
ব্যতিক্রম এখনো আছে । সবাই যখন করোনার কাছে করুণা ভিক্ষা চাইছে তখন ফুলমতি চব্বিশ ঘন্টা পতি সেবার পরও তার করোনা আক্রান্ত স্বামীর ভাইরাস নিজের শরীরে প্রবেশ করাতে পারেনি । চার মিটার দূরত্বের সীমারেখা অতিক্রম করে জয় করেছে ভালোবাসার । এই কথা ভেবে নিউমার্কেট, মহাম্মদপুর কাঁচাবাজার আর কাওরান বাজারের ভিড় ঠেলে হন্ত-দন্ত হয়ে রশীদ মিয়াও বাজারে যায় দুই সপ্তাহের কেনাকাটার জন্যে । পেটের ক্ষুধাকে সবাই আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে দিতে পারেনা, তাই প্রত্যেকেই তারা এক একজন করোনামুক্ত রোগী, চৌদ্দ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে তারা এখন বাঁধভাঙ্গা লকডাউনে ।
মুদি দোকানদার ফজর আলী থেকে পানশুপারিওয়ালা পর্যন্ত সবাই জানে, আগামি শনিবারের পর সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে । সামনে মহা বিপদ ! আর এ কারণেই শুরু হয়েছে কেনাকাটার হুড়োহুড়ি । যে যেভাবে পারছে, কিনছে । করোনা এখানে একটু একটু করুণা করে চলেছে - ক্রেতা, বিক্রেতা, পাইকাড়, ফড়িয়া, দালাল, ফেরিওয়ালা, হকার - সবাইকে ।
এই সুযোগ রশীদ মিয়া কেন ছাড়বে ? ব্যাগ ভর্তি করে বাজার করছে । কিন্তু একটা ব্যাপার তার মাথায় খুব করে ঘুরপাক খাচ্ছে, যে ব্যপারটা সবাই জানে, অথচ সেই'ই কেবল জানত না, আগামি শনিবার থেকে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে ।
আসলেই কি সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে ? যদি বন্ধ না হয়, তাহলে এমন কথা কে ছড়ালো বাজারে ?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




