somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"আমিত্ব"-একটি জীবাণু

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডায়েরী বা পিসিতে সেইভ করা বেশ পুরনো কিছু লিখা আবিষ্কার করলাম! দেখলাম আমার প্রায় সব লিখাই শুরু হয়েছে “আমি”, “আমার” এই জাতীয় শব্দ দ্বারা! খুব আতঙ্কিত অনুভব করলাম! হয়তো নিজের গাম্ভীর্য ধরে রাখতে গিয়ে অথবা মানুষের সহজাত কোন কারণে আমার মধ্যে বাসা বাঁধছে এক ধরণের “আমিত্ব”! এক ধরণের নিষ্ঠুর আত্মকেন্দ্রিকতা! একটা চাঁপা অহংকার বোধ।

আমার ভেতরে একটা আত্মার বাস, সে মাঝে মধ্যে নিজে নিজেই জেগে উঠে। তার অনেক ক্ষমতা। আমার হাতটা ধরে সে হেচকা টানে আমাকে স্মৃতির অনেক গভীরে নিয়ে যায়। আমি যেন অনেক ঘটনা একসাথে দেখতে পাচ্ছি!

দেখলাম, আমার পাশের বাসার ছেলেটাকে। ছেলেটা পড়ালেখায় মোটেও ভালো না। আমি মনে মনে সব সময় তাকে গালি দিয়ে যেতাম! শালা গর্ধব একটা! কিচ্ছু পারে না!

দেখলাম, আমার একটা ক্লাসমেইটকে। আমি সব সময় ওকে ছোট করে জানতাম। ছেলেটা ভীষণ মোটা আর দেখতে আমার চেয়েও অনেক কালো ছিলো। ওকে দেখলে আমার মধ্যে মনের অজান্তেই একটা ঘেন্না কাজ করতো!

আমি কারো প্রশংসা করতে শিখি নাই। খুব রসবোধের কোন বিষয়ও আমাকে কেউ দেখালে আমি তাতে সর্বোচ্চ মুচকি হাসতাম। অনেক অসাধারণ কারো সংস্পর্শে এলেও আমি এমন আচরণ করতাম, যেন তার সমস্ত যোগ্যতা, সমস্ত অসাধারণত্ব আমার কাছে তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। এর কারণটা বের করতে পেরেছি কিছুদিন হল। আমার ভেতরের আমিত্ব আমাকে যেন বলছে, “সাবধান ওকে বুঝতে দিয়ো না যে ও খুব ভালো মাণের একটা কাজ করেছে...এতে ও তোমার কাছে বড় হয়ে যেতে পারে...!!!...আর ও বড় হয়ে গেলেই তুমি হয়ে গেলে ছোট!”

আমি কখনো হার মানতে শিখিনি! কাউকে বড় বলতে শিখিনি! কোন বিষয়ে আমার অযোগ্যতা প্রমাণ হয়ে গেলেও না। ফ্রেইন্ড সার্কেলের মধ্যে পচানি বিষয়টা অনেক জনপ্রিয়। আমি কেমন যেন এই ব্যাপারটায় সবাইকে ডমিনেট করতাম! তবে আমার দিকে ব্যাপারটা আসলে আমি কখনোই ব্যাপারটা নিয়ে মজা করার ছলে বলি নাই, “থাক দোস্ত...!...আর লজ্জা দিস না...!!!” যেন আমাকে জিততেই হবে!

আমি সহজে কোন কিছু নিয়ে প্রতিবাদ করতাম না। তবে যখন করতাম খুব বাজে ভাবে করতাম। খুব বাজে ভাষায় করতাম! আমার কাছে নরম ভাষায় প্রতিবাদ আর খুব নীতিবোধের বাণী সম্বৃদ্ধ প্রতিবাদ যেন ক্ষীণ দুর্বলতার মত মনে হত!

আমি কখনো বলতে শিখিনি “আজ আমার মন খারাপ”! বলতে শিখিনি "ও আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে"! এই ব্যাপার গুলো নিজেকে অসহায় করে দেয়। আমি কখনোই নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করতে চাইতাম না। সব সময় নিজেকে উপরে ধরে রাখতে চাইতাম। তবে এই অসহায়ত্ব মানতে না চাওয়াটাই মনে হয় মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসহায় করে দেয়!

আমার সবচেয়ে বড় সমস্যাটা বোধহয় ধরতে পেরেছি। আমি নিজেকে সবসময়ই অন্যদের চেয়ে আলাদা আর স্পেশাল কিছু ভাবতাম! স্পেশাল ভাবাটা খারাপ কিছু না, নিজেকে স্পেশাল কেউ না ভাবলে আপনি নিজের জন্য কিছু করার বা নিজেকে বেশি দূরে নিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা পাবেন না। আপনার স্বপ্ন গুলো ছোট ছোট হয়ে পরবে। সাথে সাথে আপনিও ছোট হয়ে পরবেন। কারণ “মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়”।

তবে স্পেশাল ভাবা আর আপনি সত্যিই স্পেশাল কিনা তার সত্যতা যাচাই করে যে জিনিসটা তা হচ্ছে নিজেকে স্পেশাল দাবী করার মত আপনার আসলে আছে কি? নাহ, কি আছে এটা না বলে আসলে বলা উচিত, এমন কোন কাজটা আপনি নিয়মিত করেন যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলতে পারে?

আমি অনেক খুঁজেও তেমন স্পেশাল কোন কাজ আমার অভ্যাসের মধ্যে খুঁজে পাই নি! তাহলে আমি যে এতকাল এত মানুষকে আমার চেয়ে ছোট ভেবে এলাম এটা কেন ছিলো?

আমি অবাক হলাম! আতঙ্কিত হলাম! বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে মেসে থাকা হয়, আমার রুমমেইট ছেলেটার চেয়ে আমি নিজেকে সবসময় বড় কিছু ভেবেছি! সম্ভবত আমি পড়ালেখায় ওর চেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছিলাম এই কারণে। তবে একটা বারও আমার মনে আসে নাই, এই সামান্য রেজাল্ট আসলে আমাকে বেশি দূর নিতে পারবে না! আমার স্বপ্নের এই পথ পাড়ি দিতে হলে আমাকে হতে হবে আসলেই স্পেশাল কিছু, আর তার জন্য করতে হবে স্পেশাল কিছু যা সে করে না। আমি অনেক খুঁজেও ওর চেয়ে এমন স্পেশাল কিছু যা আমি করি তা খুঁজে পাইনি!

ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু মানুষের চেহারা ভেসে উঠছে চোখে। এদেরকে বলে দেয়া হয়েছে এরা বেশিদিন বাঁচবে না! মানুষ গুলোর অনেক কষ্ট! এদের নিয়ে তৈরি করা হয় কিছু হিউমেন সাপোর্ট সেল, যেখানে এরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে! আর নিজের কষ্টের কথা গুলো শেয়ার করে। এই কান্নার মধ্যে এরা এক ধরণের সুখ পায়। আত্মার শান্তি পায়! আমার মত মিথ্যে অহংকারের মায়ায় যারা এতদিন মানুষকে কষ্ট দিয়ে এসেছে, তাদের জন্য কি এমন কোন সেল নেই? একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতাম। হায় কি ভুল করেছি...! যদি সম্ভব হতো এই সেলের নিয়ম কানুনটা একটু চেঞ্জ করে নিতাম। ঐসব মানুষকে জড়িয়ে ধরে প্রতিবেলা কাঁদতে চাই। যাদেরকে একসময় ছোট ভাবতাম! ধ্বংস হোক আমার অহংকার বোধ। ধ্বংস হোক আমার মিথ্যে আমিত্ব!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×