আমাদের কোন কিছুই আর গোপন নয়। চলতে ফিরতে অফিসে, বাসে ট্রেনে, স্টেশনে, রাস্তায়, হাটবাজারে, এয়ারপোর্টে সব জায়গায় এখন আমাদের ছবি, ভিডিও ধারন চলছে সারাক্ষন। বাসে বসে থাকতে থাকতে, হাঁচি দিলাম কি নাক ঝাড়লাম, মুখ ভেঙচালাম, হাসলাম, কথা বললাম সব রেকর্ড হয়ে থাকছে।রাস্তায় জোড়ে গাড়ি চালানো হলো স্পিড সীমা অতিক্রম করে। ছবিসহ ফাইন চলে আসছে ঘরে।
আগে আমাদের ছবিগুলো সুন্দর করে এ্যালবামে সাজাতাম কাছের মানুষদের দেখানো হতো। এখন অনলাইনে আপলড করা হয় যার কোন প্রাইভেসি থাকে না। সবাই দেখে আবার কেউ নানা উদ্দেশ্যে ব্যবহার শুরু করে দেয়। আমাদের ই মেল ব্যবহার করতে হয়। এখন ইমেলে ফোন নাম্বার চায়। ফোন নাম্বার দেয়ার সাথে সাথে তারা নিদৃষ্ট করে জানতে পারে একজন মানুষের ঠিকানা নথিপত্র। আমার পরিচয় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আমার অজানায় কত জনার কাছে। বড়বড় গোয়েন্দা সংস্থা চোখ রাখছে সব অনলাইনের এ্যকাউন্টে। আবার মহা আনন্দে আপনি কোথায় কোথায় গেলেন, থাকলেন জানালেন বন্ধুদের, সবই ট্রেস হয়ে রইল আজীবনের জন্য। এখনের ফোন মানেই জিমেলে বা গুগলের সাথে লিং আপ। আর আপনার সমস্ত ফোনকল, থেকে চলাফেরার সব তথ্য জমা।
অপরাধী যেমন ধরা পরছে বিনাদোষেও অনেকে ভোগান্তিতে পরছে। অনলাইন তথ্যের জন্য। এক মহিলা বেড়াতে যাওয়ার খবর অনলাইনে দিয়ে বেড়াতে গেলেন ফিরে এসে ফাঁকা বাড়ি পেলেন্। আবার চুরি করা জামা গায়ে ফেইসবুকে ছবি দেয়ায় চোর ধরাও পরল।
এক সময় বাড়ির ফোন নাম্বার বিক্রি করত ফোন কোম্পানি অন্যদের কাছে। অার সারাদিন ব্যাপী, বানিজ্যের ফোন আসত বাড়িতে। জরুরী ফোন ভেবে ধরলেই শুরু হতো, ইনিয়ে বিনিয়ে বানিজ্য করার চেষ্টা। এইসব ফোনগুলো আসত আবার ভারত থেকে বেশীর ভাগ সময়। বড় বড় কোম্পানি গুলি অল্প পয়সার কলিং সার্ভিস রাখত অল্প পয়সায় অন্য দেশে। সারারাত কাজ করে যে মানুষটা সকালে ঘুমিয়েছে তার যদি ধরফর করে জেগে উঠতে হয় অনাকাঙ্খিত কোন ফোনে। তখন কেমন লাগে। ফোন রাখা হয়েছে ঘরে, যোগাযোগ রাখার জন্য অথচ ফোন হয়ে উঠছে বিজ্ঞপনের বাহন। কলিং সেবা আবার অনেক মানুষের জীবন জিবিকার ব্যবস্খা করছে।যা ঘরে থাকা মানুষটির জীবন অতিষ্ট করছে, অনুগত প্রাণি হয়ে সে কাজটি আবার করে যাচ্ছে কিছু মানুষ।
বিজ্ঞাপন ফোন ট্রেক করার জন্য আবার এক ধরনের ডিভাইস বিক্রি শুরু হলো। আমাকে বিক্রি করছে একজন, আমাকে আবার কিনতে হচ্ছে আরেকজনের পন্য তা থেকে বাঁচার জন্য। দুদিক থেকেই মোক্ষম শিকার বস্ত সাধারন মানুষ। দুহাত উজাড় করে টাকা ব্যয় করো ভালো থাকার জন্য ।
ইমেলটি দেয়া হলো কোন বন্ধুকে তিনি আবার ইমেল করলেন কয়েকজনকে সংযোগ করে। এভাবে অচেনা অজানা কার কার কাছে যে আমার ইমেল চলে যাচ্ছে তার খবর রাখা আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। মিলিয়ন ডলার একজনের ব্যাংকে জমা আছে ছেলেমেয়েরা সে টাকা উঠাতে পারছে না মানুষটি মারা যাওয়ার কারণে। শুধু আমার নামের সাথে সে মৃত মানুষটির নামের মিল থাকায় আমি সে ডলার উঠাতে পারব্। এমন উকিলদের মেল পেতে পেতে অস্থির হয়ে গেছি এক সময়। অনেকে ব্যাংক একাউন্ট ফোন নাম্বার দিয়েছে মিলিয়ন ডলারের আশায়, শেষে নিজের যেটুকু ছিল তাও হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। আইফোন জিতার জন্য কুইজে অংশ গ্রহণের আহ্বান আসতে শুরু করল এক সময়। পপ আপ বিজ্ঞাপন। আপনা আপনি অন হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। কুইজে অংশ নিয়ে আইফোন পাওয়ার আশায়, যারা ফোন নাম্বার দিয়েছে পরের বীলে অনেক বেশি বীল পরিশোধ করতে হয়েছে তাদেরও। আপনি উত্তর দিয়েচ্ছেন তার ব্যয় আপনাকেই মিটাতে হবে। সারা মাসের ব্যয়েরচে বেশী তাদের একটা উত্তরের খরচ। শুষে নিতে উস্তাদ যারা জানে তারা।
জনপ্রিয় ফেইসবুক চালু হওয়ার সাথে সাথে নানা উপহার, আর খেলা আসতে শুরু হলো। নিছক আনন্দে সে সবে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু যে কোন খেলা বা উপহার সাইটে ঢুকলে বলা থাকে সব তথ্যে ঢুকার অনুমতি দিতে হবে। আপনার সাথে সাথে আপনার সব বন্ধুদের তথ্য জোগাড় করে নিচ্ছে। যে কোন কিছু আপনি শেয়ার করতে চাইলে আরো বিশজনকে অনুরোধ পাঠিয়ে শেয়ার করতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যায় আপনি জানেন না অথচ আপনার নামে পোষ্ট যাচ্ছে বন্ধুদের ওয়ালে যার দায় হয়ত আপনি নিতে চাইবেন না । কিন্তু আপনি অনুমতি দিয়েছেন তাদের আগেই বানিজ্য করছে, যারা জানে তারা আর ভিকটিম হচ্ছে সবাই।আগে তবু আমি যোগ দিতে চাই কি চাইনা সে অপসন ছিল এখন দেখা যাচ্ছে জোড় করে ঢুকিয়ে নিচ্ছে। একবার ভুল করেও কোন কিছুতে ক্লিক হয়ে গেলে বেড়িয়ে আসার কোন পথ নাই। যেন ওয়ান ওয়ে জার্নি। আস্ক ডটকম নামে এমন একটা ঢুকে পরেছিল আমার ল্যাপিতে কদিন ধরে। অনেক সময় ব্যয় করে কাল বিদেয় করতে পারলাম। যেন সিন্দবাদের সেই ভুত। একবার ঘাড়ে চেপে বসতে পারলে হয়েচে আর নামা নামির নাম নেই।
প্রাইভেসি আবার কী সব কিছুই খোলামেলা এখন। আমাদের কোন কিছুই আর আমাদের নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




