আমেরিকার কিছু সৈন্য ইরাকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে মানসিক বিকার গ্রস্ত হয়ে পরল। কারণ যুদ্ধ করতে গিয়ে তাদের হাতে কিছু সাধারণ নিরিহ মানুষও আহত এবং নিহত হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সময় ঘটনার দায় ভার তাদের না হলেও তারা স্মৃতি থেকে নিজের বিবেকের দায় কিছুতেই এড়াতে পারছিল না।
একটি মেয়ে আফিসার কিছুতেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছিলনা। কেবল মনে হতে থাকে সে একটি উঁচু দালানের উপর সয়ংক্রিয় মারণাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অফিসারের ওর্ডারের অপেক্ষা করছে। ট্রিগার টেনে দিলেই ছুটে যাবে অসংখ্য গোলা। আগুন লেগে যাবে, রক্ত আর কান্নার বন্যা বয়ে যাবে।
ওর চোখের সামনে একটি সুন্দর ছবি- মা এর কোলে শিশু, হাত ধরে পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে বাচ্চারা। হেঁটে, সাইকেলে দ্রুতগামী পথ যাত্রী, প্রতিদিনের জীবন যাপনে চলেছে। কিশোর হাতে বল, খেলতে খেলতে চলছে, বন্ধুদের সাথে হাসছে, গল্প করতে করতে। অসম্ভ সুন্দর এই দৃশ্যটিকে রক্তাক্ত করার জন্য অফিসার বারেবারে তাগদা দিচ্ছে পিছন থেকে এ্যকসনে যেতে। কিন্তু এই নিরহ সাধারন মানুষের উপর গুলি করতে ও কিছুতেই ট্রিগার টানতে পারছেনা। ও অস্খির হয়ে উঠে চলে এলো। অফিসার ওর দিকে রাগের দৃষ্টি হেনে নিজেই এগিয়ে গিয়ে গুলি শুরু করল। নিমিশে সুন্দর স্বাভাবিক মানুষগুলো বাচ্চা শিশু, নারী পুরুষ রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পরল কেউ নিথর কেউ ছটফট করছে।
মেয়েটিকে অনেক শাস্তি পেতে হয়েছে ওর্ডার পালন না করার জন্য। কিন্তু ওর মানবিকতা কিছুতেই সায় দেয় না। নিরিহ মানুষ মারার। অনেকে কাজের প্রয়োজনে আর্মিতে যোগ দেয়, ওর্ডার পালন করা ছাড়া তাদের কোন উপায় থাকে না।
মেয়েটি ঘুমাতে পারে না, খেতে পারে না। কোন কিছুতে তার কোন আগ্রহ নাই। কারো সাথে সহজে মিশতে পারে না। ডাক্তার আর ওষুধের পেছনে ইনসরেন্সের সব টাকা শেষ, নিজের খরচে তবু ওষুধ কিনে যাচ্ছে। অথচ ওষুধ ডাক্তর ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারছে না্। কিছুতেই কাটাতে পারে না ভয়াবহ স্মৃতির কালো ছায়া। একসময় সে আরো কিছু ওর মতন অস্বাভাবিক অস্থিরতায় পাগল প্রায় মানুষের খোঁজ পায়। ওরা সবাই নিজের অস্বাভাবিক জীবনের ছবি আঁকছিল। ওর নিজের জীবনে, আর্মি জীবনের বই, যে পাতায় শেখান হয় নির্দয় হতে, সেটা থেকে শুরু করে যত চিহৃ, কাপড় বুট, কাগজপত্র সব গুলো মিশিয়ে তা দিয়ে মণ্ড বানিয়ে ভাস্কর্য বানাতে শুরু করে। সবাই মিলে মিশে কাজ করে। শেয়ার করে ভয়াবহ সব স্মৃতি এবং তৈরী করে ভাস্কর্য, ছবি সকল কষ্ট ঢেলে। তাদের ছবির প্রদর্শনি হয়। জাতীয় ভেটেরান্স আর্ট মিউজিয়াময়ে ।অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া জীবনে খুঁজে বেড়াচ্ছিল সুস্থতার স্বস্তির পথ। কতটা স্বস্থি পেয়েছে জানিনা। তবে যুদ্ধর চেয়ে ছবি বা ভাস্কর্য তৈরী করা ভালো এটা তারা বুঝেছে। গতকাল একটা খবর দেখলাম গাজায় আক্রমণ করার জন্য প্লেন নিয়ে উড়ে গিয়ে মিশন শেষ না করে ফিরে এসেছ এক পায়লট। কারণ যেখানে বোমা ফেলতে হবে সেখানে ঘনবসতি। এটাই মানবতা এবং মানুষ অনুভূতি। অথচ কি সুন্দর দেখতে তিনটি কিশোরকে ধরে নিয়ে হত্যা করে ফেলল হিংস্রতায় আর তার জের দিয়ে ফুটফুটে সব বাচ্চা এবং সাধারন মানুষ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। এইসব হত্যাযজ্ঞ চালানো মানুষদের মনে মানবতা জাগবে কবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




