somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শিবলী নোমান
আমি অপেক্ষা করি ...

আরো একবার ইউনূসকে নিয়ে

০৫ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ড. ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে সেই যে মহান চিঠিখানা লিখেছিলেন, তার একখানা জবাব আমি পাঠিয়েছিলাম এবং এই ব্লগের সদস্যদের পাঠের জন্য এখানেও পোস্ট করেছিলাম। তার সেই চিঠিতে তিনি যে লিখেছিলেন প্রচুর মানুষের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে আসতে চান- আমি সে প্রসঙ্গে সবিনয় জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আসলে কতোজন মানুষের অনুরোধ পেয়েছেন এবং কীভাবে? তখন সেই জবাব আমি পাইনি। আজ যখন আবার দ্বিতীয় একখানা চিঠি দিয়ে তিনি রাজনীতিতে তার পাশে যথেষ্ট যোগ্য লোকের অভাবে সরে যাবার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন কায়দায় দুঃখ প্রকাশ করলেন, তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না, প্রথম চিঠিতে উদ্ধৃত তার সেই অনুরোধ করনেওয়ালা আসলে কারা ছিলেন।
ইউনূসের প্রথম ও দ্বিতীয় চিঠির বক্তব্যগুলো যদি সত্য ধরে নিই, তাহলে, আরো একটি বিষয় সামনে আনা জরুরি, তা হলো, প্রথম চিঠিতে তিনি যে মানুষের অসম্ভব সাড়া পাচ্ছেন বলে চিঠি-পরবর্তী সময়ে বোলচাল আওড়ানো হচ্ছিলো, সেগুলো তবে কি ছিলো? মানুষ যদি তাকে অনুরোধ করেন, তাহলে তো তার যোদ্ধার অভাব হবার কথা ছিলো না। নাকি নাঈমুল ইসলাম খান যা বলছেন তাই ঠিক, আসলে তিনি চেয়েছিলেন পুরনো মালগুলোকে নিয়ে, রেডিমেe লোকজনকে নিয়ে একটি রেডিমেe দল গঠন করতে, যাদের লক্ষ্য থাকতো কেবল পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার মসনদে বসা।
একটু পেছনে ফিরে যাই। আশির দশকে (যখন বিশ্বব্যাংক আইএমএফ চকচকে অর্থ সরবরাহের কারবারী) নরওয়েজিয়ান সরকার আমাদের দেশে রেলওয়ের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য মেঘ না চাইতে জলের মতো ফাইবার অপটিক্যাল কেবল সংযোগের কাজ করে দিলো। আমরা, দেশের তাবত মানুষ আহ্লাদিত হলাম। নব্বইয়ের শুরুতে টুকটাক কথাবার্তা হলো। বছর তিনেকের মধ্যে আমাদের শ্রদ্ধেয় ইউনূস সাহেব বিটিটিবিকে চ্যালেঞ্জ করলেন, খুব শিগগির সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির টেলিযোগাযোগ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন। তার ফসল আমার পকেটের গ্রামীণ ফোন। তারা নরওয়েজিয়ান সরকারের দেয়া সেই ফাইবার অপটিক সুবিধা পুরদস্তুর ব্যবহার করলেন। ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেলো। দীর্ঘদিন পরে আবিস্কার করলাম, গ্রামীণ ফোন আসলে গ্রামীণ নয়, নরওয়েজিয়ান। টেলিনরের লুকানো বাচ্চা। এখন তা প্রকাশ্যে। অথচ এই গ্রামীণকে নিয়ে আমরা কতো না গপ্পো শুনেছি। দেশের পুঁজি, দেশের সম্পদ- এসব। আমি বিশ্বাস করি না, গ্রামীণ ফোনের শীর্ষ ব্যক্তিরা জানতেন না যে, এ পুঁজির সিংহভাগ বাইরের এবং শেষমেশ মুনাফার গন্তব্যটিও বাইরে। তাই যদি হয়, তাহলে আমাদের সঙ্গে এতো চমৎকার লুকোচুরি করার যোগ্যতা যার বা যাদের আছে তাদের কাছে চোর-বাটপার রাজনীতিবীদরা তো নস্যি। আর আমরা জনগণ? আমরা উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই `পিওর তিন নম্বর বাচ্চা'।
সেদিন হাসান স্যার (হাসান আজিজুল হক) বলছিলেন, সবচেয়ে সর্বংসহা সম্প্রদায় হতে হয় ব্যবসায়ীদের। ড. ইউনূস যা কিছুই হোন না কেনো, পুরদস্তুর ব্যবসায়ীর সব বৈশিষ্টই তার মধ্যে উপস্থিত। তিনি অবশ্যই সর্বংসহা। রাজনীতিবীদদের লুটপাট তিনি সবে মাত্র চোখ খুলে দেখলেন, এমটা আমি ভাবতে রাজী নই। চোখ তার খোলা ছিলো আগে থেকেই। মুখ তার বন্ধ ছিলো। কারণ ব্যবসার সুযোগ সুবিধা ফস্কে গেলে তখন কী হতো? কাজেই ওইটি আমরা তার কাছ থেকে অতি উন্নতমানের যোগ্যতার সঙ্গে পেয়েছি। তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময় তো বটেই। সামরিকজান্তাদের সময়ও তিনি ছিলেন একই রকম। এখন দেখার বিষয়, চুক্তি করেও যিনি ব্যবসা শুরুর সময় তার অংশীদারকে `রক্তচোষা' বলে ধরতে পারেননি, সেই ড. ইউনূস আবার নতুন কী রূপ পরিগ্রহ করে আমাদের সামনে হাজির হন।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×