somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

কুরবানি, ঈদুল আযহা এবং কাউফি, ছাগলফি, বরকিফি, ভেরাফি ইত্যাদি সমাচার

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদি পিতা আদম (আঃ)-এর দুই পুত্র কাবীল ও হাবীলের দেওয়া কুরবানী থেকেই কুরবানীর ইতিহাসের গোড়াপত্তন হয়েছে। তারপর থেকে বিগত সকল উম্মতের উপর এটা জারী ছিল। আমাদের উপর যে কুরবানীর নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে, তা মূলতঃ ইবরাহীম (আঃ) কর্তৃক শিশু পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে আল্লাহর রাহে কুরবানী দেওয়ার অনুসরণে ‘সুন্নাতে ইবরাহীমী’ হিসাবে চালু হয়েছে।

ঈদুল আযহার মূল আহবান হ’ল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রকাশ করা। সকল দিক হ’তে মুখ ফিরিয়ে এক আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। সম্পদের মোহ, ভোগ-বিলাসের আকর্ষণ, সন্তানের স্নেহ, স্ত্রীর মুহাববত সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রতি আত্মসমর্পণ করে দেওয়াই হ’ল ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা। স্বামী, স্ত্রী ও শিশুপুত্রের গভীর আত্মবিশ্বাস, অতলান্তিক ঈমানী প্রেরণা, আল্লাহর প্রতি নিশ্চিন্ত নির্ভরতা ও অবশেষে আল্লাহকে খুশী করার জন্য তাঁর হুকুম মোতাবেক জীবনের সর্বাধিক প্রিয় একমাত্র সন্তানকে নিজ হাতে যবহ করার কঠিনতম পরীক্ষায় উত্তরণ-এসবই ছিল আল্লাহর প্রতি অটুট আনুগত্য, গভীর আল্লাহভীতি এবং নিজের তাওহীদ ও তাকওয়ার সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা। ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর হুকুমে পুত্র কুরবানী করেছিলেন। মূলতঃ তিনি এর দ্বারা পুত্রের মুহাববতকে কুরবানী করেছিলেন। আল্লাহর ভালোবাসার চাইতে যে পুত্রের ভালোবাসা বড় নয়, এটিই প্রমাণিত হয়েছে তাঁর আচরণে। আল্লাহ এটাই চেয়েছিলেন। আর এটাই হ’ল প্রকৃত তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি।

কিন্তু পরিতপের বিষয় আমরা মুসলমানগণ এই আল্লাহ ভীতি মূলক কাজটিকেও আমাদের লোকদেখানো ঐতিহ্যের মধ্যে সামিল করিয়ে নিয়েছি। গরুকে সাজিয়ে কিংবা কোরবানির পশুর গলাতে দাম লিখে ঝুলিয়ে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসা শহরের মানুষদের জন্য এক নিরব অহঙ্কারের ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। অথচ আল্লাহ্‌ বলেছেন অহংকার করার একমাত্র হক রয়েছে মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের। সুরা আন- নিসার ১৭৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন-

فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُم مِّن فَضْلِهِ وَأَمَّا الَّذِينَ اسْتَنكَفُوا وَاسْتَكْبَرُوا فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَلَا يَجِدُونَ لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
But to those who believe and do deeds of righteousness, He will give their (due) rewards,- and more, out of His bounty: But those who are disdainful and arrogant, He will punish with a grievous penalty; Nor will they find, besides Allah, any to protect or help them.
“অতঃপর যেসব মানুষ ইমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের প্রতিদান আল্লাহতায়ালা পুরোপুরি দেবেন। তিনি তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে তা আরো বাড়িয়ে দেবেন। অন্যদিকে, যারা আল্লাহর বিধান মেনে নিতে কুণ্ঠাবোধ করল এবং অহংকার করল, তাদের তিনি কঠোর শাস্তি দেবেন।তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবক পাবে না, সাহায্যকারীও পাবে না”।


বর্তমানে এর সাথে নতুন বেদাত যুক্ত হয়েছে আর তা হল কোরবানির পশুর সাথে ছবি তুলে সেই ছবি সহজ ফেতনার মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া। এই ছবি দিয়ে আসলে একজন মানুষ কি প্রমাণ করতে চায়? নিজের বড়ত্ব, নিজের ক্ষমতা কিংবা নিজের অহংকার। লোক দেখানো এই সকল ইবাদত আল্লাহ্র কাছে কত টুকুন গ্রহণীয় তা তিনিই ভালো জানেন। যারা লোক দেখানো ইবাদত (বা রিয়া) করে তাঁদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ

“আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরক থেকে খুব ভয় করছি। সাহাবীরা বললেন – ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম! ছোট শিরক কি? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা হলো “রিয়া” বা লোক দেখানো ইবাদত। যেদিন আল্লাহ তাআ’লা বান্দাদের আমলের পুরস্কার প্রদান করবেন, সেদিন রিয়াকারীদেরকে বলবেনঃ যাও, দুনিয়াতে যাদেরকে দেখানোর জন্য আমল করতে, তাদের কাছে যাও। দেখো তাদের কাছ থেকে কোনো পুরস্কার পাও কিনা?” মুসনাদে আহমাদ, সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীসটি সহীহ – শায়খ আলবানী।

বাদ দিলাম ধর্মীয় বিধি নিষেধ সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি তাহলে দেখব সেলফি তোলাকে মনোবিজ্ঞানী গণ এক ধরণের স্বার্থপরতার সাথে তুলনা করেছেন যার উৎপত্তি হল নিজেকে সকল কিছুর মধ্যে যুক্ত রাখা হতে। এমনকি অতিরিক্ত সেলফি তোলাকে মানসিক রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেখানে কোরবানির পশুর সাথে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া কোন পর্যায়ের মানসিক বৈকল্যের উদাহরণ তা নিজের মনে চিন্তা করে দেখুন।

আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে এমন রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত এবং অহংকার থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:২৪
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×