রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে কান্না কন্ঠে
ডাক দিল একটি ছেলে,,
→সাহেব একটু হুনবেন??
→হ্যা বলো।।
→সাহেব ২দিন হইতে কিছু খাইনাই,,কিছু খাওয়ার
পয়সাও নআই,,৫টা টাহা দেন সাহেব,,একটা রুটি
খাইমু।।
→৫টাকা দিয়ে এখন কিছুই হয় না বোকা।।এই নাও
১০০টাকা পেট পুরে কিছু খেয়ে নিও।।
→১০০ টাকা লাগবো না,,আপনি আমারে ৫টাকা
দিলেই হইবো।।
(ছেলেটার সততা দেখে অবাক হলাম,,বয়স আর কত
মাত্র ১২)
আমি জিজ্ঞেস করলাম:-
→তোমার বাবা মা কোথায়??
→সাহেব আমার কেউ নাই,এই দুনিয়ায় আওয়ার আগেই
আমার বাপ মারা গেছে,,আর ২বছর আগে মাও মারা
গেছে।।আমি এই দুনিয়ায় একা
(কাঁদতে কাঁদতে বলল ছেলেটি)
→ধুর বোকা,,কে বলছে তোমার কেউ নাই??এই দুনিয়ায়
যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে।।
→সাহেব আল্লাহ যদি থাকতো তাইলে কি আর এই
বয়সে আমি অনাথ হইতাম??সে কেন আমার বাবা
মারে কাইড়া নিল আমার থেইক্কা??
→আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে নাই।।আচ্ছা তুমি
যাবা আমার সাথে??
→কই সাহেব? ?
→আমার বাবার একটা স্কুল আছে সেখানে তোমাকে
ভর্তি করে দিব।।তুমি ওইখানে লেখাপড়া করবা।।
মানুষের ময় মানুষ হবা।।
(ছেলেটার মুখে হাসি ফুটলো,,কিন্তু কিছুক্ষন পড়েই
বিচলিত হয়ে গেল)
আমাকে জিজ্ঞেস করল:-
→ভর্তি কি সাহেব??
→এত কিছু জানতে হবে না,,আস্তে আস্তে সব কিছু
শিখে যাবা।।
স্কুলে পড়ার ইচ্ছা আছে??
→আছে তো সাহেব।।কিন্তু স্কুলে পড়ার জন্য যে
টাহা লাগবো এত টাহা কেডা দেবো আমারে??
→আমি বললাম না যে,,,আমার বাবার একটা স্কুল আছে
সেইখানে তোমার মত অনেক অনাথ বাচ্চারা
পড়াশুনা করে।।সেইখানে পড়বা।।কোনো টাকা
লাগবে না।।
→না সাহেব থাউক,,পড়ালেহা করমু না।।
(এই বলে ছেলেটা হাত থেকে কি যেন লুকিয়ে হাতটা
পেছনে নিয়ে গেল।।আমি এতক্ষন হাতে কিছু ছিল
এটা খেয়াল করি নি।।তবে এবার স্পট বুঝতে পারলাম
যে,,ছেলেটা আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছে)
আমি বললাম :-
→হাতে কি??
→কিছুনা সাহেব??
→দেখি আমি।।
→না দেখা লাগবো না।।
(আমি জোর করে তার হাতটা খুলে দেখলাম একটা
সিগারেট)
বললাম:-
→ছি!তুমি এগুলো দিয়ে কি করো??
→সাহেব,,আমার সব বন্ধুরা এইগুলা খায়,,আর কয় যে
মনে যহন কস্ট থাহে তহন এইগুলা খাওতে হয়, তাইলে
মনের কস্ট দুর হয়।।
→এইগুলো খারাপ জিনিস, ,এইগুলো আর কখনো খাবা
না।।
→সাহেব,এইগুলা না খাইলে আমার শান্তি হয় না।।
→এইগুলো কখনো মানুষের কস্ট দুর করতে পারে
না,,তোমার বন্ধুরা সব ভুল বলেছে।।
→কোন ভুল না,,এইগুলা খাইলে আমার কস্ট দুর হইয়ে
যায়।।
→আরে বোকা এইটা তোমার মনের ভুল।।আর কখনো
এইগুলা খাবা না।।এবার চলো আমার সাথে।।
→কই?
→স্কুলে চলো
→না সাহেব,,স্কুলে পড়মু না।।
→দেখো তো স্কুলে পড়লে সবাই তোমাকে কত ভাল
বলবে,তুমি মানুষের মত মানুষ হতে পারবে।।স্কুলে না
পড়ে এইসব বাজে জিনিস খেলে সবাই তোমাকে
খারাপ বলবে।।এবার দেখ তুমি কি করবা??ভাল হবা
,,নাকি জেনেশুনে খারাপ দিকে যাবা??
→না সাহেব আমি খারাপ হইতে চাই না।।আমি
স্কুলে পড়মু।।ভাল মানুষ হমু।।মানুষের মত মানুষ হমু।।
(কান্না জড়িত কন্ঠে বলল সে)
→তাহলে চলো।।
অনেক ব্যাস্ততার মাঝে ২মাস পর বাবার স্কুলে
গেলাম।।তাকে দেখে চিনতেই পারলাম না।।তারপর
একটি ছেলে আমার দিকে এগিয়ে আসল।।
বলল:-
→আসসালামু আলাইকুম সাহেব।।ভাল আছেন??
(ছেলেটার কন্ঠটা পরিচিত মনে হল।।বাবা বলল এটাই
সেই ছেলেটা যাকে ২মাস আগে আমি এখানে নিয়ে
এসেছিলাম।।অনেক আশ্চর্য হলাম)
বললাম:-
→হুম ভাল আছি।।তুমি?
→ভাল।আচ্ছা সাহেব আমার বন্ধুরা সবাই খেলছে
আমিও খেলতে যাই।পড়ে কথা হবে।।
এই বলে ছেলেটি খেলতে চলে গেল।।তাকে দেখে আর
একবার আশ্চর্য হলাম।।কত হাসি আজ তার মুখে।।
পূর্বের তুলনায় সে কত বদলে গেছে।।সুখের কান্না
আমার চোখ ভিজিয়ে দিল।।অনেক আনন্দ হচ্ছিল
তখন।।
একটা কথাই বলবো:-কেউ এদের মত পথশিশুকে
অবহেলা না করে তাদের পাশে এসে দাড়ান।।হয়তো
আপনার জন্য একটি শিশু ফিরে পাবে নিজের
জীবনের সর্বসুখ।।ফিরে পাবে মন কাড়ার মত হাসির
মুখ।।হয়তো আপনার জন্যেই তার জীবনের সব কস্ট দুর
হয়ে যাবে।।তাই এদের অবহেলা নয় এদের পাশে এসে
দাড়ান।।
হয়তো আপনার এই একটা সঠিক পদক্ষেপ বদলে দিবে
একটা শিশুর জীবন।।
লেখাঃ- Siam Mehraf
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



