্গী করে!
৩০.০৩.৯০
Sheikh Jalil
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


