somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'মায়ের ভালবাসা'

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল বেলা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো আকাশের।।আকাশ জন্মের ২মাস পরেই তার বাবা
রোড এক্সিডেন্ট-এ মারা যায়।।তাই মাকে অনেক ভালবাসে সে।।মায়ের কোন কথাই ফেলতে পারে না।।মা বলল:-
→কিরে??স্কুলে যাবি না??
→আজ যেতে ইচ্ছে করছে না মা।।অনেক মাথা
ব্যাথা করছে।।
→থাক তাহলে যেতে হবে না বাবা।।সুয়ে থাক।।
→আচ্ছা মা।।
→আমি তোর জন্য চা-নাস্তা নিয়ে আসছি।।
চা নাস্তা এনে কত আদরে আকাশকে খাইয়ে দিল
তার মা।।এরকম মা সবার ভাগ্যে জুটে না বলে মনে করে আকাশ।।মাঝে মাঝে মা তাকে এতটা ভালবাসে,যা দেখে আকাশের চোখে পানি এসে যায়।। আকাশ একদিন স্কুল থেকে এসে অনেক অসুস্থ হয়ে
পড়ল।।তার মা ভীষন চিন্তায় পড়লো তাকে নিয়ে।।মা দেখলো তার গায়ে প্রচন্ড জ্বর।।এটা দেখে মা নিজের খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে
তার সন্তানকে সুস্থ করার জন্য আকুল হয়ে উঠলেন।।আকাশের জন্য ভাল ভাল রান্না করেছে।।কিন্তু প্রচন্ড জ্বর থাকায় আকাশ কিছু
মুখেই তুলতে পারেনি।।তার মা অনেক চিন্তায় পড়ে যায় আকাশকে নিয়ে।।
তার মা সেই দুপুর থেকে কিছুই মুখে তুলেনি।। সারাদিন আকাশের মাথার পাশে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।।মাথায় পানি
দিয়ে দিতে লাগলো।।এভাবে বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা,, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত এসে গেল।।
আকাশের জ্বর এখনো কমেনি।।ঔদিকে মায়ের
চোখে ঘুম নেই।।দোকান থেকে ঔষধ আনালো লোক দিয়ে।।কিন্তু আকাশ তো কিছুই মুখে তুলছেনা,,ঔষধ খাওয়াবে কি করে।।জ্বরে
আকাশের গা পুড়ে যাচ্ছিল।।এরপর মা তাকে
ডাকার চেস্টা করলেন।।মা দেখলেন আকাশ চোখ
খুলেছে।।এরপর আকাশকে তার মা কিছু খাবার খাওয়ালেন জোর করে।।এরপর তাকে জ্বরের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।। সকাল বেলা আকাশের ঘুম ভাঙ্গলো।।তার জ্বর কমে গেছে।।এখন আর জ্বর নেই বললেই চলে।।সে
তার বিছানার পাশে চেয়ে দেখলো তার মা তার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কাদঁছে।।আকাশ উঠে বসলো।।উঠে বসতেই আকাশকে বুকে জড়িয়ে
ধরে কাদঁতে শুরু করলো আকাশের মা।। আকাশ বুঝতে পেরেছিল তার মা কাল থেকে কিছুই মুখে তুলেনি।।আকাশের যখনই কোন অসুখে ভুগতো তার মা কিছু না খেয়ে তার সন্তানের পাশে বসে তার সেবা করতো আর গোপনে কাদঁতো।।কেননা মা আকাশকে অনেক ভালবাসে।। আকাশ মা কিছু খায়নি বুঝতে পেরে বলল,,
→মা অনেক ক্ষিদে পেয়েছে,,কিছু খাবার
বানিয়ে দাও না।।
→আচ্ছা বাবা,,তুই সুয়ে থাক,আমি এখনি খাবার
বানিয়ে আনছি।।
→আচ্ছা মা এরপর মা খাবার নিয়ে আসার পরেই যখন মা
আকাশকে খাবার খাইয়ে দিতে গেল তখন আকাশ
মায়ের হাত থেকে খাবারের থালাটা নিয়ে গিয়ে বলল„
→আজ আমি নিজ হাত দিয়ে খাবো মা।।
→আচ্ছা খা বাবা ।। এরপর আকাশ খাবার হাতে তুলে নিয়ে বলল:-
→মা হা করো।।
→কেন রে?
→আমি জানি কাল থেকে তুমি কিছুই মুখে তোলনি,,তাই আজ আমি তোমাকে খাইয়ে দিব।।
→না বাবা..আমি খেয়েছি তুই খা।।
→মিথ্যা বলনা মা।।হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি।।
এরপর মা হা করতেই আকাশ তার মাকে অধিক যত্নে খাবার খাইয়ে দিল।।মায়ের চোখে জল চলে আসে।।মা মনে মনে ভাবতে লাগে এরকম ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।।ভাবতে ভাবতে মা আকাশকে বুকে জরিয়ে ধরলো।।আর অনেক আদর করতে লাগলো।।মা দেখলো তার ছেলের গায়ে জ্বর একেবারেই নেই।। মায়ের ভালবাসার প্রতিদান হাজার চেস্টা করলেও দেয়া যায় না।।মায়ের ভালবাসা তুলনাহীন।।কিন্তু বর্তমানে অনেকেই নিজের মাকে সন্মান করতে পারে না,,তাদের ভালবাসার মুল্য দিতে জানে না।।যার ফলে পৃথিবীতে সৃস্টি হয়েছে বৃদ্ধাশ্রম নামের একটা কলঙ্কিত জায়গা।। মহানবী (সা:) বলেছেন:- "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত" তাই নিজের মাকে তুচ্ছ না করে তাকে ভালবাসুন।।তার ভালবাসার মুল্য দিতে শিখুন।। কেননা যে মা আপনাকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে তাকে তুচ্ছ করার মত পাপ কাজ আর নেই।।
.
লেখা:- Siam Mehraf
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×