ঘুরে এলাম বইমেলা।এবারকার বইমেলায় এটাই আমার প্রথম যাওয়া। গত 17 তারিখ শিরীন পাবলিকেশনস-এর ব্যানারে দুটো বই- অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা এবং নিশীথে তোমার কুহক বের হবার পর তাগাদা ছিলো বইমেলায় যাবার। আজ সে ইচ্ছাটা পূরণ হলো। সাথে ছিলো আমার নিজের পুরো পরিবার। কোলে এক বছর এক মাস বয়সের মেয়ে, আরেক হাতে ধরে রেখেছি ছেলেকে, পাশে বউ। রাীতিমত যুদ্ধ যেন। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় ঢুকলাম বইমেলায়। প্রচন্ড ভিড় মেলায়।
মেলায় যাবার আগে মনে মনে ভেবেছিলাম- অন্তত ব্ল্লগারদের বইগুলো কিনবো। ঢোকার সময় খেয়াল করলাম আজকাল প্রকাশনীর স্টল। ইচ্ছে জাগলো পথিকের বই কিনবো। ছেলে আমার একটু এগিয়ে প্রাণ ভরে দেখলো ভাষা শহীদ ভাস্কর্য-মোদের গরব। উত্তর দিলাম ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে তার বিভিন্ন প্রশ্নের। পাশ কাটিয়ে গেলাম জাগৃতি প্রকাশনী। শুভ-র ব্ল্লগিং কেনার ইচ্ছেটাও প্রবল হয়ে উঠলো। আর একটি ইচ্ছে ছিলো মনে- সে হলো মেঘ(আফসানা কিশোয়ার)-এর বই কেনা। খুঁজতে হবে অন্যপ্রকাশ বা ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।
অনেক খুঁজে বের করলাম শিরীন পাবলিকেশনস। প্রকাশক মামুন ভাই-কে না পেয়ে সামনের সাহিত্য প্রকাশ থেকে ছেলের বায়নার ডিজনীর বই নিতে হলো। সাথে মেয়ের জন্য ছবি সম্বলিত- মাই এনিমেল এবিসি। তবে আমার মনের কথা জানালাম গিন্নীকে। গিন্নীও উৎসাহ দিলো ব্লগারদের বই কেনার ব্যাপারে। অন্য প্রকাশে আজ হিমুর বিয়ে-র হিরিক পড়ে গেছে। গেলাম ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশে। দিলো আফসানা কিশোয়ার-এর পাখি ও সাম্রাজ্ঞী। আমার বউ কবিতার বই-এ কথা বলার পর অন্যপ্রকাশ-এর পালটায় নারী, বাহারি বইটিও পেলাম। কিনলাম দ্্বিতীয়টি। সেখান থেকে জাগৃতি প্রকাশনী এসে আলী মাহমেদ রচিত শুভ-র ব্ল্লগিং বইটি নিলাম।
আবার ফিরে গেলাম শিরীন পাবলিকেশনস। দেখা করলাম প্রকাশকের সাথে। এটাই আমার প্রথম পরিচয় তাঁর সাথে। আমার বই দুটোর অবস্থা জিজ্ঞেস করলাম। খুব আশা ব্যাঞ্জক কিছু পেলাম না বিক্রির ব্যাপারে। আমার অগ্রজ ছাপানোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। প্রচ্ছদ খুব ভালো হয়েছে তবে দুর্মূল্যের বাজারে আশানুরূপ কাগজ দিতে পারেননি বই দুটোতে। তবে কষ্টের ফসল ওটাতেই আমার তৃপ্তি মিশে গেলো চোখে।
মেয়েটা অস্থির হয়ে উঠছে। বেরুতে হবে। মামুন ম. আজিজ(পথিক!!!!!!!)-এর আজকাল প্রকাশনী অনেক দূরে। গেলাম সেখানে। অনেক ঘাঁটার পর খুঁজে পেলাম তার বই। কিনলাম সেটাও। পাশেই আমার প্রথম বই- দুঃখ, তোমার অভিসারে যাবো-এর প্রকাশনী- ন্যাশনাল পাবলিকেশন- দেখলাম। প্রকাশকের সাথে দেখা করে নিলাম তিনটে সৌজন্য বই। বেশ খুশিই লাগলো। তিন বছর পর এখনও আমার প্রথম বইটি পাওয়া যাচ্ছে দেখে।
আর দেরি নয়। আবার যুদ্ধ করে বের হয়ে এলাম। তখনও ভেতরে ঢোকা নিয়ে বেশ হৈ-হুল্লোড় চলছে। টিএসসি-র সামনে এসে ছেলের আবদারে সবাই আইসক্রীম খেলাম। তারপর অনেক কষ্টে দ্্বিগুণ ভাড়ায় একটা রিক্সায় সোজা বাসায়। শেষ আমার বিকেল 4টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত শেষ হলো এ জার্নি টু বইমেলা। তবে আফসোস থেকে গেলো মনে- জিজ্ঞেস করেছি সব জায়গাতে, কোনো স্টলেই ব্ল্লগার লেখকদের কাউকে খুঁজে পাইনি। আর কৌশিক-এর সংকলনটি কোথায় পাওয়া যায় ভুলে গিয়েছিলাম। তবে একটা কথা জানিয়ে রাখি- আমারএক বছর এক মাস বয়সের মেয়ে এখন নতুন বই উলটাপালটা করে বইয়ের মলাটের ভেতর ব্ল্লগারদের ছবি দেখাচ্ছে আমাকে...আর কী যেন বলতে চাইছে।
21.02.2007
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



