somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

দিন যাপন

২০ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল ছিল ফুরফুরে বসন্ত আবহাওয়া। ছিল প্রচুর রোদের আলো। প্রথম পাখির ডাক শুনলাম। গাছের আড়ালে বসে মিষ্টি কণ্ঠে ডাকছিল। ডানা ছড়িয়ে আমিও মেখে নিলাম আবহাওয়ার মিষ্টি উত্তাপ ভালো লাগা। রোদ মাখলাম বাইরে ঘুরে বেশ খানিকটা সময়। কিন্তু অনলাইনে চোখ রাখতেই মন খারাপ হয়ে গেল।
নেদারল্যাণ্ডে তুরস্ক বংসদ্ভোত একজন জনপথে গুলি করেছে তিনজন মারা গেছে। পুলিশ ভাবছে টেররিস্ট এ্যাটাক। নিউজিল্যান্ডের পঞ্চাশজনের শোক কাটেনি। আহতরা কাতরাচ্ছে এখনও। পাল্টা আক্রমণ এবং হুমকি শুরু হয়ে গেছে।
জনসাধারনের স্বাভাবিক জীবন যাপন বন্ধ। ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এমনটা হচ্ছে এই সময়ে এ দেশে ওদেশে। হঠাৎ আক্রমণ । কখন কোথায় তা জানা নেই। পথ চলতে, শপিং মলে কেনাকাটা করতে, উপাসনালয়ে প্রার্থণা করতে,সিনেমা দেখতে, ক্যাফেতে বসে আড্ডা দিতে , ক্যাম্পে শিক্ষা সফরে, এমন কি সাগর পাড়ে যেতেও আতংক নিয়ে, সতর্কতা নিয়ে থাকতে হবে। কখন কি ভাবে আক্রমণ হবে কোথায় জানার কোন সুযোগ নেই।
নাইজেরিয়ান মুসলিম জঙ্গিরা তিন সপ্তাহের মধ্যে ১২০ খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে। মুসলিমরা খ্রিস্টানএবং খ্রিস্টানরা মাসলিম হত্যার অঙ্গিকার নিয়ে হেইট স্পিচ, ভোয়া প্রপগান্ডা, ছবি ছড়াচ্ছে অন লাইনে। ডাক দিচ্ছে তাদের সাথে জড়িত হওয়ার জন্য। কিছু বেশি বোঝা মানুষ জড়িত হয়ে যাচ্ছে উদ্ধার কাজে অন্যদের ধ্বংস করার জন্য। ওরা ঠিক কি উদ্ধার করবে আর কি রক্ষা করবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মৃত্যু এবং অন্য অনেকের ক্ষতি সাধন ছাড়া আমি জানি না। কিন্তু ছোট অসংখ্য দল তৈরি হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি এই সব আক্রমণের ভয়াবহ রূপ দেখতে হচ্ছে আমাদের কিছুদিন পর পরই তাদের সহিংসতায়।
এক সময় আইএসে যোগ দিতে উন্মাদ হয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, লণ্ডনের তরুণ তরুণিরা ছুটে গেছে। তেমনি ভাবে এখন বেড়ে যাচ্ছে হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের সংখ্যা, বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।
মানবিক মানুষ সব সময় নিরস্ত্র কিন্তু আক্রমণের শিকার উগ্রবাদীদের কাছে। এই সময়ে কি সভ্য মানুষ আমরা!
যখন ইথিয়পিয়ার বিমান র্দূঘটনায় হারানো মানুষদের বেদনা এখনও তাজা । দক্ষিণ আফ্রিকায় শহর লন্ডভণ্ড সাইক্লোনে। ন্রাভাস্কার অনেক শহর ডুবে যাচ্ছে বৃষ্টি এবং বরফ গলা জলে। এমন প্রাকৃৃতিক দূর্যোগ থেকে মানুষ রক্ষা না করে, কেউ কেউ সুস্থ মানুষদের আহত এবং নিহত করার পরিকল্পনা করে ঠাণ্ডা মাথায় বেরিয়ে পরছে, বিস্ফোরক এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে।
এত কিছু দূর্যোগ আর ভয়বহতার খবর থেকে দৃষ্টি এবং মন ফিরিয়ে নিজের ভাবানার জগতে ডুব দিয়ে ছিলাম অনেকটা সময়। হঠাৎ পিসি অসহযোগীতা করল হ্যাঙ হয়ে গেল। লিখছিলাম অন লাইনে । অনেক ক্ষণ চেষ্টা করলাম লেখাটা কে সেইভ করার জন্য। কিন্তু ঘন্টা দুই ব্যাপী কোন নড়াচড়া করাতে পারলাম না। অবশেষে বন্ধ করে দিতে হলো পিসি আমার ভাবনার ফসল শূন্যে মিলিয়ে যাবে এই সিদ্ধান্ত এবং কষ্ট নিয়ে। পিসি ক্লিনের সময়টা দিগন্তে গোলাপী রেখার আলপনা, ন্যাড়া ডালে রোজগোল্ডের আভার কারু কাজ। আপেল গাছের ফাঁকে চাঁদের উঁকি দেখে মন ভালো করার চেষ্টা করলাম। মন দিলাম স্বাস্থ সম্মত খাবার তৈরি করতে।
ক্লিন করে নতুন ভাবে চালু করলাম পিসি। আবার নতুন করে লেখাটা লিখার অশান্ত মন নিয়ে। কখনোই একটা লেখা আগের মতন হয় না । যা হারাল সেই আলৌকিক স্বপ্নটাকে ধরার আকুল ইচ্ছা। নতুন করে যতটা সম্ভব মনে করে লিখে ফেলব আগের লেখা টা।
অন লাইনে রিলোড অপশন আসাতে একটু আশা নিয়ে ক্লিক করলাম আর লেখাটা আস্ত পেয়ে গেলাম। হারানো মানিক ফিরে পাওয়ার আনন্দে তাড়াতাড়ি প্রায় চারপাতা লেখা সেইভ করলাম। সব খারাপের শেষে এই ভালোলাগটা মন ভালো করে দিল। বরফের উপর জোছনার রিফ্লেকশনে মায়াবী জোছনা রাতের ভালোলাগা জড়িয়ে কাটিয়ে দিলাম নিজের মতন ভালোলাগায়।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ২:৫৬
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খুব বেশিদিন নেই, প্রকৃতি ফিরিয়ে দিবে সকল পাওনা! (শেষ ছবিটি দেখুন)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৩

পৃথিবীর ফুসফুস পুড়ে যাচ্ছে!


প্রতি মিনিটে পুড়ে যাচ্ছে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান জায়গা!


যে দিন বিকেলে আগুন লাগে সেদিন সূর্য ডুবার দুই ঘন্টা আগে ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া ব্রাজিলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোমান্স

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৮


ফ্যাসিবাদের এমন ঘোর কলিকালে
প্রেমের জোয়ারে চলো আজ ভেসে যাই,
হাত দুটো ধরো- হাওয়া লাগুক পালে
ভয় নেই; এখানে আমরা আমরাই।
মিশে থাকো অঙ্গে প্রতি নিশ্বাসে নিশ্বাসে,
স্পর্শ যেন তোমার প্রতিক্ষণই পাই;
তোমার ছোঁয়ায় মড়ার দেহে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের উচিত রোহিংগা ক্যাম্পগুলোকে 'এনজিও-মুক্ত' করা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪১



এনজিওগুলো ১১ লাখ রোহিংগা পালনকে 'পুরোপুরি রমরমা ব্যবসা' হিসেবে প্রতিষ্টিত করেছে, এরা এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করছে, এরা কৌশলে রোহিংগাদের ফিরে যাবার ব্যাপারে ভীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে জানালায় বসে ভ্যান গগ স্টারি নাইট এঁকেছিল-

লিখেছেন সোনালী ডানার চিল, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:২০

কেউ যখন প্রজনন অঙ্গ দিয়ে সৌজন্যতা দেখায়
আমি তখন ষ্টারি নাইট শুনি আইবাডে আর
দু’টো শামুকের বিবর্তন পিরিয়ডের কেসহিষ্ট্রিতে নিমগ্ন
রই; যদিও পতাকার অন্যনাম এখানে অন্তর্বাস।
কিম্ভূত অগ্নি দাহ করে আমাজান- ব্রাত্যের লাশ ঠ্যালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশা পরকীয়া; অনৈতিক এই ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় কি?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১৬



সর্বনাশা পরকীয়া; অনৈতিক এই ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় কি?

পরকীয়া আসলে কি?
ইদানিংকালে সংবাদপত্রের পাতাগুলোর অনেকটা অংশ জুড়ে থাকে পরকীয়া বিষয়ক নানান দু:সংবাদ। গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে পরকীয়া সম্পর্কে প্রায় প্রতিনিয়ত: বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×