somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চন্দ্রকথা স্বর্ণলতা

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেঘ গুলো বড় আজব...!...একটুকরা মেঘের দিকে কিছুক্ষণ একাধারে তাকিয়ে থাকলে মনে হবে মেঘটা যেন পরিচিত কোন বস্তুর আকার নিয়েছে...!...

রাতুল...?...রাতুল...? দেখ্ ঐটা কি...?...

ছোট ভাই রাতুলকে আকাশে কি যেন দেখাচ্ছে শুভ্র...রাতুল দৌড়ে আসে...

কি ভাইয়া...?

দেখ আকাশে একটা মাথা...!!!...

ভাইয়া ঐটা কি রাক্ষসের মাথা...?...

মনে হয়...!...চল পালাই...!...

বলটা ওরা অনেকক্ষণ যাবত খুঁজেছে...!...খেলার একপর্যায়ে লাল স্কস্টেপ লাগানো বলটা ঐযে ঝোপের ভেতরে ঢুকলো...আর পাওয়া যাচ্ছে না...!...

রাতুল বলে... ভাইয়া চল একটা ঢিল মারি উপরে...!...ঢিলটা যেখানে পরবে...সেখানে খুঁজলেই পাওয়া যাবে...!...

এই বিদ্যা সে শুভ্রর কাছেই শিখেছে...অনেক কাজের জিনিস...তবে আজকে কাজ করছে না... ঢিলটা আজকে একেকবার একেক জায়গায় পরছে...!

বলটা আর পাওয়া গেল না...!... আকাশে রাক্ষসের মাথা দেখে আপাতত দুই ভাই বাড়ির দিকে দৌড়াচ্ছে...!...

সন্ধ্যা হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগেই...শুভ্র-রাতুল কখনো এতক্ষণ বাইরে থাকে না...আজকে মায়ের কাছে বেদম পিটুনি খেতে হবে...!...

বল হারিয়ে গেলে যে কি পরিমাণ কষ্ট হয় এটা বলে বুঝানো সম্ভব না...দুই ভাইয়ের চোখ ছলছল করছে...! তার উপরে এখন খেতে হবে পিটুনি...!...আজকের দিনটাই খারাপ গেল...!...

তবে বাসায় এসেই বড় বোন তুলির কাছে একটা সুসংবাদ পেল ওরা...!...

মা বাসায় নেই...!...জরুরী কারণে মেজ খালার বাসায় গেছেন...আজকে ওরা থাকবে বড় জেঠির কাছে...!!!...

তার মানে আজকে ওরা যত খুশি যতক্ষণ খুশি যা খুশি করতে পারবে...?...
পড়তে বসতে হবে না...?...

তার চেয়েও বড় কথা...দেরী করে বাড়ি ফিরার জন্য মার খেতে হবে না...???...!!!...এত সুখ কোথায় রাখে ওরা...!!!...

আনন্দ প্রহরের প্রথম কথাটা বললো তুলি...

চল...ঐ খড়ের গাদাটার উপরে উঠি গিয়ে...!!!...দুই ভাই সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়...

ওদের বাড়ির পাশে বেশ কয়েকটা ধান ক্ষেত...!...ধান পেকেছে কিছুদিন হল...এখন দিন রাত ধান মাড়ানোর কাজ চলছে...গাদা করে রাখা হচ্ছে খড়...

খড়ের গাদা বড় আজব জিনিস...এই বয়সের বাচ্চা কাচ্চা এই বস্তুতে না উঠে থাকতে পারে না...!!!...তিন ভাইবোন এখন এই রকম একটা গাদায় উঠে লাফাচ্ছে...!...অতি সুস্বাদু দৃশ্য...!!!...

আনন্দ কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্তিতে রূপ নিলো...!...খাওয়া দাওয়া সেরে তিনজন এখন ঘুমাচ্ছে...!...

রহমান সাহেব...!...বড় স্বপ্নবাজ মানুষ...!...বড় সৌখিন মানুষ...!...ছেলে মেয়েদের কোন কিছুতেই মানা নেই তাঁর...!...তুলির মা এটা নিয়ে খুবই বিরক্ত...তার ধারণা আদর দিয়ে দিয়ে ছেলে মেয়েকে একেবারে গোল্লায় নিয়ে ছাড়বেন রহমান সাহেব...!...

তুলি ঘুমিয়েছিস...?...এই তুলি...?...রাতুল...?...এই শুভ্র...?...

বাবার ডাক শুনে প্রথম ঘুম ভাঙে রাতুলের...

রহমান সাহেব বলছেন...
উঠে পর তাড়াতাড়ি...দেখ কত বড় চাঁদ উঠেছে...!...যাবি চাঁদ দেখতে...?...এই তুলি...?...

রাতুলের ঘুম একেবারে চলে গেছে...!...সে এখন মহা উৎসাহ আর উত্তেজনার সাথে ভাইয়া আর আপুকে ডেকে তুলছে...!!!...

রহমান সাহেব বড় আজব মানুষ...!...মাঝ রাতে ছেলে মেয়েদের নিয়ে চাঁদ দেখতে যাওয়া সাধারণ মানুষের কাজ না...!...তাইতো ছেলে মেয়েরা তাদের বাবার জন্য পাগল...!!!...মা বাড়িতে থাকলে অবশ্যই আজকের চাঁদ দেখতে যাওয়া হত না...!!!...

ওদের বাসার সামনে একটা বড় মাঠ আছে...সারাদিন এখানেই খেলে রাতুল আর শুভ্র...তবে বাবার সাথে লোকশূন্য মাঠটা এখন একেবারে অচেনা লাগছে...!...রহমান সাহেব বলছেন...

শোন্...একেবারে পশ্চিম কোণায় আছে একটা খেজুর গাছ...চল ঐটার কাছে যাই...!...

তিন ছেলে মেয়ে একসাথে বলে উঠে...চল...!...

চার জনের মধ্যে শুভ্র কিছুটা আস্তে হাঁটছে... সে যার পর নাই বিস্মিত...!...সে জানতো আকাশে মাঝে মাঝে চাঁদ উঠে...তবে এখন যা দেখছে...এই দৃশ্য সে কোন দিন দেখেনি...!!!... চারিদিকে প্রায় দিনের মত আলো...!...শুভ্র একবারের জন্যেও চোখ নিচে নামাচ্ছে না...!...দেখতে দেখতে ওরা পৌছে যায় খেজুর গাছটার কাছে...!...এই গাছটার কথাও রাতুলরা কেউ জানতো না... বাড়ি থেকে জায়গাটা প্রায় দুই কিলো দূরে...

রহমান সাহেব বলছেন...

আমরা ঘাসে শুয়ে শুয়ে চাঁদ দেখবো কি বলিস...?

এই কথার উত্তর না দিয়েই রাতুল আর শুভ্র গিয়ে শুয়ে পড়ে...!...

চাঁদটা যেন আস্তে আস্তে নড়ছে...নাকি মেঘ গুলো নড়ছে...?...ঠিক বুঝা যাচ্ছে না...

রহমান সাহেব বলছেন...

চাঁদ দেখতে হয় কখন জানিস...?...
যখন আকাশে ঐ সাদা মেঘ গুলি থাকে...মেঘহীন আকাশে চাঁদ হচ্ছে পাতাঝরা ফুল গাছের মত...!...

বাবা মেয়ে আর দুই ছেলে একটা বিশাল মাঠে শুয়ে আছে...!...শুয়ে শুয়ে জ্যোছনায় মন ভেজাচ্ছে...!...কেউ কোন কথা বলছে না...!...ঈশ্বর তুমি এই দৃশ্য মুছে যেতে দিও না...!!!...সময়টা থামিয়ে দাও চিরতরে....!!!...

হঠাৎ তুলি উঠে বসে...বলে...

বাবা বাশি বাজাও...

রহমান সাহেব যেভাবে শুয়ে ছিলেন ঐভাবেই বলছেন বাশিটা তো নিয়ে আসি নি...পরের বার আসলে বাজাবো...

না এখনই বাজাবে...!...

তুলি বাবার বাশিটা নিয়ে এসেছে সাথে করে...!...চাঁদের আলোয় তার দাত গুলি ঝকঝক করছে এখন...!...

রহমান সাহেব উঠে বাসলেন...মেয়ে বুদ্ধি করে বাশিটা নিয়ে এসেছে এতে তিনি মোটেও অবাক হন নি...মেয়ে তো তার বাবার মতই হবে...!...

রহমান সাহেব বাশি বাজাচ্ছেন...!...হয়তো কোন একটা রবীন্দ্রসংগীতের সুর হবে...!...ছেলে মেয়েরা এত কিছু বুঝে না...!...শুধু বুঝে বাবা বাশি বাজাচ্ছেন...!!!... এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই...!

রাতুল শুভ্র এখন বাবার কোলে বসে আছে...!...বাবা বাশি বাজানোর সময় তাদের কাজ বাবার কোলে গিয়ে বসা...!...তুলি পেছন থেকে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে...!...রহমান সাহেবের বাজাতে কষ্ট হচ্ছে...তবে তিনি বাধা দিচ্ছেন না...

তুলির মনে হয়...পৃথিবীতে আজকেই প্রথম চাঁদ উঠেছে...!...আর কি উঠবে কখনো...?...
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×