
গতকাল ঢাকাকে সীলগালা করে দেওয়ার পর চট্রগ্রাম এবং রাজশাহী শহরও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এরপর আজ সকালে দেখলাম খুলনা শহরও এই আইন জারি করেছে । কিন্তু আমরা বাঙালি বলে কথা, সোজা পথে হাঁটতে না পারলেএ বাঁকা পথে হাঁটতে উস্তাদ এবং সেটাই দেখা যাচ্ছে বাস্তবে ।
বেশ কিছু বছর আগে, আমি তখন মিরপুর এক নম্বরের 'এ' ব্লকে কয়েকজন মিলে একটা বাসায় থাকি, সেখানে আমিসহ আরো কয়েকজন ছিলাম ছাত্র, বাকীরা চাকুলীজীবী এবং কয়েকজন বেকারও ছিল । চাকুরীজীবীদের মধ্যে এক জনের নাম ছিল সিরাজ, বাড়ি শরিয়তপুরে । মাঝে মাঝেই দেখতাম, তার এক ছোট ভাই প্রায়ই বাড়ি থেকে ঢাকা এসে তার কাছে থাকত । পরে জানলাম, সে ইটালি যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে এবং এ জন্যেই তাকে ঢাকা এসে থাকতে হয় ।
এরপর দীর্ঘদিন তার আর কোন খবর নাই । এর মধ্যে আমি এক রকম ভুলেই গিয়েছিলাম তার কথা । হঠাৎ একদিন রুমে এসে শুনলাম, সিরাজ ভাইয়ের ছোট ভাই ইটালি যাওয়ার পথে মারা গেছে । লাশ আসতে কয়েক মাস সময় লাগবে । আমি ব্যপারটা তখনো বুঝে উঠতে পারিনি যে, ইটালি যাওয়ার পথে আবার মানুষ কিভাবে মারা যায় ? কিন্তু পরে যেটা জানলাম, সেটা আমার ভাবনারও অতীত ছিল । ঘটনাটা এরকম, প্রথমে স্থল পথে কয়েকটি দেশ পাড়ি দেওয়ার পর সাগর পথে একটা ড্রামের ভেতরে ঢুকে জাহাজে সে ইটালি যাওয়ার চেষ্টা করছিল; কিন্তু অনেকটা পথ যাওয়ার পর সে খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং মারা যায় ।
যাইহোক, সত্য এই ঘটনাটি এখানে উল্লেখ করার অর্থ হলো, কয়েক দিন ধরে কিছু নিউজ এবং ছবিতে দেখছি, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কেমিক্যালের খালি ড্রামের ভেতর মানুষ ঢুকে ফেরীতে করে গোয়ালন্দ থেকে পাটুরিয়া ঘাটে আসছে । যেহেতু ফেরী এই মুহূর্তে কোন মানুষ পার করছে না, তাই তারা ড্রামের ভেতর ঢুকে পিক-আপ বা ট্রাকের মাধ্যমে ফেরী পার হচ্ছে এবং এপারে এসে আরো ভয়ংকর কাভার্ড ভ্যানের ভেতর ঢুকে ঢাকা আসছে । যার ভেতরে অক্সিজেন ঢোকার মত কোন ফুটা, ফাটাও নেই ।
এসব দেখে মনে হচ্ছে, প্রবেশ-অনুপ্রবেশের নিষিদ্ধতার শর্ত জুড়ে দিয়ে আসলে কোন কাজ হবেনা; কারণ আমরা তো বাঙালি, একটা বিকল্প রাস্তা ঠিকই বের করে নেব, সেটা জীবনের জন্যে যত ঝুকিপূর্ণই হোক না কেন ।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




