somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

সময়ে সব কিছু বদলে যায়

২৯ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন আগে আমার আমেরিকায় থাকা বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। বন্ধুটি বেশ ধর্ম কর্ম করে কিন্তু সেও বেশ বিরক্ত হয়ে বলছিল,এত ধর্ম অনুষ্ঠান হচ্ছে এখন খুব বেশি বেড়ে গেছে এই হিন্দু গুলো। প্রতি মাসে ত্রিশ দিনে চল্লিশ অনুষ্ঠান ধর্মের এত কিছু করতে হচ্ছে কেন? না গেলে সমস্যা, এত অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব বলো। বিদেশে মানুষ খুব ব্যাস্ত প্রতিদিন ধর্মে ব্যাস্ত থাকলে বাকি কাজ করবে কখন। বন্ধুটি নিজে হিন্দু হয়েও এত অনুষ্ঠানের আয়োজনে সত্যিকার অর্থেই বিরক্ত হচ্ছিল। আমাকে বলছিল, তুমি লিখ তো এ বিষয়ে।
ধর্ম খুবই স্পর্শকাতর বিষয় মানুষের। তা নিয়ে লিখতে ইচ্ছা করে না। লেখা হয়নি। কিন্তু আমাদের কথোপকথনের দিন দশেকের মধ্যেই শুরু হলো দাঙ্গা ভারতে, উত্তাল দিল্লী। মুসলিম মারার জন্য উগ্রপন্থীরা নির্মম আক্রমণ শুরু করল। সহ্য হয় না এমন সব ছবি দেখে ক্লান্ত হতে হতে আমার কেবল আমার মায়ের কথা তখন মনে হতো। মায়ের দেখা রায়ট সেই সময়ে পাশাপাশি থাকা মানুষদের শত্রু হয়ে উঠা ধর্মের নামে। আবার বুক পেতে সামনে দাঁড়িয়ে বাঁচানোর গল্পগুলোও একই রকম ছিল। মায়ের জীবনের এক সময়ের ট্রোমা সেই স্মৃতি। তারপরও মা ছিলেন উদার পন্থী। সমান ভাবে মিশতেন জাতীধর্ম উঁচু নীচু নির্বিশেষে সবার সাথে সমান ভাবে। বুক দিয়েই আগলে রাখতেন মানুষকে জাতী ধর্ম ভেদাভেদ না করে।
সেই সময়ে, মায়ের কাছে শোনা গল্প লিখতে শুরু করে এক সময় দেখলাম প্রায় সাত পাতা লিখে ফেলেছি কিন্তু আরো লিখতে হবে। তারপর ভাবলাম থাক এ লেখা ফেসবুকে, ব্লগে দেওয়া লাগবে না। যদি স্মৃতিকথার বই করি সেখানে জুড়ে দিব।
যখন বড় সর প্রাকৃতিক বিপর্যয় গুলো আসে কোন কিছু রক্ষা করতে পারবে না মানুষকে এমন ভয় ঢুকে যায় মনে। মানুষ অসহায় হয়ে পরে সে অবস্থায় ধর্মের লেজ ধরে উদ্ধার পাওয়ার জন্য অদৃশ্য শক্তির উপর নিজেকে সমর্পন করে স্বস্থি পায় সেই আদিকাল থেকে । যখন মানুষের অনেক কিছু জানার সুযোগ ছিল না। অদৃশ্য শক্তির উপর ভরসা করে বেঁচে থাকাই তাদের শক্তি ছিল। সেই বিশ্বাস এখনও অনেকে যত্ন করে মনে রেখেছে। সেই বিশ্বাস এখনো চলছে তাতে সমস্যা নাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখন অনেক মানুষ ধর্ম মানতে চায় না আর ধর্মপ্রবন মানুষ জোড় করে ধর্ম করাতে চায় তাদের দিয়ে।
বিশাল একটা ফারাক দুই দলে। যারা ধর্ম মানে না তারা কিন্তু ধর্ম মানা লোকদের বলে না আমাদের দলে আসো কিন্তু ধর্ম পালনকারী সারাক্ষণ ডাকতে থাকে আমাদের সাথে যোগ দাও। ধর্মের নামেই বেশ কবছর ধরে নানা রকম যুদ্ধ চলছে নানা দেশের মাঝে।
ধর্ম আবার নানা প্রকার। নানা রকমের কোনটা রেখে কোনটা বিশ্বাস করা হবে । এবং সব ধর্মই সবার উপরের ধর্ম।
ধর্ম আদি অন্ত বিশ্বাস যেমন আছে তেমন ধর্মকে অবলম্বন করে ব্যবসা, নানা জনের অজ্ঞতার সুযোগে তাদের উপর সুযোগ নেয়া। অর্থ দণ্ড থেকে, ভক্ত করে রাখা, নানা রকম নির্যাতন থেকে যৌন নির্যাতন করে চুপ করিয়ে রাখা। যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মসেবীরা করেছে সাধারন মানুষের উপর নির্যাতন হয়েছে, হচ্ছে।
এক সময়ে পা্দ্রীদের দ্বারা নির্যাতিত শিশুরা এখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। পৃথিবীর মানুষ অবাক হয়ে দেখছে যাদের কাছে ভালো রাখার জন্য শিশুদের রাখা হয়ে ছিল, তারা কেমন অত্যাচার করেছে। বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া ফাদারদের বিচার হচ্ছে আজকের দিনে। আর এখন বেরিয়ে আসছে মোল্লাদের, নানান অবৈধ কৃর্তি। সাধুদের সেবাদাসীদের সাথে অবৈধ ব্যবহার। ভক্তকুলের কাছে অর্থ নেয়ার গল্প।
যখন আমি বিদেশে এলাম গীর্জা ছাড়া আর কোন উপাশনালয় তেমন ছিল না। কিন্তু দিনে দিনে মন্দির মসজিত প্যাগডার সংখ্যা বাড়ছে। গীর্জাগুলো কমে যাচ্ছে।
তখন প্রতিটি গ্রীর্জা থেকে মানুষকে সাহায্য করা হতো। আশ্রয়হীনের থাকার ব্যবস্থা থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা। নতুন আসা মানুষকে নানারকম আসবাবপত্র থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গীর্জা থেকে দিতে দেখেছি। ক্রিসিমাসের সময় শিশুদের জন্য উপহার পাঠানো হতো বাড়ি বাড়ি। ধর্ম নির্বিশেষে সব শিশুরা ক্রিসমাসের সময় উপহার পেত গীর্জা থেকে।
বেশ কবছর থেকে গীর্জাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু মসজিদ, মন্দির থেকে ঈদ পুজায় প্রতিটি বাড়িতে কোন উপাহার আসে না। খাওয়ার দিয়ে সাহায্য হয় না কোন রাস্তার মানুষকে। থাকার ব্যবস্থাও করা হয় না। সেই নজরুল যেমন দেখেছেন, "আমার ক্ষুধার অন্ন তা'বলে বন্ধ করনি প্রভু তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি, মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!' খাবার ভর্তি মসজিদ মন্দিরে মোল্লা-পুরুত তালা মারছে সে সময়েও এ সময়েও তেমনই আছে। অথচ জাকজমক চমকে মনে হয় না তাদের অভাব আছে। বরং দালান কোঠার চাকচিক্য বাড়ছে ক্রমাগত।
যে দেবালয় থেকে মানুষের জন্য সাহায্য আসে না, সেখানে শুধু প্রার্থনা করে কি উপকার হয়।
উপাসনার ঘর তো মানুষের নিজের দেহ। মন থেকে প্রার্থনা যে কোন স্থানে বসে করা যায়।
আজ নয় আশির দশকে বেড়াতে গিয়ে ছিলাম রাজস্থান রাজ্যে আজমিরে দরগাহ খাজা মইনুদ্দিন চিশতির মাজারে। সকালবেলা দরগার গেইটে ঢুকতেই অনেক লোক এসে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল।
কি নিব। কি কিনব। তা তারা জানতে চায়। দরগায় গেলাম একজন অলি আউলিয়ার কবর আছে তা দেখার জন্য। সেখানে কিছু কিনতে হবে সে ধারনা প্রস্তুতি কিছুই ছিল না।
ভীড় ভাট্টার মানুষ থেকে চোখ সরিয়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম অনেক ছোট ছোট ছাপড়া দোকান। সেখানে এক একটা ডালা সাজিয়ে বসে আছে। সে ডালার ভিতর আছে গোলপের পাপড়ি, তোবারক এবং আরো কি কি সব মনে নাই এখন। তবে ছোট থেকে বড়লাল সোনালী ঝালর, রঙিন জড়ির ওড়নায় ঢাকা সাজ এবং আকারের উপর নির্ভর করছে এক একটা ডালার দাম। পাঁচ থেকে একশ রূপি। যেন যত দামি ডালা কিনব তত পূণ্য হবে।
কিন্ত্র ডালা কিনে পূণ্য করার কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমি কিছুই কিনলাম না। আমার মা ছিলেন সাথে মা যদিও সঠিক ভাবে ইবাদত বন্দেগী করেন তবু লোকদের আহবানে একটু দোদুল্যমান হলেন, করুণ ভাবে বললেন, কিনে ফেলি একটা। আমি কঠিন ভাবে বাঁধা দিয়ে ভিতরে গেলাম ঘুরে দেখে চলে আসলাম কোন অর্থ ব্যয় না করে।
মাজার দরগা যা করা হয়েছে যে মানুষটা মরে গেছে তার তো কোন অদৃশ্য শক্তি নেই আমার জন্য কিছু করার বা কারো জন্যই কিছু করার। বরং আমরা তাঁর জন্য দোয়া করতে পারি, মাকে তাই করতে বললাম।
মাজারে দরুদ দোয়া কালাম, নফল নামাজ পরার চেয়ে এক পাশে বসে ভক্তকুলের মাথা নাচিয়ে শরীর দুলিয়ে গান গাইতে দেখলাম। লালন শাইয়ের আখড়ার চেয়ে আলাদা কিছু না। তাহলে বাউলদের গান শুনে অনেকের গা জ্বলে কেন সেটাও বুঝতে পারি না।
একটা গাছে অসংখ্য লাল ফিতা, কাপড়, সূতা বাঁধা দেখলাম। গাছের আর কোন খালি জায়গা নেই। সে কাপড় ফিতাও কিনতে হবে পাঁচ রূপি দিয়ে তারপর বেঁধে দিতে হবে ইচ্ছা পূরণের জন্য। ফিতা বাঁধার ইচ্ছা পূরণ অনেকটাই হাস্যকর আমার কাছে। কিন্তু অনেকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করেন। যেমন অনেকে তালা বাঁধেন ব্রীজের উপর।
গত বছর একটা ছবি দিয়েছিলাম আমার ফেসবুকে তালা বাঁধা ব্রীজের উপর। আসলে আমি তালা লাগাইনি। ব্রীজে কেউ বেঁধে ছিল তার সাথে ছবি তুলেছিলাম বেলজিয়ামের ব্রুস শহরে বেড়াতে গিয়ে।
এই সময়ে যারা ধর্ম ঈশ্বরকে অবলম্বন করে বাঁচতে চান তারা ঘরে বসে উপাসনা করুন। নিজের উপাসনালয়ে। অহেতুক ভীড় করে খামখা মার খাবেন না প্রহরিদের হাতে।
আপনাদের ভীড় এড়ানোর জন্য তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছে। উপাসনালয় বন্ধ করা এখন মানুষের জন্য উপাসনার মতন বেঁচে থাকার জন্য। সময়ের দাবীকে মানাই ভালো।





সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:১৪
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদীস সংগ্রাহক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬



হাদীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুসলমানদের জন্য।
যদিও দুষ্টলোকজন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাতে সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হয় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুড ওল্ড নাইন্টিজ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৭ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪২



আমরা গল্প করছিলাম সাত্তার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে। সাত্তার মিয়া জঘন্য চা বানায়। আমার বন্ধু সোবহানের মতে এই চা ঘোড়ার মুতের সমতূল্য। সাত্তার মিয়ার সামনেই এসব আলোচনা করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি নিয়ে আসলে রাজনীতি করেছে কারা, ছবির জন্য নামাজ পড়িয়েছে কারা

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৪



ছবি দেখুন। আমাদের যে ছবিটা দেখানোর জন্য এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে আমরা শুধু সেই ছবিটাই দেখেছি এবং অনেকে দ্বিদ্ধানিত আছি এই ভেবে যে হয়ত আসলেই শুকনা জায়গা ছিলোনা বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন কাটালাম এবারের ঈদ!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১৩

(পোস্টটা গতকালের লেখা)

গতকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর গত হয়ে গেল! মনের মাঝে আনন্দ বিষাদের বিচিত্র সব অনুভূতি খেলা করে চলছিল সেই সকাল থেকেই। এবারের রোযার মাসটা আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে খুব ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×