
বছরের শেষ দিন। গতকাল সদ্য সমাপ্ত হওয়া ভোটের জল-খাবার কারো কারো পেটে কিছু পড়লেও তাতে যেন কোন তৃপ্তির ঢেঁকুর নেই, কারণ যে খেলায় কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা তাতে বিজয়ের আনন্দও থাকেনা। তবে কারো কারো আনন্দ দেখলাম এক সাথে বাঁধাহীন ভাবে শত শত সিল মারতে পারায়। আর আমি তো বাড়ি গিয়েছি ভোটের ছুটির সুযোগ নিয়ে; তার আগেই অবশ্য ভোট আমার কাছে অন্য আরো অনেকের মতো এক জাতিয় তামাশার চিত্রপট। যাহোক, আমি ঢাকা ফিরছি; যেহেতু সরাসরি কোন বাসের টিকেট করা হয়নি; তাই আমার ঢাকা যাত্রা শুরু হয়েছে এবার কাটা কাটা।
কুষ্টিয়া বাস টারমিনালে পৌছানোর পর বিকেল ৪টার পদ্মা-গড়াই বাসে ভিড়ের কারণে উঠলাম না। পরের গাড়ী ছাড়বে বিকেল ৫:৩০ মিনিটে। হাতে তখন প্রায় দেড় ঘন্টা সময়। ঘুরছি। যদিও বাস বা ট্রেনের কোন টারমিনালই আমার পছন্দের জায়গা না। আধা ঘন্টা ঘুরা-ঘুরির পর হঠাৎ এ পাগলের দেখা পেলাম। যে দেখতে পাগল মনে হলেও আসলে সে পাগল না । ভাবলাম, ইনার সাথে নিশ্চয় কিছুটা সময় কাটানো যায় । প্রথমে আমিই কথা শুরু করলাম।
- আপনার কি একটা ছবি উঠাতে পারি?
- পাগল মুচকি হাসে । তারপর খুব সহজ স্বাভাবিক ভাবেই বলল, কিছুদিন আগে আমার মতো এক জনের ছবি উঠিয়ে কে যেন ফেসবুকে দিয়ে খারাপ কিছু লিখেছিলো।
বুঝলাম, এ পাগল ফেসবুক সম্পর্কেও তাহলে ধারণা রাখে। বললাম, না না, আপনাকে নেতিবাচকভাবে দেখাবো না; এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তারপর উনি বললেন, আমাকে কাগজ-কলম দিন, আমি আমার নাম ও তরিকা লিখে দিচ্ছি এবং এরপর আরেকটু গর্বের সাথে বললেন, আমি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছি, এখনো ডাক্তারী প্র্যাকটিস করি। কাদরিয়া তরিকার এই পাগল আরো জানালো, বাংলাদেশ তার মোট ৪টি আখড়া আছে এবং প্রতিটা আখড়াতে একটি করে মসজিদ আছে; প্রতি বছর সেসব জায়গায় ওরস হয়।
উনার সব কথা বিশ্বাস না হলেও আমি এক টুকরো কাগজ ও একটি কলম এনে দিলাম। সেখানে উনার নাম, তরিকা, আখড়ার স্থান, তার গুরুর নাম লিখলো। নিচে তার লেখাটি সংযুক্ত করলাম।

এরপর কিছু প্রশ্ন করলাম:
- আপনি তো একজন সংসার ত্যাগী মানুষ, তাই না ?
- জ্বী
- কিন্তু আমাদের কোন নবী-রাসুল তো সংসার ত্যাগী ছিলেন না, আপনি বলছেন, আপনার সব আখড়ায় একটি করে মসজিদ আছে এবং সেখানে নামাজও পড়া হয়; তার মানে আপনি নবী-রাসুলের ধর্মই তো পালন করছেন?
-আপনি পুরোপুরি জানেন না, নবী-রাসুলরা একটা সময় পর্যন্ত সংসার করেছে; যেটা আমিও করেছি। এখন সত্যিকার জীবনে ফিরে এসেছি; যেটা আমার আসল ডিউটি।
-তাহলে এখন আপনার সংসারকে কে দেখছে ?
-আল্লাই দেখছে।
এরপর আমি আর কথা বাড়াতে পারলাম না, কারণ ততক্ষণে বাসে উঠার জন্য মানুষ লাইন দিয়েছে । দেরি করলে পিছনের ছিটে বসেও আমাকে সারাপথ নাচতে নাচতে ঘাটে যেতে হবে। যদিও হাতে আরো প্রায় ১৫/২০ মিনিট সময় আছে। কিন্তু এ পাগল আমাকে যেন আর ছাড়তেই চায় না। উনি হয়ত ধরে নিয়েছে, আমি কোন পত্রিকার সাংবাদিক টাইপের কিছু একটা হবো। কারণ, আমার মাথায় আবার একটা ক্যাপও পরা আছে। অথচ আমি ক্যাপটি পরেছি মূলত: পৌষ মাসের ঠান্ডা থেকে মাথাকে কিছুটা রক্ষা করতে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




