somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: আইরিন

২০ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মেয়ে এদিকে আসো তো...!
দাড়াও...! নড়বে না...! একদম নড়বে না...!
আই সি...!
তোমার নাম আইরিন না...?
হ্যা...! তুমি অবশ্যই আইরিন।

সাত আট বছরের এই মেয়েটা কেরামত সাহেবের কথায় পাত্তাই দিচ্ছে না...তবে কিছুটা অবাক হয়েছে মনে হয়...

আইরিন তোমার বাড়ি মিরপুর...
তুমি গত একমাস আগে হারিয়ে গিয়েছিলে...!
তবে তোমার ভাগ্য ভাল...! কোন খারাপ লোকের পাল্লায় পরনি...!...
এখন চিন্তার কোন কারণ নেই...
নাউ ইউ আর সেইফ উইথ মী...!
উইথ মিস্টার আতাউল গনী কেরামত...!...
গনী বানানে ঈ-কার হবে...! চল তোমাকে বাড়ি পৌছে দেই...! বাসায় গিয়ে আমরা দুজন একসাথে খেতে বসবো...! আমি বেশি খাবো না । কড়া করে এককাপ চা আর দুটা টোস্ট হলেই চলবে...!

বলেই কেরামত সাহেব মেয়েটার হাত ধরে টেনে নিতে চাইছেন...!

এর পরের ঘটনা ভয়াবহ এবং নৃশংস...!
মেয়েটা কেরামত সাহেবের হাত কামড়ে দিয়েছে...! কামড়ে দিয়েই দৌড়...!

কেরামত সাহেবের হাত থেকে রক্ত পরছে...!...কিন্তু তার সেদিকে খেয়াল নেই...!... তিনি ডেকেই যাচ্ছেন...!

আইরিন কোথায় যাস তুই...!
এই বদমাশ মেয়ে...!
কোথায় যাস ?

এখন মেয়েটা কিছুটা ভড়কে গেছে...! কারণ চুল দাড়ি পাকা ঐ বুড়োটা এখন তার পেছন পেছন ছুটছে...! খুবই অপরিচিত দৃশ্য...!
হয়তো এজন্যেই সে দৌড় থামিয়ে হঠাৎ হাউ মাউ কান্না শুরু করেছে...!

ঢাকা শহরের রাস্তায় এইরকম ঘটনা খুব একটা ঘটে না...লোকজন সেই কখন থেকেই অবাক হয়ে এই নাটক দেখছে...!
এখন একজন এগিয়েছে...লোকটাকে ধরে জিজ্ঞেস করলো...

চাচা সমস্যা কি...?...
বাচ্চাটাকে ভয় দেখাচ্ছেন কেন !

ঐ মেয়েটার নাম আইরিন...! ও একমাস আগে হারিয়ে গেছে...!...বাড়ি মিরপুর...
আমি ওকে খুঁজে পেয়েছি...!...কিন্তু দেখেন মেয়েটা পালাচ্ছে...

চাচা আপনি ভুল করছেন...! আমি ওকে চিনি...! ও আইরিন না...! ওর নাম বৃষ্টি ! আমার স্কুলের দাড়োয়ানের মেয়ে...! ঐ যে স্কুল দেখছেন না...? আমি ঐ স্কুলের হেডমাস্টার...!

মিথ্যা কথা বলেন কেন...! আপনি টেলিভিশনে দেখেন নাই...!...
আমি আপনাকে পুলিশে দিবো...!


এই বুড়োকে এইভাবে চিৎকার করতে দেখে হেড মাস্টার সাহেবও যেন একটু ভড়কে গেলেন...!

লোকটা চিৎকার করেই যাচ্ছে...! কেউ কিছু বুঝতে পারছে না...! পেছন থেকে কার যেন গলা শুনা যায়...! ২৭-২৮ বছরের এক ছেলে এগিয়ে আসছে...

দেখি সবাই একটু সাইড দেন প্লীজ...! প্লীজ সবাই সরে যান...উনি আমার বাবা...! একজন মানসিক রোগী...! প্লীজ কেউ কিছু মনে করবেন না...!


কেরামত সাহেব...! পেশায় একজন ব্যাংকার ছিলেন। তিন ছেলের বাবা। একটা ছোট মেয়েও ছিল...!
নাম আইরিন...!
কেরামত সাহেব একদিন বাসায় ফিরে জানলেন মেয়েটাকে পাওয়া যাচ্ছে না...!...বাড়িতে কান্নাকাটি...!
বিভৎস অবস্থা...!

ঐ কান্না এখন থেমে গেছে...!...সবাই ক্লান্ত হয়ে গেছে...!...মেয়েটা ফিরে আসেনি...!...আজ থেকে ১১ বছর আগের কথা...!

থামেনি শুধু কেরামত সাহেবের খোঁজাখুঁজি...! মানুষ মরে যাবার চেয়ে হারিয়ে যাওয়া বেশি কষ্টের...! এখনকার খোঁজার ধরণ অবশ্য ভিন্ন...! এখন তিনি ঐ বয়সের যে কোন মেয়েকে দেখলেই আইরিন ভাবেন...!...ভাবেন মেয়েটা হারিয়ে গেছে...! তাকে বাড়ি পৌছে দিতে হবে...!

এখন ঐ মেয়েটাকে খুঁজতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে যান...! এদিকে পরিবারের বাকিদের হয়েছে যত যন্ত্রণা ! তাই বেশিরভাগ সময় তাকে পাঁচ তলার বারান্দায় তালা দিয়ে রাখা হয়...!
তাও মাঝে মাঝে কিভাবে যেন বের হয়ে যান ! আর নানান বিপত্তি ঘটান...যেমনটা আজকে ঘটিয়েছেন...!

লোকটাকে প্রায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার ছেলে...! তিনি জোরে শব্দ করে কাঁদছেন...! হেডমাস্টার সাহেব এমন কান্না কখনো শুনেন নি...
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×