somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্দি কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমান/ আমি তবে মুক্ত বিহঙ্গের মতো তত্বাবধায়ক আকশে...

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমার আর ঘুম লাগেনা। মাথা ঠা ঠা করে যন্ত্রনায়, রাজ্যের বেবাক অসমাপ্ত চিন্তা জড়ো করে তখন আমি একটা খসড়া লেখা তৈরি করি- এ আমার যোগ্যতা। আজকের রচনা সে সব চিন্তারই একটা বিন্দু থেকে রেখা ধরে কিছুদুর এগিয়েছে মাত্র:

২.
ঘুম ভাঙার কারন দাড় করাতে গিয়ে অবেচেতন মন চলে গেল হাসপাতালে শায়িত রক্তরোগে আক্রান্ত কিশোর ভাতিজার কাছে। তক্ষুনি খোজ নিয়ে জানলাম ও ঠিক আছে। তবে কার জন্য আমার ঘুম ভেঙে গেল এ কুয়াশার নির্বোধ রাতে? এবং আচমকা অন্ধকারে ১২ বছর বয়সী আমার ভাতিজার অসুখী মুখটি সরিয়ে দিয়ে হাজির হলো আরিফ, কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমান! কতোদিন আয়নায় মুখ দেখেনি ছেলেটা...

৩.
বাতিটা জ্বেলে দিই। আরিফ চলে গেছে। আশ্চর্য, আজ কতোদিন হলো- আমরা বন্ধুরা ওর প্রসঙ্গই তুলছিনা। কোনো আড্ডাতেই ঢুকতে সাহস পাচ্ছেনা নাকি ছেলেটা? আমরা দিন দিন ওকে এতটা অস্পৃশ্য অবস্থায় নিয়ে গেছি যে আরিফের উপস্থিতি আমাদের দু:স্বপ্নের মধ্যেও নেই। আচ্ছা ওর কি জেল জরিমানা কিছু হলো? নাকি হাজতবাসেই কাটাতে হবে পুরোটা জীবন? ওর অপরাধের মানদন্ড ধরে শাস্তির তীব্রতা কতোটা ভয়ংকর হতে পারে? ধরলাম, একদিন কারাগার থেকে বেরিয়ে এলো- তবু ও কি পারবে কোনো দৈনিকে নতুন করে কন্ট্রিবিউট শুরু করতে? ধর্মীয় অনুভুতিশীল বন্ধুরা ওকে ডাকবে তো আগের মতো আড্ডায়! এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারছে না কোনো সংবাদ মাধ্যম। অথচ দ্যাখ, প্রথম আলো ৯ বছর পেরিয়ে ১০ বছরে পা দিয়ে সপ্তাহব্যাপী অবাধ উত্থানকাহিনী ছাপলো। বিলবোর্ড,রেডিও,টিভিতে প্রথম আলোর এত গুনগান দেখে আমারও খারাপ লাগেনি। কেন? এখন লাগছে, হারিয়ে যাওয়া আরিফের মুখটা আমার শেষ রাতের ক্লান্তিকে চেপে ধরেছে বলে। আমার বোধ হচ্ছে- প্রথম আলোর পাহাড় সমান সফলতা-জনপ্রিয়তার আড়ালে একটি সত্য ও বস্তুনিষ্ট, পাঠকপ্রিয় সংবাদ ঢেকে দেয়া হয়েছে। সত্যি ও নির্মম ব্যপার যে, আরিফুর রহমানের জন্য প্রথম আলো একবার অন্তত একবার মাটিলেপা হয়েছিল। এ খবরটা ধরেই আরিফের প্রতিপক্ষে দাড়িয়ে, আগের মতো একটা সাহসী সম্পাদকীয় লিখতে পারতেনর মি. মতিউর রহমান। তবে আমি, আরিফুর রহমানের সহমর্মী হিসেবে, আজ, এই ভরা মজলিশে এতগুলো প্রশ্ন তুলতাম না, সত্যি...

৪.
''চলতে চলতে অনেকটা পথ চলে এলাম
বলতে বলতে অনেক কথা বলে গেলাম
প্রভু, আখের রসে আরেকটু মিষ্টি দিও...''
(সঞ্জীব চৌধুরীর গান)

বন্ধ করে দিলাম ক্যাসেট প্লেয়ার। এত ভাবনার ভিড়ে, শেষ রাতে গানের ভারি কথা আজ আমি বইবার যোগ্য নই। এই ভালো নিকোটিনে ভেসে যাচ্ছে আমার ঘর। একটু পরেই বাইরে গিয়ে কুয়াশায় দাড়ালাম, আহ। আরিফ, চলে আয়, দেখে যা কি মিষ্টি কুয়াশা নেমেছে আমার জন্য, হতভাগা। আমি চাইলেই এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে উড়তে পারি তত্বাবধায়ক আকাশে...
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×