রাজশাহীতে 17 আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার পর ইসলামী ব্যাংকে জঙ্গিদের একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছিলো পুলিশ। পুলিশী তদন্তে ওই অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিললেও এসব তথ্য এখানকার তদন্তকারীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠাননি। সমপ্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক জঙ্গি অ্যাকাউন্টে বিষয়ে ইসলামী ব্যাংককে শোকজ করায় বিষয়টি আবারো নতুন করে সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, 2005 সালের অক্টোবর মাসে পুলিশ অ্যাআউন্টটির সন্ধান পায়। বিভিন্ন সময় গ্রেফতারকৃত জঙ্গি ক্যাডাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য থেকে এই অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব মেলে। 2004 সাল পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টটিতে কয়েক লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। 2005 সালে লেনদেন হয়েছে আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি টাকা। গোলামুর নামের এক গ্রেফতারকৃত জঙ্গি নেতার নামে ছিলো ওই অ্যাকাউন্টটি। তাকে গ্রেফতারের পর অ্যাকাউন্টটির সন্ধান মিললেও সে জেলে থাকা অবস্থাতেই সেখান থেকে টাকা তোলার ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী পুলিশ এই বিষয়টিরও তদন্ত করেনি।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় জঙ্গিদের যে অ্যাকাউন্টটির হদিস মিলেছে তাতে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম রয়েছে গোলামুর রহমান। ব্যাংকের নথিতে তার পিতার নাম রয়েছে শফির উদ্দিন। পেশা দেয়া হয়েছে ছাত্র। ঠিকানা দেয়া হয়েছে 1004, লোডস্টোন, বিনোদপুর, রাজশাহী। অ্যাকাউন্টটির কাস্টমার আইডি 11973। অ্যকাউন্ট নম্বর 02114757। মুদাররাবা সঞ্চয় প্রকল্পের আওতায় ওই অ্যকাউন্টটিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে টিটি জমা হয়েছে। চেকের মাধ্যমেও জমা হয়েছে টাকা। বিভিন্ন সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পেয়েছে, তাতে জানা গেছে, গোলামুর রহমানের নামে খোলা ওই অ্যাকাউন্টটি জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের প্রস্তুতির খরচ যোগাতে ব্যবহৃত হতো। এই গোলামুর রহমানের আরেক নাম গোলাম মোস্তফা। তার বাড়ি জামালপুর জেলার শেখেরভিটা এলাকায়। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে পড়তো। গত বছরের 18 জুলাই রাজশাহীর পবার পুঠিয়াপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতার পরিকল্পনাকালে যে 11 জেএমবি ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয় তাদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা ছিলো একজন। 11 সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। গোলাম মোস্তফা এখনও জেলহাজতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, 2001 সালের 17 জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী শাখায় গোলামুর রহমান ওরফে গোলাম মোস্তফা ওই অ্যাকাউন্টটি খোলে। 2004 সালের পহেলা জুলাই পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটিতে 37 হাজার টাকা জমা ছিলো। একই বছরের 4 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র দু'মাসের ব্যবধানে অ্যাকাউন্টটিতে এক লাখ 5 হাজার 31 টাকা লেনদেন হয়। গত বছরের শুরুর দিকে ওই অ্যাকাউন্টে 5 লাখেরও বেশি টাকা লেনদেন হয়। এই অ্যাকাউন্টে সবচেয়ে বেশি টিটি এসেছে ঢাকা ও জামালপুর থেকে।
রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংকে জঙ্গিদের অ্যাকাউন্টটি পুলিশ খুঁজে পেলেও তাদের তৎপরতার অভাবে কারাগারে বন্দী থেকেই অ্যাকাউন্ট হোল্ডার জেএমবি ক্যাডার গোলামুর রহমান ওরফে গোলাম মোস্তফার স্বারে গত বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক হাজার টাকা তোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের 24 নভেম্বর গোলামুরের স্বারে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে 7 হাজার টাকা তোলার পর অ্যাকাউন্টটিতে কেবলমাত্র নূ্যনতম ব্যালান্স রয়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের ধারণা জঙ্গিদের অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকাগুলো অন্য কাউকে দিয়ে উঠিয়ে সংগঠনের কাজে লাগানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটি 16 মার্চ সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশিত হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



