বর্তমান সময়ে বিয়েটা মেয়েদের জন্য খুব জরুরী নয়। অনেকদেশে মেয়েরা কর্ম যজ্ঞে জড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এতই ব্যাস্ত যে বিয়ে করার সময় করে উঠতে পারছে না। ভালোবাসা পাওয়ার জন্য টিন এইজের ক্রেজ সময় পার হয়ে গেলে বিয়েটা আর গুরুত্ব পূর্ণ থাকে না। অনেকে ভালোবাসে সে ভালোবাসা দীর্ঘ স্থায়ী হয় এবং বাংলাদেশের মানুষের মতন তারাও দীর্ঘ সুত্রের সম্পর্ক স্থাপন করে বাস করতে চায়, করেও। অনেকে সফল জীবন যাপন করে এক দাম্পত্য জীবনে।
বিভিন্ন দেশে বিয়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মেয়েদের সচেতনতা এবং নিজ ক্যারিয়ারে ব্যাস্ত জীবনের জন্য।
বাংলাদেশে মেয়েদের জীবন বিয়ে কেন্দ্রিক এবং বিয়ে হবে এই চিন্তা চেতনা নিয়ে মেয়েরা বড় হয়ে উঠে। পড়ালেখা করে ডিগ্রীধারী হলেও চাকরি করলেও বিয়ে করে সংসার করবে। সে বিয়েতে বিশাল জাকজমক বৈভব হবে এই মানসিকতার বাইরে চিন্তা খুব কম। পরজীবী হয়ে থাকার মনমানসিকতায় আস্ট্রেপৃষ্টে ধারন করে থাকে।
অল্প কিছু মেয়ে সাবলম্বী এবং নিজের মতন স্বাধীন জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। এই মেয়েরা সমাজের চক্ষুশূল। বিয়ে করলেও এরা সাতন্ত্র বজায় রেখে নিজের মতন চলতে পছন্দ করে। যা সমাজ ব্যবস্থা বিবাহিত জীবনে স্বামী এবং পরিবার কেউ সহজে মানতে পারেন না।
এ সব মেয়েদের বিয়ে টিকে না অনেক সময়; মতের তারতম্যের জন্য্ । মেয়েটির সচেতনতা পুরো দায়ী এজন্য। নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট নিয়ে দেখা হয় বিষয়টা। একজন নারীর সচেতন মানসিকতা প্রাধান্য দেয়ার চেয়ে। একজন নারীকে মানুষ হিসাবে দেখার চেয়ে।
পুরুষদের ধারনা স্বামী হিসাবে থাকা খাওয়া পরা দেয়ার বিনিময়ে তাদের সব রকম খায়েস ইচ্ছা পুরনের জন্য তারা বিয়ে করে একজন বউ এনেছে। বউ শুধু স্বামীকে নয় স্বামীর পরিবারের সবার দেখভাল করবে। নারীটি যদি চাকরিও করে, তা হলেও তাকে চাকরি থেকে ফিরে রান্না খাওয়ানো, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, বাচ্চা দেখা, ঘরের যাবতিও কাজ করবে। স্বামী ঘরে ফিরে কেবল রিলাক্স করবে। টিভি দেখবে পত্রিকা পড়বে। অথচ মেয়েটি বিয়ের আগে বাবার বাড়িতে হয় তো কিছুই করত না। ছেলেটি যেমন ঘরের কাজ কিছু করতে পারে না মেয়েটিও তেমনই আনকোড়া। কিন্তু সামাজিক ব্যবস্থা মেনে মেয়েটির ঘাড়ে সব বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় বিয়ের পর পরই।
মানতে মানতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় সব ইচ্ছার জ্বলাঞ্জলি দিয়ে সংসার ধর্ম পালন করে যায় মেয়েরা মুখ বোজে। সমাজ পরিবার এবং ধর্ম ও অন্য যে কোন অপবাদ না পাওয়ার ভয়ে।
এই যে বউয়ের উপর সব কিছু চাপিয়ে দেয়ার মানসিকতা। এ থেকে মুক্তি দরকার।
অনেকে শুরুর লাইনটা পড়ে ভাববেন। তাহলে বায়োলজিক্যাল নিডের কি হবে! সাম্প্রতিক এক গবেষনায় জানা গেছে জাপানে ছেলেরাও বিয়ে করতে আগ্রহি না এখন। ছেলেরাও কাজ নিয়ে এত ব্যাস্ত যে শারীরিক প্রয়োজন অনুভব করে না। আর জাপানি মেয়েরা তো অনেক আগেই বিয়ে থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। আসলে বিয়ের আগে অলিক কল্পনায় যত জৈব প্রয়োজনের কথা ভেবে মাথা নষ্ট হয়। একটি বউ পাওয়ার চিন্তা ব্যাস্ত করে। বিয়ের পর কিন্তু সে প্রয়োজনের গুরুত্ত ছেলেরাই হারিয়ে ফেলে, সাংসারিক কিছু দায় দায়িত্ব পালনেই ব্যাতিব্যাস্ত থাকে। কাজের চাপে ডুবে থাকা বউটিকেও আর তাদের ভালোলাগে না। বউয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন দামও থাকে না তাদের মনে। তখন অনেকে জড়িয়ে পরে পরকিয়ায়।
আবার অন্য দিকে শরীর নিয়ে ভাবতে বেশী অভ্যস্থ নয় বাংলাদেশের নারীরা। এ বিষয়টা গোপন করে রাখতে হয় জেনেই বড় হয়। এবং অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের প্রথম রাতে একজন অপরিচিত মানুষ যার সাথে বিয়ে হলো তার কাছে মন বিনিময়ের আগেই ধর্ষিতা হয়। স্বামীর অধিকার জেনে কোন প্রতিবাদ করা যায়না। কিছু বললে, হাসির পাত্রীই হবে সে সবার কাছে। প্রাত্যাহিক ব্যবহারে ক্রমশ বিষয়টা সহজ এবং দাম্পত্যে বিষয়ের সাথে জড়িত জেনে নারীদের শরীর জাগে, মনে ইচ্ছা জাগে। তখন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলে তারা আবার বেলজ্জ বেশরম আখ্যা পায়। মেয়েদের কোন বিষয়ে মুখ খুলতে নেই । সব কিছু সহ্য করে যেতে হবে ধরিত্রি হয়ে। এমন প্রত্যাশা থাকে পুরুষের এবং সমাজের। আর এমনটি হতে পারলেই নারীরা হন বড় ভালো মহিমাময়ী। সাত চড়ে রা নাই যার মুখে সেই ভালো। কিন্তু মারলে কি লাগে না? এ বিষয়টা কারো মনে আসে না। যেন মানুষ তো নয়ই, মেয়ে মানুষ একটা রোবট। খেলনা পুতুল।
অন্যদিকে মেয়েরা যদি শরীর ভোগের জন্য স্বামীর অবহেলার কারণে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরে তা হলেও মেয়েদের দোষ।
কিছুদিন আগে একটা খবর পড়ে কয়েকদিন ধরে অস্বস্থি নিয়ে আছি। ঘটনাটি ঘটেছে দুবছর আগে যেদিন আমি খবরটি দেখলাম সেদিন কোর্টের রায়ে শাস্তি হয়েছে । একটি মেয়ে যার বয়স উনিশ সে তার বাচ্চাকে মেরে ফেলে এবং বাক্সে লুকিয়ে রেখে পরীক্ষা দিতে যায়। কারণ তার সেদিন গুরুত্তপূর্ণ একটি পরীক্ষা ছিল। ঘটনাটি কানাডার ভ্যানকুভারের। যেদেশে বাচ্চা না চাইলে অন্যকে দিয়ে দেয়া যায়। সরকারি ভাবে নানা ব্যবস্থা আছে। হয় তো মেয়েটি এত নিয়ম জানত না। প্রকৃতিক নিয়মে বাচ্চার মা হযে পরে যে বাচ্চাটি তার ক্যারিয়ারের অন্তরায়। একটি উন্নত দেশে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশে এখন প্রায় এধরনের খবর শোনা যায়। ডাষ্টবিনে বাচ্চা, সদ্যজাত বাচ্চা ফেলে মার পালিয়ে যাওয়া। এমন কি বাচ্চার হত্যার মতন ঘটনাও ঘটছে।
এজন্য ধিক ধিক পরে যায় ঐ নারীর উদ্দেশ্যে, লান্যত করে রব উঠে চারপাশে। মাতৃজাতের কলংক নারীটির জন্য কারো মনে করুণা জাগে না। তাকে পারলে ঢিল ছুঁড়ে বা ডাইনি আখ্যা দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে মারতে পারলেই খুশি হয় জনতা।
প্রাকৃতিক কারণে নারীরা শিশুধারন করে জঠরে। নিয়ম মতন মাতৃস্নেহ কাজ করে সবারই মনে। কিন্তু পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বা তার মনের গঠন প্রাণালীতে সে যদি বাচ্চার দায় বহনের পরিণত মনোভাবের না হয়ে বাচ্চাকে তার জীবনের বোঝা মনে করে ফ্রি জীবন যাপন করতে চায়। তাহলে কি তাকে দোষ দেয়া যায়?
পুরুষরা বাচ্চা চায় বাচ্চা উৎপাদন করতে নারীদের ব্যবহার করে কিন্তু বাচ্চার দেখভাল যত্ন কতটা সর্বত ভাবে পালন করে। মাঝে মধ্যে ধমক এবং কিছু টাকা পয়সা দেওয়া ছাড়া।
ব্যাতিক্রম সব ক্ষেত্রেই আছে। এ প্রজন্মের যারা এখন বিয়ে করার কথা ভাবছে। তারা কত জন বলতে পারবে বাবার আদর সোহাগ পেয়ে বড় হয়েছে শাসন ছাড়া। বাবা মানেই ভয় এবং এটাও সমাজের নিয়ম। পুরুষ যদি বাচ্চা দেখা শোনা করে বা বউকে বেশী সোহাগ করে সে লোকটা কেও নানা রকম টিটকারি শুনতে হবে। অথচ ঐ লোকটি সঠিক কাজ করে।
কতজন মনে মনে ঠিক করে রেখেছে, বাচ্চা জন্মানোর প্রথম দিন থেকে বুকে করে আগলে রাখবে, রাত জেগে কান্না সামাল দিবে। বউকে, বাচ্চার মাকে ভালো করে ঘুমাতে দিবে।
বাংলাদেশের মেয়েদের যখন এমন সামাজিক চাপের মুখে থাকতে হচ্ছে সব দিক দিয়ে। তখন হঠাৎ কখনো কেউ যদি আঠারো বছরের কম বয়সে গর্ভবতি হয়ে যায়। তাদের যেন সেই অকর্ম করা লোকটির সাথে বিয়ে দিয়ে তথাকথিত সমাজের মুখ রক্ষা করা হয়। অবৈধ বাচ্চা হবে বলে, এই অবাস্তব একটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বিয়ের বয়স তের করা শুধু পিছন পানে চলাই নয়। মেয়েদের সামাজিক অবস্থানকে আরো দূর্বল করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হলো। একটি মেয়েকে দৃঢ় ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ না করে দিয়ে বিয়ের বন্ধনে বেঁধে মুখ বন্ধ করে দেয়ার আইন করা হচ্ছে। বাচ্চামেয়ের সাথে অবৈধ শারীরিক মিলনকেও যেন সমর্থন করা হচ্ছে। যা মেয়েদের আরো ভুগান্তিতেই ফেলবে।
এখনও অনেক অভিভাবক মেয়েদের অন্দর মহলে বন্দি রাখতে এবং শিক্ষা না দেয়ার পক্ষপাতি। তাদের হবে পোয়া বারো। মেয়ের বয়স দশ হলেই পাত্র খুঁজতে শুরু করে দিবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




