somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

প্রযুক্তি কাব্যময়

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথা ছিল শুধু আড্ডা হবে তোমাদের সাথে।
তোমাদের জমজমাট অনুষ্ঠানটি শেষ হলেই আমরা বেরিয়ে পরব পুরানো স্মৃতি রোমন্থনে।
দুপাশে জারুল কৃষ্ণচূড়ার সারি লালপাপড়ি বাঁধানো পথ মাড়িয়ে অনেক দূর হাঁটব আমরা,
বসব বকুলতলায়।
একটু একটু করে খুলব পুরানো ঘ্রাণ মাখা স্পর্শগুলো,
উড়াব শিশিরের মোড়কে থাকা কেয়াপাতার জল।
মসলিনে বাঁধা ফাইলপত্রের ঝাঁপি অনেকদিন যা বাঁধা আছে সোনালি ফিতায়।
তোমাদের অনুষ্ঠানটি বড্ড ঝুলে পরেছে। এত কথার কি আছে বাবা।
জন সম্মুখে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ, উসল হচ্ছে সুদে আসলে!
এই আসতে পথে দেরী হয়ে গেলো থেকে আমি তো বলার জন্য তৈরী নই ,গাই গুই কত কি
দু একটা ছোট কাশি। এদিক ওদিক চাহুনি। সামনে বসে থাকা বন্ধুদের নাম বলা।
কোন এক সন্ধ্যায় ভুল করে কোন লেখক কি বলেছিলেন ।
এই সব ঝিমধরা কথা, টেনে টেনে বের করার চেষ্টা, জাবর কাটার মতন।
তারপরও মঞ্চ ছেড়ে নামার ইচ্ছা দেখিনা। যদিও ইচ্ছেই ছিল না মঞ্চে যাবার!
সাহিত্য অলোচনায় এমন শব্দাবলী কি পরম প্রতাপ রাখবে বুঝে পাইনা।
ঝিম ধরা দুপুর বিকেল রঙে রাঙ্গা হয়ে উঠেছে অনেক্ষণ বুঝতে পারি,
যদিও বন্ধ ঘরে, বৈদ্যুতিক বাতির তলায় আছি।
মনটা উসখুশ করছে বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে তোদের নিয়ে উড়তে
শেষ বিকেলের আলোর চাদর গায়ে জড়াতে।
অথচ এই আধোছায়া ঘরে, নিঃশ্বাস শব্দের ঢেউ-
ম্যারাথন কথার ঝাপটা- চলছে তো চলছেই।
এখন আমার হিসাব নেই আর কজন এলেন গেলেন, কি বললেন।
শুধু ভাবছি , চৌকাটা আলপনা আঁকা, পাতার কারুকাজ
মহুয়াবনে শীষ। দেবদারুর ফাঁকে চাঁদ আর ..আর এক জোড়া চোখ
নিরবধী চেয়ে থাকা। কখনো বলতে না পারা কিছু কথা নিয়ে-শীতল থেকে শীতল হয়ে যাওয়া।
থৈ থৈ জোৎস্না ভাসা চরাচরে নিমগ্ন আমি, অনেক দূরে এই সভা থেকে
দুজনে প্রজাপতির ডানায় নাচছিলাম যেন।
খয়েরি ডানার পালক ঢেকে দিচ্ছিল আমাদের
ভালোলাগার ছোঁয়ায় সব কথা থেমে গেছে বিভোর মুগ্ধতায়,
আর ঠিক তখনই, তন্দ্রা ভেঙ্গে জেগে উঠলাম ঘরঘরে মাইক থেকে কর্কশ ডাক, আমরই নাম ধরে।
মঞ্চে যেতে হবে কবিতা আবৃত্তি করতে।
আমি, আমি কেন?
আবৃত্তি আমার আসে না।
আমি তো শুনতে এসেছি আর আপেক্ষ করছি, তোদের সাথে বেরিয়ে যেতে সুদূর স্মৃতির রোমন্থন সমুদ্দূরে।
আমি তো তৈরি নই কবিতা পড়ার জন্য।
স্বরচিত!! তুমুল ধ্বনী তুলে ডাকছে-
কেউ জানে না লেখার এক বিন্দুও মনে থাকে না লেখা শেষে।
ভাবনার জোয়ারে- ঊর্মি তরঙ্গ ঘূর্ণি স্রোতে ভেসে যায় সব।
কিচ্ছু মনে থাকে না কিচ্ছু না। শূন্য বিরান চরাচর খুবলে খায়।
অথচ সব আমাকে নিয়ে পরেছে।
এখন আমি কি করি? তানা না না শব্দের ধ্বনী নিয়ে খেলব!
এই এতক্ষণ যেমন শুনছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমিও এই খপ্পরে হা বিধাতা!
নাছোড়ের দল আমার পিত্তি জ্বালাবে।
কাগজ বিষয়টা হারিয়ে গেছে জীবন থেকে।
যদি ভালোবাসার স্মৃতি বিজড়িত ডায়রি খানা সাথে থাকত অথবা একটা বই।
না দেখে একটি শব্দ বলতেও আমি অপরাগ।
অথচ ওরা বলছে কবি ইচ্ছে করলেই শব্দের খেলায় মাতিয়ে দিতে পারে।
হয় তো কেউ পারে আমি নই। মাথার ভিতর শূন্য থেকে আরো শূন্য হয়ে যায়
যেন বায়ুমণ্ডেলের মাঝে মেঘের চলাচল। জোট বেঁধে ঝড় তুলতে সময় লাগবে।
অথচ শব্দ যন্ত্র হাতে দর্শকের সামনে দাঁড়াতে হবে এখনি।
প্রযুিক্ত! হঠাৎ শব্দটা মাথায় আসে। তখনই আমি খুঁজে পাই দিশা।
শূন্য মাথায় বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। মুঠোফোনে জমা আছে কবিতা
শূন্য কাগজে লেখা খুঁজে দাঁড়ালাম মাইক্রফোনের সামনে
অতপর শব্দগুচ্ছ ছুূঁড়ে দিলাম একে একে প্রযুক্তির সঞ্চিত শূন্য ভাণ্ডার থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×