somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ কি দুর্ঘটনা, নাকি হত্যা?

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বনপাড়া সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে এক ভয়াবহ দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কিয়ামতের আলামতের সৃষ্টি হয়েছে। পত্রপত্রিকায় দেখেছিলাম রেজ্জুর মোড়ের দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা শতাধিক। দুই বাসে লোকই থাকে কত? এত লোক নিহত হয় কী করে? বুকটা কেঁপে উঠেছিল। প্রতিদিনই দেখছি সড়ক দুর্ঘটনা। সরকারি হিসাবে প্রতি বছর ১২ হাজার, বেসরকারি ১৮ হাজার, এনজিওদের হিসাবে ২৪ হাজারের ওপরে। যদি বছরে ২৪ হাজার হয় তাহলে প্রতিদিন মরে ৬৫ জন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় যে জীবন হারায় শুধু সেই মরে না, তার পরিবার-পরিজন নিয়ে মরে। নাটোরের গুরুদাসপুরের শিধুলীতে এক কবরস্থানে ১৪ জনকে দাফন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে আর কোথাও সারিবদ্ধ ১৪ কবর দেখিনি।
নাটোরের অথৈই পরিবহনের একটি গাড়ি ওপর নিচে ঠাসা যাত্রী নিয়ে বনপাড়া থেকে সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় একটি ট্রাক পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িটিকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। মনে হয় অনেক বেশি যাত্রী থাকায় ড্রাইভার গাড়িটিকে সামলাতে পারছিল না। মাতালের মতো ডানে বামে মোচড়ামুচড়ি করে প্রায় দেড়-দুই শ’ গজ গিয়েছিল। সেই সময় ঢাকার দিক থেকে কেয়া পরিবহনের একটি দূরপাল্লার গাড়ি নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। দূরপাল্লার কেয়া পরিবহনের ছাদে দু-চারজন থাকলেও অথৈই পরিবহনের ছাদে ৪০-৫০ জনের নানা বয়সী যাত্রী ছিল। একটি আর একটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে দুই গাড়ি সড়কের দুই দিকে ছিটকে পড়ে। দুই গাড়ির ছাদের প্রায় সব যাত্রী রাস্তার ওপর এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। অনেকেই আহত হলেও সবাই যে নিহত হয়েছিল তেমন নয়। কেউ কেউ অতও ছিল; কিন্তু চরম দুর্ভাগ্যের একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে নির্মম ঘটনা ঘটে তারপর। কেয়া পরিবহনের পিছে পিছে ধেয়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি গাড়ি রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষদের দেখে না থামিয়ে তার ওপর দিয়ে চলে যায়। এ সময় কতজন যে নিহত হয়েছে কেউ বলতে পারে না। কারবালার প্রান্তরে সীমার যে নির্মমতার পরিচয় দিয়েছিল, গুরুদাসপুরে হানিফ পরিবহনের নির্মমতা তারচেয়েও জঘন্য বেদনাদায়ক। কেয়া এবং অথৈই পরিবহনের গাড়ির সংঘর্ষ দুর্র্ঘটনা হিসেবে মেনে নিলেও রাস্তার ওপরে পড়ে থাকা মানুষদের ওপর দিয়ে হানিফ পরিবহনের গাড়ি চালিয়ে দেয়াকেও কি দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে হবে? একে তো নির্মম গণহত্যা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে মন সায় দেয় না।
রাস্তার কুকুর বিড়াল পশুপাখির ওপর যাতে গাড়ি না ওঠে তার জন্য কত চিন্তা, আর গুরুদাসপুরে রেজ্জুর মোড়ে দুর্ঘটনায় পতিত মানুষের ওপর দিয়ে হানিফের গাড়ি চলে গেল? মাননীয় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের আশকারা পাওয়া ড্রাইভারের বুকে একটুও বাধলো না? তাহলে তার কিসের আত্মা? কোনো পশুর আত্মাও তো এমন হিংস্র্র হতে পারে না। কোথায় মনুষ্যত্ব, কোথায় মানবতা? এ তো হিংস্র্রতার চরম প্রকাশ।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে অসংখ্য মানুষ খুন করলেও এখন পর্যন্ত হানিফ পরিবহনের সেই গাড়ি এবং ড্রাইভারকে শনাক্ত করতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যে ট্রাক অথৈই পরিবহনকে ঘেঁষা দেয়ায় ঘটনার সূত্রপাত, সেই ট্রাককে যেমন শনাক্ত করা হয়নি। হানিফ পরিবহন কতজনকে যে হত্যা করেছে- তাকেও শনাক্ত করা হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলাম, বিআরটিসির বিজ্ঞাপনে দেখলাম যেহেতু তারা হানিফ পরিবহনের গাড়ি শনাক্ত করতে পারেনি সেহেতু জনসাধারণ যদি নাম্বার দিতে পারেন তাহলে ভালো হয়। কী নির্লজ্জ আহ্বান! একটা খুনি গাড়ি শনাক্ত করতে সরকারের খুব একটা বেশি সময় লাগে? ৩টা সাড়ে ৩টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই সময় সিরাজগঞ্জ বনপাড়া দিয়ে হানিফ পরিবহনের কোন কোন গাড়ি গেছে অবলীলায় বলে দেয়া যায়। নাটোর-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ওই রাস্তায় হানিফ পরিবহনের ক’টা গাড়ি চলে এটা খুঁজে বের করতে কত ক্ষণ? ৫-১০-২০টা। যদি তাই হয় সব ক’টা গাড়ি ধরতেই-বা দোষ কোথায়? যে কেয়া পরিবহনের গাড়ি দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে তার পেছনে হানিফ পরিবহনের কোন গাড়ি ছিল সহজেই তো তার খবর নেয়া যেতে পারে। যেখান থেকে ছাড়ে সেখান থেকে, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা মোড় থেকে সিরাজগঞ্জের মোড়ে ২টা আড়াইটায় হানিফের কোন গাড়ি রাস্তায় হোটেলে খাবার খেয়েছে এসব খোঁজ করলেই তো বেরিয়ে যায়; কিন্তু খোঁজ করবে কে?
ইচ্ছা থাকতে হবে তো। গরিব মরলে সরকারের কী? শিধুলীর এক বাড়িতে সাত ভাইয়ের ছয়জনই মারা গেছে। তাদের সংসার এখন রাস্তায়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী গিয়েছিলেন নিহতদের চেক দিতে। এক সারিতে ১৪টি কবর দেখে আমি কিছুটা দিশেহারা হয়েছিলাম। তাই সাংবাদিকদের বলেছিলাম, মাননীয় মন্ত্রীর অদতা অযোগ্যতার জন্য এলাকার মানুষ তার কাছে অনুদান চায় না। তার পদত্যাগ চায়।
অনেকেই বলেন পশ্চিমবঙ্গের এক সিনেমার নায়ক ফাটা কেষ্টের মতো তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, রাস্তা ঠিক হয় না। মন্ত্রীর কাজ কি রাস্তার সুপারভাইজারের মতো, ওভারশিয়ারের মতো ইট বালু দেখা? সে তো S.D-S.O.-এর কাজ, Exn-এরও কাজ না। সেখানে মন্ত্রী ঘুরলে সব ইঞ্জিনিয়ারও তার পিছে পিছে ঘোরে। কাজের কাজ কিছুই হয় না।
তার কাজ ছিল হানিফ পরিবহনের খুনি গাড়িকে চিহ্নিত করা। যদি ধরা না যায়, তারা যদি ভালোয় ভালোয় স্বীকার না করে তাহলে সারা দেশের সব হানিফ পরিবহনের গাড়ি বন্ধ করে দেয়া উচিত। রাস্তার ওপর মানুষ থাকলে তার ওপর দিয়ে যে পরিবহনের নরঘাতক ড্রাইভারেরা গাড়ি চালিয়ে যেতে পারে, তাদের রাস্তায় মানুষ হত্যার অধিকার কেউ দেয়নি। এসবের কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তিনি গেছেন শিধুলীতে চেক দিতে। তাই প্রশ্ন উঠেছিল, সাধারণ মানুষ তার কোনো নিকটজনকে পায়ে পিষে হত্যা করে অনুদান দিলে তিনি কি খুশি হবেন? তিনি শিধুলী যেতে চেয়ে যাননি, তাতে মানুষ আরো ক্ষুদ্ধ হয়েছে। তিনি রাস্তাঘাটের নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেননি। আধুনিক জামানায়, মোবাইল অপারেটরদের বললে ওই রাস্তায় সেদিন হানিফের খুনি গাড়ির যাত্রীরা ওই ঘটনার পরপর ফোনে যে কথাবার্তা বলেছেন- সেটা ইন্টারসেপ্ট করেও গাড়ির সন্ধান করা বা চিহ্নিত করা কোনো ব্যাপার ছিল না। হাঁটুর বুদ্ধি নিয়ে আর যা কিছু হোক ভালোভাবে রাষ্ট্র চালানো যায় না।
বলি হারি যাই মানবতার মনুষ্যত্বের। হানিফের সেই দানবীয় গাড়িতে একটা মানবও কি ছিল না, যারা ড্রাইভারকে তিরস্কার করতে পারে, গাড়ি থেকে নেমে থানায় জানাতে পারে? আমি আহ্বান জানাব ঘাতক গাড়ির যে যাত্রীরা ছিলেন তারা যেন বিবেকের আদেশে অমন খুনি চালকের পরিচয় দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করেন। তারা না করলেও এই জঘন্য অপরাধ চাপা থাকবে না। আল্লাহর চোখে কোনো কিছু চাপা থাকে না। তিনি সবই দেখেন এবং জানেন।
- See more at: Click This Link
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×