
ব্যাপারটা বেশ লক্ষনীয় যে, মানুষ অাগের চেয়ে এখন গরুর মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে । বিষদভাবে ব্যাখ্যা না করেও বলা যায়, এর কারন মূলতঃ তিনটি:
১। দাম বৃদ্ধি: ২৫০ টাকা কেজি থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ৩৫০, ৪৫০ এবং গত ঈদে সর্বশেষ ৫৫০ টাকায়ও মাংস বিক্রি হয়েছে । যদিও সেটা ঈদের বাজার ছিল, তবে অন্য সময় একজন নির্দিষ্ট অায়ের মানুষের কাছে ৪৫০ বা ৪৮০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কেনা সহজ-সাধ্য ব্যাপার না । কারন ছোট-খাটো একটা পরিবারেও এটা এক বেলার তরকারী মাত্র ।
২। ভারতীয় গরু অাগের মত না অাসা: ভারত তার সীমানা প্রাচীর দিয়েছে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে এবং এর ফলে চোরাই পথে গরুর অাসার সুযোগ নেই বললেই চলে । এ ছাড়া বৈধ পথেও ভারত সরকার বাংলাদেশকে গরু দেবেনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে; পাশাপাশি তাদের দেশের রক্ষণশীল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিও এর সাথে জড়িত । যার ফলে গরুর মাংসের সরবরাহটা দেশীয় গরুর উপরই নির্ভর করছে । যদিও বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে প্রচুর গরু পালন হচ্ছে শুধু মাংসের চাহিদাকে টার্গেট করে । কারন বাংলাদেশে এখন অার কোন কৃষক গরু দিয়ে হাল চাষ করে না ।
৩। সচেতনতা বৃদ্ধি: একজন ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক বলেছিল, তাদের দেশের হৃদরোগ হাসপাতালে গেলে দেখা যাবে ১০০ জন রোগীর ৮০ জনই মুসলমান । কারন একটাই, ওরা গরুর মাংস খায় । হার্ট এ্যাটাক-এ যখন ৩৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষ চোখের সামনে অহরহ মারা যাচ্ছে, তখন এসব দেখে কিছুটা হলেও গরুর গোস্ত খেকো মানুষের মধ্যে সচতনতা এসেছে । এখন অনেক মানুষই গরু কিংবা খাসীর মাংস খাওয়ার অাগে তিনবার ভেবে নেই - এটাতে চর্বি বেশি, খেলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়বে ।
উপরের তিনটি কারনই মূলতঃ ধরে নেওয়া যায়, গরুর মাংস খাওয়ার ব্যাপারে মানুষের অাগ্রহ কমে যাওয়া । তবে কোন অনুষ্ঠানে খেতে বসলে অামাদের অনেকেরই কোন কিছু খেয়াল থাকেনা । সামনে কোরবানীর ঈদ অাসছে । অাশা করি এখন থেকেই অামরা সতর্ক হবো ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




