বিষয়টি এর আগে কখনো এভাবে ভেবে দেখিনি ......
গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director post এর লিখিত পরীক্ষা ছিল।
লাইফে একবারই আমি আর আমার বউ বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director post এ apply করেছিলাম। Written Test এর দশবারো দিন আগে এডমিট কার্ড হাতে পেয়ে দুজনেই মুচকি হেসে চুপ মেরে ছিলাম, কেননা পরীক্ষার দিন চিটাগাংয়ে আমাদের বউভাত ছিল!!! বিয়ের পর কথা প্রসঙ্গে আব্বুকে বলবার পর বলে, আগে বল নাই কেন, তাহলে বউভাত পিছিয়ে দিতাম!!!!
এবার মূল প্রসঙ্গে আসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরীক্ষা দিতে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী (যাদের বেশীরভাগই বর্তমানে বেকার) ঢাকায় এসেছে! একটি হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলের যার ঢাকায় কেউ নেই, অজপারাগা থেকে ঢাকায় এক রাত থেকে পরীক্ষা দিতে কম করে হলেও দেড় থেকে দুহাজার টাকা লাগে। আমাদের অনেকের জন্য হয়তো ব্যাপারনা কিন্তু কারো কারো জন্য আসলেই ম্যাটারস ...... আর মেয়েদের আরও বেশী দুরবস্থা...... কারণ তাদের সঙ্গে করে একজন অভিভাবক নিয়ে আসতে হয় এবং তারা ছেলেদের মত যেকোন হোটেলে রাতে থাকতে পারে না। এবং অনেক মেধাবীদেরও দশবারো বার পরীক্ষা দিয়ে তারপর
একটি জব হয়! আমি নিজেকেই এই অবস্থায় কখনও কল্পনা করতে পারিনা, জাবি থেকে পাশ করে এক বছর বেকার বসে আছি আর প্রায় প্রতি মাসেই চিটাগাং থেকে ঢাকায় Written Test দিতে আসার সময় বাবার কাছ থেকে দেড় দু হাজার টাকা নিয়ে আসছি আর প্রতিবার রেজাল্ট শেষে মলিন মুখে বলছি, এবারও হয়নি! কেবলমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবে, অনার্স পাশ করা একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জন্য বিষয়টি কতটা হতাশার।
খুলনা ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা স্থানীয় ছেলেটির পরীক্ষা যদি খুলনাতেই হতো তাহলে অন্তত পরিবারের কারো কাছ থেকে টাকা না নিয়ে চুপি চুপি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে রেজাল্টের পর সবাইকে চমকে দেবার অপেক্ষায় থাকতে পারত এবং প্রতিবার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়েও জব না হবার হীনমন্যতায় ভুগত না!
এতকিছু বলবার উদ্দেশ্য একটিই আমাদের মাথামোটা দেশের মাথারা এত কিছু করতে পারে, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মত কঠিন কাজ এত সহজেই করতে পারে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director এর মত জাতীয় পরীক্ষাগুলো দেশব্যাপি ছয় সাতটি প্রধান শহরে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে পারে না! কি অদ্ভুত!! কি অদ্ভুত!!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৪ সকাল ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



