এই মেয়ে এদিকে আসো তো...!
দাড়াও...! নড়বে না...! একদম নড়বে না...!
আই সি...!
তোমার নাম আইরিন না...?
হ্যা...! তুমি অবশ্যই আইরিন।
সাত আট বছরের এই মেয়েটা কেরামত সাহেবের কথায় পাত্তাই দিচ্ছে না...তবে কিছুটা অবাক হয়েছে মনে হয়...
আইরিন তোমার বাড়ি মিরপুর...
তুমি গত একমাস আগে হারিয়ে গিয়েছিলে...!
তবে তোমার ভাগ্য ভাল...! কোন খারাপ লোকের পাল্লায় পরনি...!...
এখন চিন্তার কোন কারণ নেই...
নাউ ইউ আর সেইফ উইথ মী...!
উইথ মিস্টার আতাউল গনী কেরামত...!...
গনী বানানে ঈ-কার হবে...! চল তোমাকে বাড়ি পৌছে দেই...! বাসায় গিয়ে আমরা দুজন একসাথে খেতে বসবো...! আমি বেশি খাবো না । কড়া করে এককাপ চা আর দুটা টোস্ট হলেই চলবে...!
বলেই কেরামত সাহেব মেয়েটার হাত ধরে টেনে নিতে চাইছেন...!
এর পরের ঘটনা ভয়াবহ এবং নৃশংস...!
মেয়েটা কেরামত সাহেবের হাত কামড়ে দিয়েছে...! কামড়ে দিয়েই দৌড়...!
কেরামত সাহেবের হাত থেকে রক্ত পরছে...!...কিন্তু তার সেদিকে খেয়াল নেই...!... তিনি ডেকেই যাচ্ছেন...!
আইরিন কোথায় যাস তুই...!
এই বদমাশ মেয়ে...!
কোথায় যাস ?
এখন মেয়েটা কিছুটা ভড়কে গেছে...! কারণ চুল দাড়ি পাকা ঐ বুড়োটা এখন তার পেছন পেছন ছুটছে...! খুবই অপরিচিত দৃশ্য...!
হয়তো এজন্যেই সে দৌড় থামিয়ে হঠাৎ হাউ মাউ কান্না শুরু করেছে...!
ঢাকা শহরের রাস্তায় এইরকম ঘটনা খুব একটা ঘটে না...লোকজন সেই কখন থেকেই অবাক হয়ে এই নাটক দেখছে...!
এখন একজন এগিয়েছে...লোকটাকে ধরে জিজ্ঞেস করলো...
চাচা সমস্যা কি...?...
বাচ্চাটাকে ভয় দেখাচ্ছেন কেন !
ঐ মেয়েটার নাম আইরিন...! ও একমাস আগে হারিয়ে গেছে...!...বাড়ি মিরপুর...
আমি ওকে খুঁজে পেয়েছি...!...কিন্তু দেখেন মেয়েটা পালাচ্ছে...
চাচা আপনি ভুল করছেন...! আমি ওকে চিনি...! ও আইরিন না...! ওর নাম বৃষ্টি ! আমার স্কুলের দাড়োয়ানের মেয়ে...! ঐ যে স্কুল দেখছেন না...? আমি ঐ স্কুলের হেডমাস্টার...!
মিথ্যা কথা বলেন কেন...! আপনি টেলিভিশনে দেখেন নাই...!...
আমি আপনাকে পুলিশে দিবো...!
এই বুড়োকে এইভাবে চিৎকার করতে দেখে হেড মাস্টার সাহেবও যেন একটু ভড়কে গেলেন...!
লোকটা চিৎকার করেই যাচ্ছে...! কেউ কিছু বুঝতে পারছে না...! পেছন থেকে কার যেন গলা শুনা যায়...! ২৭-২৮ বছরের এক ছেলে এগিয়ে আসছে...
দেখি সবাই একটু সাইড দেন প্লীজ...! প্লীজ সবাই সরে যান...উনি আমার বাবা...! একজন মানসিক রোগী...! প্লীজ কেউ কিছু মনে করবেন না...!
কেরামত সাহেব...! পেশায় একজন ব্যাংকার ছিলেন। তিন ছেলের বাবা। একটা ছোট মেয়েও ছিল...!
নাম আইরিন...!
কেরামত সাহেব একদিন বাসায় ফিরে জানলেন মেয়েটাকে পাওয়া যাচ্ছে না...!...বাড়িতে কান্নাকাটি...!
বিভৎস অবস্থা...!
ঐ কান্না এখন থেমে গেছে...!...সবাই ক্লান্ত হয়ে গেছে...!...মেয়েটা ফিরে আসেনি...!...আজ থেকে ১১ বছর আগের কথা...!
থামেনি শুধু কেরামত সাহেবের খোঁজাখুঁজি...! মানুষ মরে যাবার চেয়ে হারিয়ে যাওয়া বেশি কষ্টের...! এখনকার খোঁজার ধরণ অবশ্য ভিন্ন...! এখন তিনি ঐ বয়সের যে কোন মেয়েকে দেখলেই আইরিন ভাবেন...!...ভাবেন মেয়েটা হারিয়ে গেছে...! তাকে বাড়ি পৌছে দিতে হবে...!
এখন ঐ মেয়েটাকে খুঁজতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে যান...! এদিকে পরিবারের বাকিদের হয়েছে যত যন্ত্রণা ! তাই বেশিরভাগ সময় তাকে পাঁচ তলার বারান্দায় তালা দিয়ে রাখা হয়...!
তাও মাঝে মাঝে কিভাবে যেন বের হয়ে যান ! আর নানান বিপত্তি ঘটান...যেমনটা আজকে ঘটিয়েছেন...!
লোকটাকে প্রায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার ছেলে...! তিনি জোরে শব্দ করে কাঁদছেন...! হেডমাস্টার সাহেব এমন কান্না কখনো শুনেন নি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



