somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমান সময়ে বহুল চর্চিত একটি গর্হিত কাজ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি..........

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

¤বর্তমান যুগে আলেম ওলামাদের প্রতি সাধারণ মানুষের যে শুধু খারাপ ধারণা ও সম্পর্কহীনতা তাই ই নয়,বরং তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যে কোন প্রকারের ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়। ধর্মের দিক দিয়ে এধরণের কার্যকলাপ নিতান্তই আশংকাজনক! এতে কোন সন্দেহ নেই যে পৃথিবীতে যে কোন দলেই ভাল মন্দের সংমিশ্রন দেখা যায়,সুতরাং ওলামাদের মধ্যেও ভাল মন্দ উভয় ধরণের মানুষ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে আবার লক্ষণীয় দুটি বিষয় রয়েছে,
প্রথমতঃ যতক্ষণ পর্যন্ত কোন আলেমকে সঠিকভাবে খারাপ আলেম বলে না জানা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত তার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা উচিত নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
"যে বিষয়ে তোমার প্রকৃত তথ্য জানা নাই সে বিষয়ে তুমি কোন মন্তব্য করিও না। নিশ্চয় কর্ণ,চক্ষু এবং অন্তর সবকিছুই জিজ্ঞাসিত হবে।"
তাই শুধু নিকৃষ্ট আলেম হতে পারে এই সন্দেহে তার বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা অনেক বড় অন্যায়। রাসূল (সাঃ) এই ব্যাপারে এতো বেশী সাবধানতা অবলম্বন করতেন যে,ইহুদী সম্প্রদায় তাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতের বিষয়বস্তু আরবিতে বর্ণনা করলে রাসূল সাঃ বলতেন যে,তোমরা এগুলোকে সত্য বা মিথ্যা কিছুই বলোনা,বরং এইভাবে বলো যে,আল্লাহ তাআলা যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন আমরা তার উপর ঈমান এনেছি। অর্থাত্‍ প্রকৃত সত্য না জেনে কাফেদের বর্ণনাকেও সত্য বা মিথ্যা আখ্যায়িত করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু বর্তমান যুগে আমরা এই পর্যায়ে পৌছেছি যে,আমাদের মতের বিপরীত কোন হক্কানী আলেমও মন্তব্য করলে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তার উপর আক্রমণ চালিয়ে বসি।
দ্বিতীয়তঃ হক্কানী ওলামায়ে কেরামগণও কোন নবী রসূল নন যে তারা একেবারে নিষ্পাপ হবেন,বরং তারাও তো মানুষ।ভুল ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তবে তাদের ভুলত্রুটি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত,আল্লাহ্ পাক তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন,ক্ষমাও করতে পারেন। এক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ্ ক্ষমার আশাই প্রবল,কারণ মেহেরবান মনিব নিজের ঐ গোলামের অপরাধ ক্ষমাই করে থাকেন যে গোলাম নিজের সব কিছু ত্যাগ করে মনিবের সেবায় লেগে থাকে,অথচ মহাপ্রভু আল্লাহর সমতুল্য দয়াময় আর কে হতে পারে? কাজেই তার দরবারে ক্ষমার প্রত্যাশাই করা যায় বেশি। হ্যাঁ বিচারের খাতিরে কোন কোন ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়াটা স্বাভাবিক।
সুতরাং এসব কারণে জনসাধারণের মনে আলেমদের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে আলেমদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা মানুষের জন্য দ্বীন ধ্বংস করারই কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং যারা এসব করে তাদের পরিণাম অতি ভয়াবহ! এসম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছেঃ
"তিন ব্যক্তিকে সম্মান করা আল্লাহ তাআলাকে সম্মান করার সমতুল্য! প্রথম,বৃদ্ধ মুসলমান,দ্বিতীয় কুরআনের ঐ বাহক যিনি উহাতে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করেন না,তৃতীয় ন্যায় বিচারক শাসনকর্তা।" (তারগীব)
অন্য এক হাদিসে আছে,
"যে ব্যক্তি বড়দের সম্মান করে না,ছোটকে স্নেহ করেনা এবং আলেমের তাজীম করেনা সে আমার উম্মতভুক্ত নয়।"(তারগীব)
আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে,
"তিন ব্যক্তিকে একমাত্র মুনাফিক ই অসম্মান প্রদর্শন করতে পারে,১.বৃদ্ধ মুসলমানকে ২.আলেমকে ৩.ন্যায় পরায়ণ শাসনকর্তাকে।"(তারগীব)
একটি হাদিসে রাসূল সাঃ বলেন,
"আমার উম্মতের উপর তিনটি বিষয়ে আমি সবচেয়ে বেশি ভীত,প্রথমতঃ তাদের পার্থিব উন্নতি এতো বেশী হবে যে একে অপরের প্রতি হিংসা করতে থাকবে। দ্বিতীয়তঃ কুরআন শরীফের চর্চা এতো বেশি হবে যে প্রত্যেকেই উহার নিগুঢ় অর্থ বুঝবার জন্য উঠে পড়ে লাগবে। অথচ কুরআনের এমন অনেক অর্থ রয়েছে যেগুলো একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা এবং বিজ্ঞ ওলামারাও এক্ষেত্রে বলে থাকেন যে,যা কিছু আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করি। তৃতীয়তঃ আলেম ওলামাদের হক নষ্ট করা হবে এবং তাদের সাথে যেমন তেমন ব্যবহার করা হবে।"
বর্তমান যুগে ওলামা এবং দ্বীন সম্পর্কে যেসব উক্তি করা হয়,'ফতোয়ায়ে আলমগীরী' গ্রন্থে এগুলোর অধিকাংশকেই কুফরি কালামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,কিন্তু অজ্ঞতার দরুন মানুষ ঐ সব ব্যাপারে একেবারেই বেখবর। সুতরাং সকলেরই খুব সংযমের সাথে মুখ চালনা করা উচিত।¤
আল্লাহ আমাদের মানা ও বুঝার তৌফিক দান করুন!
(আলোচ্য লেখাটি শায়খুল হাদিস যাকারিয়া কান্ধলবী (রহঃ) প্রণীত ফাজায়িল ই আমাল গ্রন্থের ফাজায়িল ই তাবলীগ অংশ থেকে সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:১৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৩ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সরকার মেয়াদ পূর্ন করতে পারবে কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৩



এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়।
বিএনপির অতীত ইতিহাস মোটেও ভালো না। এরা যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন শুধু দূর্নীতি করেছে। দেশের উন্নয়ন হয়নি। গত ১৭ বছর আওয়ামিলীগ বিএনপিকে কোনঠাসা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×