somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

মানবতাময় হোক মানুষ

১৫ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকার কিছু সৈন্য ইরাকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে মানসিক বিকার গ্রস্ত হয়ে পরল। কারণ যুদ্ধ করতে গিয়ে তাদের হাতে কিছু সাধারণ নিরিহ মানুষও আহত এবং নিহত হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সময় ঘটনার দায় ভার তাদের না হলেও তারা স্মৃতি থেকে নিজের বিবেকের দায় কিছুতেই এড়াতে পারছিল না।
একটি মেয়ে আফিসার কিছুতেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছিলনা। কেবল মনে হতে থাকে সে একটি উঁচু দালানের উপর সয়ংক্রিয় মারণাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অফিসারের ওর্ডারের অপেক্ষা করছে। ট্রিগার টেনে দিলেই ছুটে যাবে অসংখ্য গোলা। আগুন লেগে যাবে, রক্ত আর কান্নার বন্যা বয়ে যাবে।
ওর চোখের সামনে একটি সুন্দর ছবি- মা এর কোলে শিশু, হাত ধরে পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে বাচ্চারা। হেঁটে, সাইকেলে দ্রুতগামী পথ যাত্রী, প্রতিদিনের জীবন যাপনে চলেছে। কিশোর হাতে বল, খেলতে খেলতে চলছে, বন্ধুদের সাথে হাসছে, গল্প করতে করতে। অসম্ভ সুন্দর এই দৃশ্যটিকে রক্তাক্ত করার জন্য অফিসার বারেবারে তাগদা দিচ্ছে পিছন থেকে এ্যকসনে যেতে। কিন্তু এই নিরহ সাধারন মানুষের উপর গুলি করতে ও কিছুতেই ট্রিগার টানতে পারছেনা। ও অস্খির হয়ে উঠে চলে এলো। অফিসার ওর দিকে রাগের দৃষ্টি হেনে নিজেই এগিয়ে গিয়ে গুলি শুরু করল। নিমিশে সুন্দর স্বাভাবিক মানুষগুলো বাচ্চা শিশু, নারী পুরুষ রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পরল কেউ নিথর কেউ ছটফট করছে।
মেয়েটিকে অনেক শাস্তি পেতে হয়েছে ওর্ডার পালন না করার জন্য। কিন্তু ওর মানবিকতা কিছুতেই সায় দেয় না। নিরিহ মানুষ মারার। অনেকে কাজের প্রয়োজনে আর্মিতে যোগ দেয়, ওর্ডার পালন করা ছাড়া তাদের কোন উপায় থাকে না।
মেয়েটি ঘুমাতে পারে না, খেতে পারে না। কোন কিছুতে তার কোন আগ্রহ নাই। কারো সাথে সহজে মিশতে পারে না। ডাক্তার আর ওষুধের পেছনে ইনসরেন্সের সব টাকা শেষ, নিজের খরচে তবু ওষুধ কিনে যাচ্ছে। অথচ ওষুধ ডাক্তর ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারছে না্। কিছুতেই কাটাতে পারে না ভয়াবহ স্মৃতির কালো ছায়া। একসময় সে আরো কিছু ওর মতন অস্বাভাবিক অস্থিরতায় পাগল প্রায় মানুষের খোঁজ পায়। ওরা সবাই নিজের অস্বাভাবিক জীবনের ছবি আঁকছিল। ওর নিজের জীবনে, আর্মি জীবনের বই, যে পাতায় শেখান হয় নির্দয় হতে, সেটা থেকে শুরু করে যত চিহৃ, কাপড় বুট, কাগজপত্র সব গুলো মিশিয়ে তা দিয়ে মণ্ড বানিয়ে ভাস্কর্য বানাতে শুরু করে। সবাই মিলে মিশে কাজ করে। শেয়ার করে ভয়াবহ সব স্মৃতি এবং তৈরী করে ভাস্কর্য, ছবি সকল কষ্ট ঢেলে। তাদের ছবির প্রদর্শনি হয়। জাতীয় ভেটেরান্স আর্ট মিউজিয়াময়ে ।অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া জীবনে খুঁজে বেড়াচ্ছিল সুস্থতার স্বস্তির পথ। কতটা স্বস্থি পেয়েছে জানিনা। তবে যুদ্ধর চেয়ে ছবি বা ভাস্কর্য তৈরী করা ভালো এটা তারা বুঝেছে। গতকাল একটা খবর দেখলাম গাজায় আক্রমণ করার জন্য প্লেন নিয়ে উড়ে গিয়ে মিশন শেষ না করে ফিরে এসেছ এক পায়লট। কারণ যেখানে বোমা ফেলতে হবে সেখানে ঘনবসতি। এটাই মানবতা এবং মানুষ অনুভূতি। অথচ কি সুন্দর দেখতে তিনটি কিশোরকে ধরে নিয়ে হত্যা করে ফেলল হিংস্রতায় আর তার জের দিয়ে ফুটফুটে সব বাচ্চা এবং সাধারন মানুষ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। এইসব হত্যাযজ্ঞ চালানো মানুষদের মনে মানবতা জাগবে কবে?
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×