somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ (ছাত্র/ ছাত্রি) বিবেচনা করে সে শিক্ষক হবার অযোগ্য

১৫ ই জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত এপ্রিল মাসে হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউ সি বার্কলে এর যৌথ উদ্যোগে একটি কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলাম। যেখানে মুলত শিক্ষকতা এবং একাডেমীকে লেখার উপর জোড় দেয়া হয়েছিল। শিক্ষকতা এর ব্যাপারে অনেক কিছুর পাশাপাশি একটি সেশন শুধু Ethics of Teaching বা শিক্ষকতা পেশার নৈতিকতা এর উপরে রেখেছিলেন আমাদের ইন্সট্রাকটর ডঃ লিন্ডা। এখানে বলে রাখা ভালো ডঃ লিন্ডা ইউ সি বার্কলে এর গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট ইন্সট্রাকটর টিচিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার এর পরিচালক। এথিক্স এর মধ্যে অনেক গুলো ব্যাপারে আলোক পাত করার পরে তিনি একটি উদাহরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কিংবা দুজনের সম্মতিতে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে একটি উদাহরণ দিলেন।

অংশগ্রহণকারীগণের বেশীরভাগই যেহেতু শিক্ষক ছিলেন তাই তিনি এই ব্যাপারে আমাদের মতামত জানতে চাইলেন। সকলেই তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরলেন। আমি আমার বক্তব্যে বলেছিলাম “একজন শিক্ষকের নিকট শিক্ষার্থীর কোন জেন্ডার বা লিঙ্গ বৈষম্য থাকা উচিৎ না। সকল ছাত্র-ছাত্রীর একটাই লিঙ্গ আর তা হল সে শিক্ষার্থী। এই ধরণের মনোভাব একজন শিক্ষকের শিক্ষক হবার জন্য পূর্ব শর্ত হিসেবে থাকা উচিৎ”। ডঃ লিন্ডা এ মন্তব্যটি তাঁদের এথিক্স অফ টিচিং এর অন্য পয়েন্ট এর সাথে যুক্ত করে নিবেন বলে বলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে কিছু কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্কুল কলেজ হতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এদের সংখ্যা সামান্য হলেও আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দেখতাম এক শ্রেণীর শিক্ষকগণ ছাত্রীদের ভাইভা নাম্বার বেশি দিতে খুব আগ্রহী আবার কেউ কেউ একই সাথে একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে শিক্ষার্থীর একই প্রশ্নের জবাব দুই ধরণের মেজাজে দিচ্ছেন। বেশীরভাগ সময় ছাত্রীর প্রশ্নের জবাব টুকুন খুব দরদ দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেন এই শ্রেণীভুক্ত শিক্ষকগণ।

গত ২ জুন ২০১৫ তারিখে একটি সংবাদ এই সকল কুলাঙ্গার শিক্ষকদের কারনে মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা ক্ষতটিকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। ফসিয়ার রহমান নামক এক নরপশু তার প্রেমের আবেদনে সারা না দেয়াতে এক ছাত্রীর এস এস সি পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের খাতাতে সেট নাম্বার কেটে, খাতা কাটা কাটি ইত্যাদি বহু কিছু করে তাকে পদার্থ বিজ্ঞানে ফেল করিয়েছেন। যদিও পুনঃনিরীক্ষণের পরে সেই একই পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে ঐ শিক্ষার্থী ‘এ+’ পেয়েছেন। এই সকল নর পশুরা কখনো পরিমল, কখনো সোহেল পারভেজ, কখনো বা সাইফুল ইসলাম নামে সমাজের বিভিন্ন স্তরে শিক্ষকতা পেশাকে কলঙ্কিত করছে।

এই সকল ঘৃণিত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পূর্বে তাঁদের এমন সব এথিক্স অফ টিচিং টাইপের কিছু ক্লাস করালে কি এরা এই পথ হতে ফিরে আসত? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া কষ্টকর। তবে শিক্ষক হবার পূর্বে আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করে নিন একজন শিক্ষার্থীকে শুধু এই শিক্ষার্থী হিসেবেই আপনি মেনে নিতে পারেন কিনা। নাকি তাঁদের শরীরের প্রতি আপনার তেমনি আগ্রহ যেমন আগ্রহ বোধ কেবল একজন দুশ্চরিত্র লম্পটের মনে যে কোন মেয়ে দেখলেই জেগে উঠে। আপনি হয়ত বলবেন আমি তো কোন ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কিছু করি না আমি শুধু তাদের সাথে বসে “রসালো” গল্প করি এবং তাদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে নাম্বার বেশী দেই কিংবা তাদের সাথে অমায়িক আচরণ করি। আপনার এই আচরণের পিছনেও এক ধরণের যৌন হয়রানী মূলক উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। আর এই কাজ করে আপনি আপনার ছাত্রটিকে বঞ্চিত করছেন যা হয়ত আপনার এই ছাত্রীও পছন্দ করছে না।

তাই ছাত্র-ছাত্রী দের শুধু শিক্ষার্থী হিসেবে দেখতে পারলেই কেবল শিক্ষক হন তা না হলে আজই পদত্যাগ করে অন্য কোন চাকুরীতে যোগদান করুন। আপনাদের জন্য শি ক্ষকতার মত এই মহান পেশাকে কেউ কটাক্ষ করে কথা বলবে তা শিক্ষক সমাজ মেনে নিবে না। মনে রাখবেন দুর্জন যতই বিদ্বান হোক না কেন সে কিন্তু অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:৪৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×