ফেসবুকের সীমান্ত মনে হয় যেন খা খা প্রান্তর। ঠিক শুরুর সময় সেই দু হাজার সাতের মতন। যখন খুব বেশী মানুষ ফেসবুকে ছিলনা। ধীরে ধীরে দেখা হলো আত্মিয় বন্ধু অনেকের সাথে।
যোগাযোগ হলো সহজ। জানা হয়ে যায় প্রতি দিনের দিনলিপি পৃথিবীর সব প্রান্তরের। দেশের অজানা অচেনা মানুষের সাথে যোগাযোগ হলো। হলো ভালো বন্ধুত্ব। পাশাপাশি কিছু বিরক্তিকর মানুষের সাথেও দেখা হয় মাঝে মধ্যে। জমাট হাঁট বাজার বসল ফেসবুক জুড়ে। ফেসবুক কেন্দ্রিক নানা দল বেশ জমজমাট প্রিয় হয়ে উঠল। চেনা হলো সাহিত্য জগতের নবীনদের সাথে। প্রবীনের সাথে ছিল পরিচয়। তারা খুব সচল ছিলেন না অর্ন্তজালে। সময়ের সাথে অনেক মুখ দেখা যেতে লাগল নতুন প্রযুক্তিতে। ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি। দিনেদিনে প্রবিনরাও বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলেন ফেসবুকে।
আমার আত্মিয় মুরব্বী, আগের প্রজন্ম সবাই যখন ফেসবুকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবাই যখন এক সাথে জমায়েত হই ফেসবুকে ঘরোয়া আড্ডার মতন, অর্ন্তজাল আড্ডা বেশ আনন্দে সবাই উপভোগ করছি। ঠিক সে সময় দেশে ফেসবুক বন্ধ রাখার আদেশ। হুট করে যেন জরুরী অবস্থা সবাই ঘরে দরজা আটকে বসে আছে, যুদ্ধ অবস্থা। দরজা খুলে বাইরে আসা জটিল।
ভালোর সাথে মন্দের ক্রমাগত বিরোধ। মন্দ গুটি কয় মানুষের জন্য ভুক্তভূগি বিশাল জনগোষ্টি। ভালো প্রযুক্তি, চক্রান্তকারীর উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহরে সহজ সুযোগ হলো।
পৃথিবী জুড়ে যে ভাবে নৃশংসতা বেড়ে যাচ্ছে, ভুগছে সাধারন মানুষ । মন্দদের ধরার জন্য বা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য যদি মেনে নিতে হয় জরুরী অবস্থা, কিছুদিনের জন্য সবার সে বিষয়ে সহযোগীতা করা দরকার।
কিছুদিন আগে প্যারিসে গুলি করে মেরে ফেলল, একশ ঊনত্রিশ জন মানুষ, আহত তিনশ জন। যারা আনন্দরত ছিল নিজেদের মতন, কারো ক্ষতি না করে। তাদের জীবনে, তাদের পরিবারে নেমে এলো চরম বিপর্যয় ভয়াবহ পরিবর্তন। আক্রমণকারীকে ধরার জন্য বেলজিয়াম শহর সাটডাউন করে রাখা হলো। নিয়মিত সব কাজ বন্ধ পুরো পাঁচদিন। ঘরে বসে মানুষ ফেসবুকে যেন কিছু না লেখে সে বিষয়ে আদেশ জারী হলো। বেলজিয়ানরা, সবাই মিলে বিড়ালের ছবি পোষ্ট করতে লাগল দেশ জুড়ে ফেসবুকে, টুইটারে।
ঠিক কি কারণে কিছু চরম পন্থি মানুষ বোমা, চাপাতি, বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদের মারে নিজেরাও মরে। তারা এসব করে কি আনন্দ পাচ্ছে সে শুধু তারাই বলতে পারবে। এই তো গতকাল আবার ক্যালিফর্নিয়ায় চৌদ্দোজন চলে গেলে অন্য লোকে প্রতি হিংসার আক্রমণে। হাসপাতালে কাতরাচ্ছে আহতরা।
দেশে তিনজন বিদেশীকে মারা হলো। আরো কত রকম চক্রান্ত চলছে সে চক্রান্ত কারীরাই বলতে পারবে। আর বলতে পারবে সরকার যদি আটকাতে পারে চক্রান্তকারীদের।
ফেসবুক জুড়ে কিছু ভিডিও, লিংক ক্রমাগত ঘুরে বেরাচ্ছিল, সাধারন ফেসবুক ব্যবহার কারী ধর্মের লিং দেখেই ভালোবাসায় গদগদ হয়ে শেয়ার করে। তেমন কিছু হাসি অথবা মজার ভিডিও, কিছু নীতিকথা। কিন্তু তারা জানে না। ভিডিওগুলো কোন অসত চক্রান্তকারীর। কিছুদিন আগেই একজন বন্ধুকে সাবধান করেছিলাম এসব লিং শেয়ার না করার জন্য।
ভালো মানুষের লিংগুলো খুব কম নড়াচড়া করে কিন্ত অসতরা এমন ভাবে জাল বিস্তার করে, কোন না কোন ভাবে মানুষ.তাদের বিছানো চকচকে ফাঁদের চক্রান্তে আটকা পরে যায়। ধামিকরা ধর্মের জন্য। সাধারনরা হাসি আনন্দে,কিশোর কিশোরিরা ভালোসার। গুনিজনরা। নানা রকম কোটেশন বা ভিডিও লিংকে। আর এডাল্ট নামক আকর্ষন সবাইকে আকৃষ্ট করে।
জরুরী অবস্থা কাটিয়ে উঠে ফেসবুক আবার চালু হোক সুন্দরের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




