
পথে না বেরুলে দেখা হয় না অনেক কিছু। সন্ধ্যার মুখমুখি তুষারপাত আর প্রচণ্ড বাতাস উপেক্ষা করে বেরিয়ে পরলাম উত্তরের পথে। যত এগুলাম ততই আবহাওয়া আরো বেশী উত্তাল হতে থাকল। কখনো রাস্তা ঢেকে যাচ্ছে উড়ন্ত বরফে। বরফের ঢেউ জাগছে পথের উপর। উড়ন্ত বাতাস রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে যেতে যেতে গড়ে দিচ্ছে বরফের বালিয়াড়ি।
একসময় গন্তব্যে পৌঁছালাম। গাড়ি থেকে নেমে বরফ ঢাকা জমিনে পা দিতেই কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ হতে থাকল। উপরে নরম বরফ কম্বল, নীচে শক্ত হয়ে যাওয়া বরফের মোজাইক । ঠাণ্ডা তেমন তীব্র নয়। কিন্ত চারপাশ কি অসম্ভব সুন্দর। এই রূপের কোন বর্ণণা করা য়ায় না। শুধু দিগন্ত ব্যাপী মায়াবী আলোর বাঁধনে বাঁধা পরে কাটিয়ে দিলাম সারারাত। রূপালি পূর্ণিমা- রঙ দৃষ্টিসীমা জুড়ে যেন বাজাচ্ছে অলৌকিক তানপুরা। স্নিগ্ধ সতেজ ভালোবাসার মতন। তার সাথে উত্তাল ড্রাম বিট হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ছিল ন্যাড়া ডাল গুলো। আর আমার মুগ্ধ চোখ সুদূরের পানে এক মধুর আবগাহনে জড়িয়ে ঘুমহীন প্রেমের বাঁধনে।
চারপাশ সাদা আকাশ থেকে জমিন দারুণ এক স্তব্ধতা
টুকরো পৃথিবীর সীমানায় সীমাহীন মানুষের সুখ আবাস
অনন্ত ভালোলাগা জড়িয়ে থাকে উসুম চাদরে আপন মনে
কণির্য়ার আলো জ্বলে দ্বিধাহীন সীমানা পেরিয়ে অথচ
বেঁধে দেয়া কাঁটাতার পেরুতে দেয় না এক ইঞ্চি জমি।
হুড়মুড় শব্দ হচ্ছে থেকে থেকে। ভাবছি কে এলাে, বাইরে তাকিয়ে দেখি বাতাস এসেছে প্রচণ্ড বেগে, শুয়ে থাকা বরফদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা দৌড়ে পালাচ্ছে। যেতে যেতে অন্ধকারে ঢেকে দিচ্ছে চোখের দৃষ্টি। ঝাপসা ধূষর রঙ ঘিরে আছে আমাকে। অলস মুটু বরফরা মাটি জড়িয়ে, গড়িয়ে চলেছে বাতাসের তাগদায়। ভাজের পরে ভাজ ভাজ জড়ানো কম্বল যেন গড়িয়ে যাচ্ছে পথ ঘাট ঢেকে দিয়ে। আচ্ছন্ন হয়ে দেখছি চেনা প্রকৃতির বদলে যাওয়ার দৃশ্য।
অতঃপর রোদের ঝলক তানপুরার সুরে ডাকছিল। ঘরে থাকা গেলো না। পায়ে পায়ে হিমঠান্ডা উপেক্ষা করে খানিক গড়াগড়ি খেলাম সাদা বালুর পাহাড়ে। ঢেকে ছিল একটি মানুষ তার মাঝে মুখ তুলে তাকাল আমার দিকে।
দুজনে হেসে উঠলাম বাতাস কাঁপিয়ে। চুপচাপ বসে থাকা প্যাঁচা বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে থাকল অবাক দৃষ্টি মেলে।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



