somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

আকাশ দিগন্ত

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঠিকানা জানতে চেয়েছিলে। বালুকাবেলায় লিখে রেখেছিলাম। জোয়ারের জল ধুয়ে নিয়ে গেছে। জলপাই বনের সীমানা শেষ হলে ধানী জমি ডানে রেখে হাঁটতে থাকবে সামনে । ভয় পেওনা, পিছন ফিরে দেখ না। এগিয়ে যেতে হবে দৃঢচেতা পদক্ষেপে।
যেখানে ত্রিনেত্র নদীর সঙ্গম, সেখান থেকে বায়ে বেঁকে বাঁশবনের নিচ দিয়ে, অনেকটা মেঠো পথ পার হতে হবে। জমির ফসল হাসবে তোমাকে দেখে। আনন্দটুকু শুষে নিও, সঞ্চয়ে রেখো।
সূর্য লাল টিপ পড়ে হাসছে, দিগন্ত বরাবর চোখ রেখে সোজা যেতে হবে। শিমুলের বন পেরিয়ে, ধূধূ মাঠ। বটপাকুড়ের পাশ কাটিয়ে আরো দূরে হাঁটতে হবে। গা শিরশির ভয় জাগতে পারে, মন খারাপ না করে মনোবল ঠিক রেখে এগিয়ে যেও। খুব বেশী ক্লান্তি পেয়ে বসলে, খানিক জিরিয়ে নিতে পারো।
পেছনে চাঁদের আলো মেলে রাখবে চোখ, নিশি গন্ধা ফুলের ঘ্রাণে মন উথাল পাতাল করবে। হারিয়ে যেওনা ফুলের গন্ধ অনুসরণ করে। পাতার খসখস শব্দ , রাতের কথা গুঞ্জরণ তুলতে পারে; আনন্দিত না শিহরিত হবে তা তোমাকেই ভেবে নিতে হবে। কুহুক মন জ্বলতে পারে আগুনের শিখার মতন। হারিয়ে যেতে পারে ভাবনা। শূন্যতা ভর করে বিচলিত করতেই পারে অনুভব।
মিটিমিটি তারা জ্বলবে ভালোবেসে। দু একটা জোনাকি আলোর গান গেয়ে উঠবে। শনশন বাতাস কথা বলবে কানে কানে। এসবের মাঝে হৃদয়পুর জেগে থাকবে, ভাবনার আগল হাতে ধরে। কোনটা বেশী প্রয়োজনীয়। ঠিকানা খুঁজে এগিয়ে যাওয়া নাকি ফিরে যাওয়া পেছনের পথে। আলৌকিক পদধ্বনী বিমূর্ত ভাবনাগুলো অনেক রকম স্তর এনে দিবে বাঁকের সামনে না পিছনে কোন দিকে! দ্বিধান্তিত খণ্ডিত মন, হতেই পারে দ্যোদুল্যমান.......তারপরও
ঘুরে দাঁড়িও না। পিছনটা মুছে গেছে ততক্ষণে।কিছুই আর আগের মতন পাবে না। ভয়ে অন্তরআত্মা খাঁচা ছাড়া হতে পারে। এমন অভাবনীয় দৃশ্য দেখে। এটাই ভালো হবে সামনের পথে এগিয়ে যাওয়া। যতদূর যাও, ঠিকানা না পাও, নতুন কোন খিড়কি বা দরজা এর মধ্যে খুলে যেতে পারে। কুঁড়ে বা প্রাসাদের দেখা পেতেও পারো। নদীর পার ধরে হাঁটলে অনেকটা বাঁক ঘুরতে হবে। পাহাড় ডিঙ্গাতে চাইলে ঢাল বেয়ে নামতে হবে। দু দিকেই যেতে পার। এক সময় নগরটা তোরণ খুলে অপেক্ষা করবে তোমার আসার। ভালো হয় যদি খুব ভোরে পৌঁছাতে পারো। শুভ সূচনা ভোরের সাথেই হয়। শহরের রাস্তাগুলো সাজানো হবে, ঝাঁট দিয়ে চলে যাওয়ার পরে। তখনও সুপ্তির কুলে অনেক মানুষ। কিন্তু তাদের জন্য তৈরি করছে সুন্দর, ক্লিষ্ট কিছু মানুষ। যদিও তাদের ঠিক মানুষ ভাবা হয় না। একদল ফিরে যাচ্ছে সারা রাতের ক্লান্তি নিয়ে। একদল সাজিয়ে তুলছে নতুন প্রভাত। সুখের মানুষগুলো দিন শুরু করবে বলে।
দিনটা সুন্দর হবে এমনই ভাবনা। কিন্তু তা হতে পারে আকাশের মতন উদার বা সমুদ্রের মতন উত্তাল। হতে পারে গহীন অন্ধকার বা তুমুল ঝড়ের।
প্রবল বৃষ্টির ঝাপটায় ভিজতে ভিজতে সুর করে মেঘমাল্লার তান ধরো। সময়টা আনন্দময় হবে বিদ্যুতের তালে তালে।
যদি বা ঘুমিয়ে পরো পথের ক্লান্তি নিয়ে,জেগে উঠে আবার নতুন ভাবে শুরু করো পথ চলা।
ধ্রবতারা জাগবে পথের দিশা নিয়ে। সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। অচেনা মায়া হাত বাড়িয়ে কাছে টানবে। ভালোবেসে জড়িয়ে রাখতে চাইবে। বনের হিংস্র প্রাণীর মতন মানুষ, কাছে আসতে পারে সোহাগের আহ্বানে। জল তরঙ্গের গান গেয়ে। যদি সঠিক দিক, ভুল করে থেমে যাও; হয় তো ভালো কিছু অর্জন হবে না, তবে অভিজ্ঞতা পরের রাস্তা চিনতে সুবিধা করে দিবে। হয়তো খানিক সময় কেটে যাবে অপচয়ে। এভাবে পথ চিনে একদিন ঠিক, ঠিকানা পেয়ে যাবে। যে ঠিকানা ধুয়ে গেছে জলের গভীরে।
মন নিবেদিত রাখবে ধ্যানের মতন কিন্তু এ পথ চলায়। যদি এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে অপচয়ে ক্ষয় হয়ে যায় সঞ্চয়। ভুগতে হবে অনেক জরা ব্যাধী কষ্টের কাছে পরাজিত হয়ে।
তোমাকে ভাবনা জানানোর কোন উপায় নেই আর। ঠিকানা খুঁজে পেয়ে পৌঁছাতে্ যদি পারো কোনদিন তবে মিলন হবে। আনন্দধারা উছলে উঠবে।সাতরঙ ছড়াবে রঙধনু।
ঘিরে থাকবে সুমধুর সুরের তারার আলো। ক্ষয় নেই ভয় নেই অন্ধকার নেই আলোর হাস্যধারা ঝরে পরবে অনুক্ষণ। অপেক্ষার ক্লান্তি হারাবে দূর বহুদূর। ভুলে যাবে কোন এক দূর্গম পথ পারি দিয়েছো একা তিমির সাথে করে। অজানা আর উজান চলা ছিল আশংকায় টানটান।
তখন সব বেলা হারিয়ে মধু চন্দ্রিমা হাসবে আর হাসতেই থাকবে। তার আগে এই লম্বা চলা অজানায় ভাসা অপেক্ষার ক্লান্তি দীর্ঘ সেতু হয়ে বেঁধে রাখবে।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৩৫
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×