somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

হেনরির হাতুড়ি..

০২ রা মে, ২০১৭ ভোর ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রমিকের শ্রম অধিকারের দিন মে দিবস। মাত্র আশিটি দেশে পালিত হয় পহেলা মে তে। বাকি কিছু দেশ পালন করে পহেলা সেপ্টেম্বরে।
শিকাগো শহরে সমান মজুরীর দাবীতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে, বোমা ছূঁড়ে ম্যাসাকার করা হয় ১৮৮৬ র ৪ই মে।
অনেক নিয়ম,জারী দিবস পালন চলছে। কিন্তু কর্ম ঘণ্টার হিসাব, কতটা সম বণ্টন হয় এখনও, পায় সুযোগ, সুবিধা, সমান অধিকার নারী ও পুরুষ। এই তো মে দিবসের কয়েক দিন আগে অসংখ্যা প্রাণ নিভে গেলো পোষাক তৈরী করতে করতে, ভবন ধ্বসে। আবার কারখানার পুরানো মেশিন ব্রাস্ট করে। এ ভাবে শ্রমিকরা মরে নানা ভাবে খনিতে বন্দী হয়ে। এখনও তারা কতটা পায় সঠিক বেনিফিট। অক্ষম হয়ে গেলে বা জীবন শেষ হয়ে গেলে তার পরিবার। বেনিয়া কম ব্যয়ে লগ্নিকৃত পূজির অধিক আয়ের বিষয়ে সব সময় চোখ খোলা রাখে তাই। আর সব খরচে বাঁচাতে না পারলেও চেষ্টা করে শ্রমিকের মজুরি থেকে বাঁচানোর।
কাল খবরে দেখছিলাম ইটের ভাটায় কাজ করা মহিলা পায় ২৫০ টাকা অথচ পুরুষ পায় ৫০০ টাকা অথচ সমান পরিশ্রম দুজনই করছে। এই যে ঠকানোর নানা ঝল চাতুরি নারী শ্রমিক বলে তাদের বেতন কম এ সব কিছুই কর্পোরেটের নিজের আয় বাড়ানোর জন্য করা হয়।
এখনও কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য সুন্দর পরিবেশ। গর্ভবতি নারীদের ভাতা ছুটির সুযোগের। ১৮৮৬ থেকে পৃথিবীর বয়স বেড়েছে একশ বছরের বেশী।
কঠিন কঠিন, ভারী কাজগুলো যারা পরিশ্রম দিয়ে করে তাদের আয় সব চেয়ে কম। একর একর জমির প্রতি ইঞ্চি জমিতে লেগে থাকে কৃষকের ঘাম, ভালোবাসার হাত অথচ অর্থ আয় করে সব চেয়ে কম। তার ফলনের মধু খায় সুদৃশ্য ডির্প্টামেন্টাল ষ্টোর। কালি ঝুলি কল কারখানার বিষাক্ত বাতাস ফুসফুসে টেনে আয়ু ক্ষয়ে শ্রমিক, তৈরী করে যন্ত্রপাতি,উপভোগ করে প্রচুর্যের অধিকারী। কয়লার কালি মেখে তুলে আনা হীরা কখনও শোভা পায় না শ্রমিকের দেহে। ঝুড়িতে বোঝাই মাছ, গোশ, তরিতরকারীর, সদাই মাথায় বয়ে নিয়ে চলে মিনতি, তার পাতে কি জুটে কে খবর রাখে। মে দিবস পালিত হয় সমাবেশে সমারোহে।
বিদেশে কারখানায় আহত বা নির্যাতিত শ্রমিকের জন্য অবসরকালীন অবসর এবং পেনশন সুবিধা, মৃত্যুর বেনিফিট, জীবন বীমা পরিকল্পনা সহ অক্ষমতা সুবিধা অসুস্থতা সুবিধা, দুর্ঘটনা বেনিফিট; এবং মেডিকেল, হাসপাতাল, নার্সিং, ড্রাগ বা ডেন্টাল সুবিধা। ইত্যাদি অনেক কিছু থাকার পরেও সব টুকু বেনিফিট সবটুকু পাওনা আদায় করার জন্য নানান দক্ষ আইনি সংস্থা রয়েছে।
তাদের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। এবং তরা বিনা অর্থে সে কাজ করে আদায়ের শেষে অর্ধেক মতন অর্থ নিজেরা আত্মসাত করে নেন। শ্রমিকরা সেই একই অল্প টাকায়ই পায় যা হয়ত মালিক পক্ষ আপোষে দিতে চেয়েছিল।
এছাড়া বড় বড় চেইন ফাষ্টফুডের দোকানগুলো যেখানে সাধারনত দিন রাত মানুষের সমাগম হয়। সেখানে অল্প বয়সের নতুন শ্রমিক বা নতুন আগত উপায়হীন অভিবাসিরা নিজের যোগ্যতার চেয়ে নিম্নমানের একটি কাজ নিয়ে নেন। বেঁচে থাকা বা জীবন ধারনের প্রয়োজনে। এখনে বেশীর ভাগ শ্রমিক পার্মানেন্ট না। কয়েক বছরের পর ছাত্ররা নিজের যোগ্যতায় ভালো কাজে চলে যায় প্রথম জীবনের সৌখিন কাজ ছেড়ে। আর অভিবাসিরাও চারপাশ চিনে নতুন করে নিজেদের ক্যারিয়ার খুঁজে চলে যান অন্য রকম কাজে। কাজেই এই সব ব্যবসাগুলোকে কখনো পেনসনের টাকা বা অন্যন্য সুবিধা দিতে হয় না শ্রমিক দের। অনেক বছর কাজ করলেও খুব একটা সুবিধা পায় না শ্রমিক।
অনেক বড় কোম্পানি পুরাতন একজন চাকরিজীবীকে ছাড়িয়ে দিতে ভাবে কয়েকবার। অনেক বড় অর্থের লেনদেন হিসাব থাকে।
সুবিধা আসলে যারা বড় অবস্থানে যেতে পারে তাদের জন্য সর্বত্র। শ্রমিক এখনও অনেকটা আন্দোলন রত। তাদের মিনিমাম আয় ঠিক রাখার জন্য। সেই সাথে ভয়ে থাকে যে কোন সময় কাজ হারানোর।
গেল মাসেই টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা শাখার টিমর্হটনের কর্মিরা আন্দোলন করছিল তাদের বেতন সরকার নির্ধারিত মিনিমামের চেয়ে কম থাকায়। অথচ কর্মিরা বেশীর ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। যাদের অনেক কষ্ট করে পড়ালেখার সময় কেটে কাজ করতে হয়েছে দুটো অর্থ পাওয়ার জন্য। বৈষম্য মনে হয় চলবেই সর্বত্র।
মে দিবস পহেলা মে বা পহেলা সেপ্টেম্বর পালিত হবে। ফকির আলমগীর হেনরীর হাতুরি গান গেয়ে যাবে। বিশ্ব জুড়ে অনেক কথার ফুলঝুরি হবে দিনটাকে ঘিরে। যাদের জীবন কষ্টের তেমনই থাকবে তারা। কোন পরিবর্তন আসবে না সেখানে
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৬
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×