চাঁদ জাগা শেষ চৈত্র রাত ছিল, নীম ফুলের সৌরভমাখা বসন্ত সমীরণে
কৃষ্ণচুড়া পালকের অনুভবে জড়িয়ে থাকা।
সুখ যেন আনন্দ নদীর স্রোত। মন যেন স্বপ্ন রঙিন ঘোড়া।
অনাবিল শিশিরকণার জল।
ধূয়ে মুছে ফেলা চৈত্র চড়কমেলার ঘূর্ণি পেরিয়ে, হালখাতার নতুন পাতা খোলার আয়োজন।
মিষ্টিমুখ আর সুদিনের প্রত্যাশা। যেন মৌমাছির বছর জুড়ে ভালোবাসা, বিন্দু বিন্দু মধু সঞ্চয়।
বড় জানতে ইচ্ছে করে, কিষাণবধুর দেহে নতুন শাড়ি কী উঠেছে তখন?
সাংবৎসর অপেক্ষার পর, মোগল সম্রাট, সালতামামির হিসাব যখন জুড়লেন ফসলের গায়ে, ঐতিহ্যময় সূর্যদোয়।
আজ মেলে দেই ডানা ভালোবাসার উৎসবে, পহেলা বৈশাখি সকাল
শুধু উৎসবটুকু জানি, জানি না ইতিহাস, উঠে আসা প্রচীন তিমির।
শুধু উৎসব টুকু জানি, কিনে ফেলি জোড়া ইলিশ হাজার টাকা ব্যয়ে
অথবা ঢেলে দেই গরম ভাতে পানি, পান্তার আয়োজনে।
দেখিনা তাকিয়ে পাশে শিশু অনাহারে কাঁদে, শীর্ণ শরীর উদোম গায়ে।
উৎসব হোক সবাই মিলে উৎসব হোক কিষান, মজুর, শ্রমিকের ঘরে।
উৎসব হোক এক সাথে ধর্ম নির্বিশেষে।
যেমন চাঁদ ও সূর্যের আলো ভালোবাসে, অগুনতি মানুষ পৃথিবী জুড়ে
যেমন ষড়ঋতু ফিরে আসে, হাসে বারেবারে।
যেমন ধূলায় বসা পথ শিশুটি থাকে আমাদেরই মাঝে।
পহেলা বৈশাখে তার মুখে উঠুক না হয় এক টুকরো ইলিশ,
লাল রঙ্গাফুল আর ঘুঙুর বাদনের মতন গাজনের গান হয়ে।
না হয়, নাই বা জুটল আমার পাতে।
বৈশাখি আনন্দের স্বপ্ন আর সুন্দরটুকু ঘিরে থাক আমাকে,
অনাবিল নীমফুলের মিষ্টি সুবাস আর কৃষ্ণডুড়ার লাল হয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৪ ভোর ৪:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



