somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাকে আদর করবা না?

০৯ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত ২:১৫ এর দিকে বাসায় প্রবেশ করি। বরাবরের মতো বাচ্চা দুটি জেগে ছিলো। সালাম বিনিময় হলো। আগেই প্ল্যান করে রেখেছিলাম যে, সময় নষ্ট না করে ঘুমাবো। যেন সকালে আবার অফিসে আসতে পারি। কারন রাতে একটি টিম কাজ করছিলো। সকাল সকাল আমাকে কাজ করতে হবে। যাই হোক, ড্রেস চেঞ্চ করতে করতে বউ ও বাচ্চাদের (যমজ মেয়ে আমার) সাথে যেটুকু কথা হবার হলো। টয়লেট, হাত-মুখ ধুলাম, লাইট অফ, সোজা ঘুম।

বিছানার একপাশে আমি, জুমানা আমার পাশে, জুমানার পাশে ওদের মা, তার পাশে রামীছা। তো, বিছানায় গিয়ে যখন শুই, জুমানা আমায় ধরে আর আমিও ওকে আদর করি। ওর নানু নতুন গাড়ি কিনেছে সেই বিষয়ে আমায় বলছিলো। আমিও কিছুটা মজা করে কথা বলছিলাম। ঠিক এমন সময় রামীছা একটা কথা বললো যা আমায় খুব কষ্ট দেয়, কাঁদায়। যাদের সন্তান নেই তারা হয়তো বুঝবেন না আমার কাঁদবার কারন। রামীছা বললো, “আমাকে আদর করবানা বাপু?”

বিগত দিনগুলি অফিসের কাজে এতোই ক্লান্ত ছিলাম যে গতরাতে আমার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো ঘুমানো। তার উপর গতকাল আমার শরিরটাও খারাপ যাচ্ছিল। অফিসে কিছুটা ঘুমিয়েছিলাম। তো, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে, দুই বাচ্চাকে একসাথে জড়িয়ে ধরে আদর করিনি, যা সব দিন করি। সম্ভবত ৫-১০ সেকেন্ড চুপ করে ছিলাম আমি। খুব অপরাধী লাগে নিজেকে। আসলেইতো আমি অপরাধ করেছি। খুব ক্লান্ত, তাও উঠলাম, লাইট জ্বালালাম, পরিবারের সাথে কথা বললাম, ওদেরকে আদর করলাম ঠিক অন্যদিনগুলিতে যেমন করি তার চাইতে বেশি। এই প্রথম আমি বাইরে থেকে ফিরে বাচ্চাদের আদর করতে ভুলে গিয়েছি।

প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় কাটাবার পর, আবার ঘুমাতে যাবো এমন সময় জুমানা বললো রং তুলির কথা। বিগত কয়েক দিন ধরে রং তুলি আনবার আবদার করছিলো ওরা। আমি আমার অপারগতা ঢেকে বললাম, “আম্মু, আমিতো অফিস থেকে রাতে আসি। আর রাতের বেলাতো দোকান বন্ধ থাকে। তাই আনতে পারিনি।” জুমানা সাথে সাথে বললো, “কালকে অফিসে ঢুকবার আগেই কিনে ফেলবা।...”

ওর দ্রুত সমাধান শুনে চোখে পানি এসে যায় আমার। মনে মনে বললাম, “৩ বছরের শিশু হযেও তুই-ই আসল ম্যানেজার। কতো সহজে সমাধান দিলি। কি *** ম্যানেজার হইছি আমি যে তোর রং তুলির কথাই মনে রাখতে পারিনা।”

আমার এই লেখা পড়ে কেউ অন্য কিছু ভাববেন না। আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, যতোই কাজ করি, যেখানেই থাকি, প্রতিটাবার পরিবারেই ফিরে যাই। তাই পরিবারের যত্নও ততোটাই নিতে হবে যতোটা অন্য ক্ষেত্রে নিচ্ছি।

(রং তুলি কিনেছি আজ)
৩৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×