somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

বনফুল

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক কত বছর বয়সে হাটে বাজারে নামের বনফুলের লেখা বইটি পড়েছিলাম মনে নাই। মনে আছে স্কুলে ছোট ক্লাসে পড়তাম তখন। কিন্তু গভীর এক প্রভাব বিস্তার করেছিল সে বইয়ের লেখা আমার মনে। খুব অল্প বয়সে অসম্ভব এক জীবনের গল্প মনে ভীষণ ভাবে দাগ কেটেছিল। সে দাগ কাটার আরো কারন ছিল জীবনের ছবিটা আমার চোখের সামনে প্রতিদিন দেখতে পেতাম। যেন হাটে বাজারে ঘুরে ঘুরে অতি সাধারন মানুষের চিকিৎসা দেওয়া মানুষটি আমার খুব আপন একজন,অতি পরিচিত মানুষ। চিকিৎসক, রোগীর মধ্যে একটা আত্মীয়তার বন্ধন। অর্থ কাড়ি থাকুক না থাকুক চিকিৎসক বড় ভরসা। জ্বর কমছে না, খেতে পারি না। ঔষধ খাব কি খাবার খেতে পারি না। তারপারও চিকিৎসক যদি একবার দেখেন তাতেই যেন পাওয়া যাবে ভালো হয়ে উঠার আশ্বাস।
রাত বিরাতে দরজায় ধাক্কা দিতে কেউ দ্বিধা করে না চিকিৎসকের দরজায়।অস্থির হয়ে ডাকে। আর তাড়াহুড়ো করে চিকিৎসকও বেরিয়ে পরেন বোগী দেখতে যাওয়ার জন্য। গভীর রাত বা কোন মানুষের শত্রুতা বা কোন ধরনের বিপদের কথা মনে থাকে না শুধু চিন্তা কতক্ষন রোগী দেখে তাকে সুস্থ করে তুলবেন। রাত পেরিয়ে যায় কখনো রোগীর পাশে বসে থেকে। স্বস্থি পান যখন রোগী সুস্থ হয়ে উঠে উঠে। অসহায় মানুষের সাথে অতি সাধারন কথা এক মাত্র চিকিৎসকই বলতে পারেন। ধরেন তাদের হাত।
পরে জেনেছিলাম বনফুল ছদ্ম নামে যিনি লিখেন,তাঁর আসল নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। পেশায় তিনি চিকিৎসক হলেও সাহিত্য ছিল তাঁর প্রাণ। চিকিৎসক যেন নিজের জীবনের আশেপাশে ঘটা ঘটনাগুলোই গল্পে সাজিয়েছেন, যা বইয়ে পড়েছি। পরে আগ্রহ সহকারে উনার আরো অনেক বই পড়েছি। জীবনের গল্পই তিনি বলতেন, সচেতনতার কথা বলতেন। কিন্তু "হাটে বাজারে" প্রথম পড়া সে বই প্রথম প্রেমের মতন অন্তরে গেঁথে আছে সব সময়।
মৃনাল সেনের পরিচালনায় অগ্নীশ্বর সিনেমাটি দেখছিলাম আবার। যতবার দেখি ততবার চোখ ভিজে উঠে।
আগের মানুষগুলোর সাধারন জীবন আর দরিদ্রতা কী ভয়াবহ ভাবে ফুটে উঠেছে প্রতিটি ঘটনায়, দৃশ্যে। প্রতিটি মানুষের জীবন যাপনের ভিতর এক সীমাহীন কষ্ট অথচ সুখে থাকার আনন্দ, সহজ সরলতা যেমন আছে তেমন জটিল কুটকৌশলের অধিকারীরা যে তখন থেকেই এই বাংলায় রাজত্ব করছে সে বিষয়ে সন্দেহ করার কিছু থাকে না। বরং আরো পাকাপুক্ত হয় অসাধু মানুষের অবস্থান বিচরণ সম্পর্কে ধারনা।
মহানায়ক উত্তম কুমারের চেহারার সাথে কি বলাইচাঁদের বেশ মিলছিল। যা হোক তিনিও অসম্ভব ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন চরিত্রটি ঠিক যেন লেখক যা বলতে চেয়েছেন, যেমন জীবন যাপন করতেন একজন অসম্ভব আত্মসচেতন মানুষ সবটা চোখের সামনে ভাসে। অন্তর থেকে এক আত্মা হয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জাগে।
দেশে ইংরেজদের অবস্থান তখনও। আর তাদের খেদানোর জন্য কত প্রাণ নিজে উৎসাহী হয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য কত রকম আত্মত্যাগ করেছিলেন। দু চারজন পরিচিত নামের বাইরেও ছিল অসংখ্য অচেনা নামের স্বাধীনতাকামী মানুষ। তাদের কিছু ঘটনাও জানার সুযোগ হয়। যাদের কথা ইতিহাসে নেই। কেউ কখনো জানতে পারবে না তাদের গৌড়ব উজ্জ্বল আত্মত্যাগের কথা।
পাঠ্য বইএ সে সময় একটি গল্প ছিল "মানুষের মন" নামে। এ গল্প অনেকেই পড়েছেন, নরেশ ও পরেশ সহোদর দুই ভাই। কিন্তু দুজনের বিশ্বাস দুই দিগন্তের। নিজেদের সম্পর্ক সাপে নেউলে হলেও ছোট ভাইয়ের বাচ্চাটিকে দুজনে কি ভয়ানক আদর করেন। তার অসুখ হলে দুই বিশ্বাসে দুজন যে কি ভাবে ঝাঁপিয়ে পরেন বাচ্চাটিকে ভালো করার জন্য। এই গল্পটিও উদাহরণ দেয় আমাদের সমাজের বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের প্রচণ্ড দ্বন্দকে। বনফুলের সমাজ নিয়ে লেখাগুলো অসাধরন।

১৮৯৯ সালের ১৯শে জুলাই বনফুল বিহারের মনিহারি নামের এক জায়গায় জন্মগ্রহণ করেন । ১৯৯৭ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি এই সাহিত্যিক চিকিৎসক মানবিক মানুষটির মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩২

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি মৌলিক নীতি হলো- অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে, প্রমাণের ভিত্তিতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কোনো রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×