২০০৫/০৬ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যনারে আমরা কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করি। আমাদের আন্দোলন মোটামুটি সফলতার দ্বার প্রান্তে চলে আসে। এই প্রান্তে আনতে আমাদের কি করতে হয়েছে তা তখন যে সকল বড় ভাইয়েরা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন উনারাই ভালো জানেন।
এমতাবস্থায় প্রথম আলো একখানা রিপোর্ট করল আমাদের আন্দোলন জামাত শিবিরের আন্দোলন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার জন্য আমরা এই আন্দোলন করছি। পরদিন এই সকল হলুদ সাংবাদিকগণ মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক লোক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্ম নামের এক সংগঠন থেকে মানব বন্ধন করিয়ে আমাদের আন্দোলন সম্পর্কে বাজে সব রিপোর্ট ছাপানো শুরু করল।
ফলাফল আমাদের প্রায় এক মাসের আন্দোলন এর মৃত্যু। যেসকল বড় ভাইয়েরা এর নেতৃত্বে ছিলেন তাঁরা বেশিভাগই এখন দেশের বাইরে। তাঁরা নিজেদের জন্য এই আন্দোলন করেন নাই বুঝাই যায়। উপরন্তু আমাদের মত অনেকেই ঐ আন্দলনে ছিলাম যাঁদের বাবা সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ কারী ছিলেন।
বর্তমানে আবার এই কোটার পুনর্বিন্যাস নিয়ে কথা হচ্ছে এবং চতুর প্রথম আলো বুঝতে পেরেছে এখন বেশীরভাগ (এমন কি মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও) এই কোটার ভয়াবহ বিপর্যয় টের পেয়েছে। দেশে এখন সরকারী কর্মকর্তাদের গড়ে মাণ কত নিম্নে পৌঁছে গেছে তা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভাষাতেই বলি "আমলাতন্ত্রের কাজের দক্ষতা ও মান কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাঁর অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের মান এতটাই নিচুতে নেমেছে যে, নথি দেখতে গেলে কষ্ট লাগে। বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের কাজের মান এতটা নিচুমানের কীভাবে হয়।.............জ্যেষ্ঠ সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী কাজের মান কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সবক্ষেত্রে হয়তো ভাল কর্মকর্তা পাওয়া যায় না। কোথাও কোথাও কিছু কম উন্নত মানের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে হয়। তবে যথেষ্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাজের মান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, কাজের মান ১৯৯৬ সালে যা ছিল তার চেয়ে অনেক নিচুতে নেমে গেছে।................" দৈনিক ইত্তেফাক...১৭/০৯/১৫"
এখন সেই প্রথম আলোই আবার এই কোটা নিয়ে সংবাদ করে!! বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম কে হলুদ সাংবাদিকতা কত ভাবে জেকে বসে আছে এদের এই কার্যক্রম না দেখলে বুঝা যায় না। আর এদের এই হলুদ সাংবাদিকতা দেশকে কত বছরের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে তা মন্ত্রী মহোদয়ের কথাতেই স্পষ্ট।
মনে রাখবেন আজ আপনি নিজের স্বার্থের জন্য বাধে যে ছোট্ট ফুটো রাখছেন তা দিয়ে একদিন বন্যার পানি এসে বাধ তো ভাঙবেই একই সাথে আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূরে। যেখান হতে চাইলেই আর ফেরত আসা যাবে না।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



