লিখতে চাই সবসময়,হতে চাই কবি কিংবা লেখক।চাই নিজের মনের ভাবকে সুন্দর করে কাগজে ফুটিয়ে তুলতে।তাই বলে নিজেকে কোন কবি বা লেখক ভাবার স্পর্ধা করিনি কখনো।
এককালে খুব ইচ্ছে ছিল বড়মাপের একজন লেখক হওয়ার,কিন্তু এই বিশেষ দক্ষতা নিয়ে জন্মগ্রহন করিনি।
কারন লেখা বিষয়টা শিখার মতো কিছুনা যে তিনমাস বা ছ’মাস শিক্ষাগ্রহন করলাম আর হয়ে গেলাম কবি কিংবা লেখক।
এই বিশেষ দক্ষতাটা এমনই এক সুপ্ত প্রতিভা যা সবাই জাগাতে পারেনা।
আর যে বা যারা পারে তাঁরা অনেক উঁচু মাপের।
যাদের চিন্তা চেতনা আমাদের মতো মানুষদের থেকে অনেক ভিন্ন।
আর তাই বলেই তাঁহারা কেও বড় সাহিত্যিক কেওবা আবার কবি,আবার কেও লেখক।
যাইহোক এই লেখা নিয়ে অনেকের হাসির পাত্র হয়েছি,কেওবা আবার পিছনে অনেক কথা বলেছে,
আর সেজন্যই মনে হয় আরো বেশিবেশি লিখতে ভালো লাগে।
হয়তো দারুনভাবে কিছুই লেখা হয়ে উঠেনা তারপরও লিখি।
কোনএকদিন হয়তো ভালো কিছু লিখতে পারবো সেই আশায়।
এইতো কিছুদিন আগে কোন এক জনৈক ব্যাক্তি আমার এক লেখা পড়ে বললেন যে চমৎকার হয়েছে কবি লিখে যাও।
আমি তাঁকে বললাম যে ভাই আর যাইহোক আমাকে কবি বলে কবি সমাজের অমর্যাদা করবেননা।
কারন আমি কোন অংশেই একজন কবির পর্যায়ে পরিনা।
রাস্তা-ঘাটে পরে থাকা খড়-খোটোকে খুড়িয়ে তারসাথে হয়তো নিজের মনের কিছু মাধুরী মিশিয়ে একসাথে সংমিশ্রণ করে ফল সরূপ কলমের কালী হয়ে তা সাদা কাগজকে কলঙ্কিত করে।
তবে ঐ যে কথায় আছে সব কলঙ্কের কালীতে বিনোদিনী কলঙ্কিত হয়না।
কিছু কলঙ্ক আছে যা তারমধ্যেই যেন অপরূপ।
যেমন সর্বসময়ের উদাহরণ চাঁদের কলঙ্ক।
ঐ কলঙ্কটা না থাকলে হয়তো চাঁদকে এতোটা ভালো লাগতোনা আমাদের।
আমরা চাঁদের কলঙ্ককে মেনে নিলেও আমাদের আশেপাশে অনেক কিছুই আছে যা হয়তো আমরা কখনই মেনে নেই না...।
যেমন ধরে নেই আপনার জন্য বিয়ের কথা চলছে ...
যদি ছেলে হন তাহলেতো মেয়ে দেখার অনেক লম্বা লিস্ট।
*প্রথমেই কালো মেয়ে হিসেব থেকে বাদ...(মেয়ে হতে হবে অপরুপা সুন্দরি,ঘরের লক্ষী বলে কথা)।
*সুন্দরী মেয়ে ত্বকের ক্ষতি হবে দেখে মা-বাবা বাসার কোন কাজই করতে দেয়নি...(এটা আর এমন কি সমস্যা,আমার বাসায় কাজের লোক আছে কোন সমস্যা না।মেয়েতো সুন্দরী)
*মেয়ে খুবই গুণবতী।রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজে পারদর্শী,শ্বশুর শাশুড়িকে নিজের মা বাবার মতো যত্ন করবে কিন্তু মেয়েটা একটু কালো...(না না আমার একমাত্র ছেলে মানুষের কাছে কি মুখ দেখাবো। হবে না )
যাইহোক এরকম আরো অনেক কাহিনী।
নাই বা বললাম।
যা বলতে চাইছিলাম...
মেয়ে অপরুপা সুন্দরি,সাথে খুবই গুণবতী, সংসারী মেয়ে।
কিন্তু মেয়েটা রেপ ভিক্টিম।
ছি ছি ছি ছি না না না কি সব আবোল তাবোল বকছেন মশাই।।
কি করে আপনি এরকম একটা মেয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলেন তাও আমার ছেলের জন্য।
না না হবে না।
আমরা কেন ভুলে যাই রেপ ভিক্টিম যে মেয়ে এতে তার দোষ কোথায়?
সে কি বলেছে যে আসো আমাকে রেপ করো?
রেপ মানেইতো হলো ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন মেয়েকে সহবাস করতে বাধ্য করা।
রেইপড হয়েছে বলেই যে মেয়ে খারাপ সেই সার্টিফিকেট আপনি কি করে দিয়ে দেন?
আজ আপনার মেয়ে রেইপড হলে কি আপনি একই কথা বলবেন?
তখনও কি বলবেন যে আপনার মেয়ে খারাপ,ভালো না?
আপনি কি চাইবেন না যে আপনার মেয়েরও বিয়ে হোক,সংসার হোক?
তাহলে কেনো অন্যের মেয়ের জন্য এতো ঘৃণা?
কেনো তাকে আপন করে নিতে আপনার এতো সমস্যা।
যে মানুষদের কাছে মুখ ছোট হয়ে যাবেন বলে এই মেয়েকে আপনি গ্রহন করতে দ্বিধাদোধ করছেন,এই মানুষরাই আপনার মেয়ে রেইপড হলে ছিঃ ছিঃ করবে,
তাহলে কেন এদের কথা ভেবে একটা মেয়ের জীবনকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিবেননা?
রেপ ভিক্টিমদের কথা বাদই দিলাম,
একটা মেয়ের তালাক হয়েছে,তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকেও ছেলের বঊ করতে সমস্যা।
লোকে কি বলবে......?
হায়রে সমাজ...।
এই সমাজই আমাদের এগোতে দেয় না আবার এই সমাজই আমাদের নিয়ে পরিহাস করে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


