somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোট আমাকে চার দিন গ্রামের বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অফিসে খুব ঝামেলাপূর্ণ একটা কাজের দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয়; তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ঈদ ছাড়া আমার গ্রামে যাওয়ার খুব একটা সুযোগ হয় না । যেটা এবার জাতিয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভব হলো । ভোটের আগে ও পরে কয়েক দিন বাড়তি ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেলাম । যদিও আমার ভোট ছিল ঢাকাতেই; কিন্তু আমি জানতাম, আমার এ পোড়া দেশে সেটা সম্ভব হবেনা কিংবা ভোট দেওয়ার কোন প্রয়োজনই পড়বে না । তাহলে মিছে ভোটের জন্যে কেন ঢাকাতে পড়ে থাকব ? তার চেয়ে বরং মাটির কাছ থেকে ঘুরে আসি ।


গ্রামে গেলাম । ভোটের একদিন আগে যথারীতি আমার গ্রামের ভোটের পরিবেশ ও শহরের রেখে আসা পরিবেশের মধ্যে তেমন একটা তফাৎ খুঁজে পেলাম না । এখানেও নৌকা প্রতীক ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর প্রতীক, প্রচারণা কিংবা কোন কর্মীও চোখে পড়লো না । পরে জানলাম, ভোটের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রতি রাতেই কোন না কোন গ্রামে চিরনি অভিযান চলছে । তারপর থেকে ভিন্ন মতের কোন কর্মীই নাকি বাড়িতে থাকতে পারেনা । আরো জানলাম, যারা এখনো ধরা পড়েনি তারা রাত হলে বাড়ির পিছনের কোন জঙ্গল কিংবা মাঠে গিয়ে আশ্রয় নেয় । পৌষ মাসের এই হাড় কাঁপানো শীতে তারা প্রতি রাতেই জঙ্গলে নাকি ঘর বানায়; যার নাম দেওয়া হয়েছে মোবাইলঘর; দিন হলেই যে ঘর প্রতিদিন ভেংগে ফেলতে হয় ।


এরকম ঘটনার কথা শুনে মনে মনে কিছুটা কষ্ট পেলেও একটু রোমান্সিত হলাম যে, পৌষ মাসের শীতেও জঙ্গলের ভেতর মোবাইলঘর বানাতে হয়, সূর্য উঠার আগেই তা আবার ভেংগে ফেলতে হয় - কী দারুণ ব্যাপার !

আমার স্কুল জীবনের একজন বন্ধুকে পেলাম, বাড়িতে গেলে যার সাথে আমার প্রায়ই দেখা হয় । এবার গিয়ে দেখলাম, সে নৌকার দরবারে বসে আছে । পাশ দিয়ে যেতেই কথা হলো, বললাম - বেশ বেশ, ভোট কর । অথচ এতদিন জানতাম, বন্ধুটি আমার অন্য ঘাটের মাঝি ছিল । ভোটের মাত্র কয়দিন আগে সে ডিম-খিচুড়ি খেয়ে শপথ করে নৌকায় উঠেছে । গ্রামে এরকম আরো অনেকের কথায়ই শুনলাম, যারা তড়িঘড়ি দল বদল করেছে । এতে করে তাদের সব চেয়ে বড় যে লাভটি হয়েছে, তা হলো তারা অন্তত: নির্ভয়ে গ্রামে চলাফেরা করতে পারছে ।


এখানে উল্লেখ্য যে, ৭১-এএতদিন আমরা শুধু রাজাকারের কথা শুনে এসেছি, যারা পাকিস্তান আর্মির সহযোগি হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী কাজে অংশগ্রহণ করেছে; কিন্তু আমরা কখনো কখনো এও শুনেছি যে, ঐ সময় কিছু মানুষ রাজাকার হয়েছিল তৎকালীন পরিস্থিতির শিকার হয়ে; যাদের অন্তরে প্রবল দেশাত্ববোধ থাকার পরও নিজেকে বাঁচানোর জন্য, তার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য কিংবা তার গ্রাম বা পুরো এলাকাকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য রাজাকার সাজতে বাধ্য হয়েছিল । আজ আমরা যারা ৭১ পরবর্তি প্রজন্ম তারা ৭১ না দেখেও কয়েক প্রকার রাজাকার দেখার বিরল সুযোগ পেলাম ।

যাইহোক, আমি মনে করি আমার এলাকায় যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলেও নৌকায়ই ৯০ ভাগ জেতার সম্ভাবনা ছিল । কারণ নৌকার যিনি প্রার্থী ছিলেন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা, শিক্ষিত, নের্তৃত্তগুণ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ, ধানের শীষের প্রার্থীর চেয়ে । কথায় আছে, কেউ যখন নিজের ছায়া দেখে ভয় পাও্য়া শুরু করে, তখন তার আর কোন কিছুতেই বিশ্বাস থাকেনা ।

প্রথমে যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এসব কিছুর মধ্যেও আমার গ্রামে যাবার আনন্দটুকু মোটেই মাটি হয়নি । মাঠে গেছি, নদীতে গেছি, বাগানে ঘুরেছি, সবুজের সাথে কথা বলেছি, আর বাড়ির পাশে ইংরেজ আমলে তৈরী বিলুপ্তপ্রায় একটা আড়তবাড়ীর বেশ কিছু ছবিসহ তথ্য সংগ্রহ করেছি; যা অন্য আরেকটি পোষ্টে অন্য আরেক দিন শেয়ার করব ।




সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×