অনেক দিন পর ব্লগে ঢুকেই দেখলাম পরিবর্তন। আরে! এ কোন সাইটে ঢুকলাম? পরে ওপর নিচে তাকিয়ে বুঝলাম, না, ঠিক আছে, অন্য কোনো সাইটে নয়, সামহয়ারেই ঢুকেছি।
নিজের ব্লগে ঢুকে দেখলাম, নতুন চেহারায় লাগছে কেমন। খুব একটা হতাশ নই। তবে পুরনো চেহারাটার জন্য কেমন একটা মায়া লাগছিলো। হঠাৎ করে এভাবে তাকে হারিয়ে ফেলতে হবে, কে ভেবেছিলো। এসব আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে আর্কাইভে ঢুঁ দিলাম। আর কী আশ্চর্য, দেখলাম, আমার আর্কাইভের সবচে পুরনো মাসের নাম মার্চ, 2006। মানে এই মার্চে আমার এক বছর হয়েছে। ঠিক সময়ে টের পাইনি। তাহলে না হয় বর্ষপূর্তি উৎসব টুৎসব কিছু করা যেতো। যাকগে তখন টের না পেলেও এক মাস পর তো টের পেয়েছি। এই বা কম কীসে? আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রখানার বাসিন্দারা তো 5-7 বছর না যাওয়াতক কোনোকিছুর ঝাল টের পান না! কাজেই সেই দৃষ্টিতে আমার টের না পাওয়ার ব্যাপারটি মনে হয় জাতিগত বৈশিষ্টই!
এক বছরে আমার প্রিয় এই ব্লগটাতে কতোকিছুই না হয়েছে। সেসব ঘটনা তুলতে গেলে, ইউনিকোড নামক মালখানার কম্পোজগত অসুবিধা ব্যাপক ভোগাতে ভুলবে না। কিন্তু এতোসব ঘটনার জন্মভূমি এই ব্লগটিও বদলে গেছে শেষমেশ। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে আধুনিক হয়েছে, কবে যেনো উত্তরাধুনিক হয়ে বসবে। গতকাল আমাদের রাজশাহীতে বর্ষবরণ উৎসবকে যেভাবে পয়সা দিয়ে নিজেদের রঙ চড়িয়ে আধুনিক বানালো বাংলালিঙ্ক। আমরা আধুনিক হচ্ছি, ব্র্যাভো। এতো খুশির খবর। কিন্তু তার সঙ্গে এই আধুনিকতা আমাদের কতোভাবেই না বাধ্য করছে। এই যেমন কার দিতে এখানকার সমস্যা।
সে যাকগে, এই ব্লগে না আসলে এই এক বছরে হয়তো অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত থাকতাম। মিথিলা নাটক, ড. ইউনূস প্রসঙ্গ- সব কিছুই উপভোগ করেছি। এক বছরে আমার এই ব্লগ জীবন কতোকিছুই না দিয়েছে। এতোকিছু দিয়ে ব্লগটা আধুনিক হয়েছে। আর কিছু থাক না থাক, একটু কষ্ট হোক না, ব্লগটা তো আধুনিক হয়েছে! স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট হচ্ছে অনেকের, তাতে কী? ব্লগটা তো আধুনিক হয়েছে! জয় তু আধুনিকতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


