উজ্জলের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়ের দিনটা আমার স্মৃতি থেকে কী করে জানি একেবারে মুছে গেছে। অনেক কসরত করেও ব্যাপারটা সামনে আনতে পারছি না! মামুন হুসাইন শুধু মনোরোগ বিশেষজ্ঞই নন, একজন গল্পকারও বটে। একবার তার সাক্ষাৎকার নেয়ার পর (কাগজ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যেবার) হালকা আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, খুব কাছাকাছি দীর্ঘদিন থাকা কোনো মানুষের পদচারণা নিজের জীবনে এতোটাই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে যে, সেই মানুষটির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের অনেক খুচরো কথাও মনে নাও থাকতে পারে। হতে পারে, আমার ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা শুরুর পর থেকে দেখছি, এখানকার গণযোগাযোগ বিভাগের খুব কম শিক্ষার্থীই সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়। ফারুক হোসেন চৌধুরী, রোকনুজ্জামান মুক্তি, মাহবুব আলম লাবলুর পর আর কেউ দীর্ঘদিন এ পেশা মাড়ায়নি ওই বিভাগ থেকে। আবু নোমান সজীবের সঙ্গে কথা বলে ওই বিভাগ থেকে কীভাবে সাংবাদিকতায় শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা যায়- এ ব্যাপারে কৌশল ঠিক করলাম। সজীব অভিযানে নামলো। এর কিছুদিন পর থেকেই দেখি সজীবের সঙ্গে কালো মোটামতন এক ছেলেকে। মুশকো চেহারার এমন সাইজ আমাদের সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ নেই। শুনলাম সেই ছেলেটির নাম আনিসুজ্জামান উজ্জল। নামের বানানে 'ব' নেই। আমি একটু অবাক হলাম। এ কোন ধরণের উজ্জ্বলতা! ধীরে ধীরে সেই ছেলেটি সাংবাদিকতায় নামলো। বার্তা সংস্থা এনএনবি, আজকের কাগজ ঘুরে এখন আমার দেশে। এই ব্লগেরও মেম্বার সে। নামের বানানে 'ব' না থাকলেও যে উজ্জ্বলতা ছড়ানো যায়- তা আমাদের উজ্জল দেখিয়ে দিয়েছে। কিঞ্চিৎ অলস, তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই ছেলেটির একক অবদান। আমার যখন মন খারাপ হয়, তখন আমি উজ্জলের সঙ্গে কথা বলি- অযথাই। উজ্জল জানে না, কেনো বলি। ওর সঙ্গে কথা বলে ভরসা পাওয়া যায়, কাজের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে আশ্বাস পাওয়া যায়। না, নামে 'ব' থাক আর না থাক, আমাদের উজ্জল সত্যিই উজ্জ্বল!
ছবি : উজ্জলের সঙ্গে আমি। ক্লিক করেছেন আমার দেশের ফটোসাংবাদিক আসাদুজ্জামান।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০০৬ ভোর ৪:২৩