তিনটি বর্ণমালার সমন্বয়ে গঠিত একটি ছোট্ট শব্দ কিন্তু যার ফলাফল খুবই ভয়াভহ এবং আমাদের সমাজে অনেক ঘৃণিত।
বর্তমান সমাজে যে কেও এর শিকার হতে পারে।
ছেলে-মেয়ে যে কেও এবং যে কোন বয়সের।কিন্তু আমাদের সমাজের মেয়েরা সবচেয়ে বেশী এই ধর্ষণের শিকার।যদিও ছেলেদের কথাগুলু সবার সামনে আসেনা।
২বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৫০+ মহিলারাও বাদ পরেনি এই ধর্ষণ থেকে।
দিন দিন যেনো বেড়েই চলেছে এই নাশকতা।
আমাদের সমাজব্যাবস্তা কিংবা ধর্মব্যাবস্তা সবসময় গলা উঁচু করে বলে যে আমাদের সমাজে আমাদের ধর্মে নারীর পূর্ণ অধীকার রয়েছে।
কিন্তু আসলেই কি তাই?
সত্যি কি আমরা নারীদের তাদের পূর্ণ অধীকার দেই?
আমরা বলি ছেলে-মেয়ে সম-অধীকার।আমাদের সমাজে ছেলে-মেয়ে একসাথে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলছে।
তাহলে কেন এই বরবরতা?কেন এই ধর্ষণ?
কেন একটা সুন্দর জীবনকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়?
যখন একটা মেয়ে পড়াশুনা শেষ করে চাকুরী করতে যায় তখন আমরাই বলি এই মেয়ে বেশী স্মার্ট, চরিত্র ভালো না, চাকুরীর নামে বাইরে গিয়ে নষ্টামি করছে আরো কত কি...
আর যখন পড়ালেখা শেষ করে ঘরে বসে থাকে তখন বলি এত পড়াশুনা করে যদি ঘরেই বসে থাকবে তাহলে পড়াশুনা না করলেও পারতে।
আবার যখন মেয়েটা লেখাপড়া ভালোভাবে না করে সাংসারিক কাজে পটু হয় তখন বলি শুধু সাংসারিক হলে কি ভালো ছেলে মিলবে? পড়াশুনা জানতে হয়।
এই অবস্থায় মেয়েটির কি করার আছে?
পড়ালেখা করে চাকরী করলেও সমস্যা আবার না করলেও সমস্যা।
পড়াশুনা না করে সাংসারিক হলেও সমস্যা।
কিছুদিন আগের কথা আমার এক সহকর্মী কোন এক কথা প্রতিউত্তরে বলেছিলেন যে আজকালের মেয়েরা যা উল্টা-পাল্টা কাপড়-চোপড় পরে তাইতো এরা ধর্ষণের শিকার হয়। এজন্য এই মেয়েরাই দায়ী।
শুনে আমার মনে হচ্ছিল কষে একটা চড় দেই।
মেয়েরা জিন্স পরুক আর স্কার্ট পরুক তাতে কি ওরা বলেছে যে হা আসো আমায় ধর্ষণ করো?
অনেক হিজাব পড়া মহিলা,মেয়েরা যাদের সারা শরীর বোরখায় আবরিত থাকে তবে কেন তারা ধর্ষণের শিকার হয়?তারাতো ছোট ছোট কাপড় পরেনি।
ধর্ষণ করার জন্য একটা মেয়ে ছোট কাপড় পরলো নাকি বোরখা পরলো তার প্রয়োজন হয়না...
প্রয়োজন হয় একটি ধর্ষণ করার বিকৃত মানসিকতা আর কিছুই না।
গতকাল যুগান্তর পত্রিকাতে আলামিন প্রধান ভাইয়ের লেখাটা পরলাম যে ফতুল্লায় ধর্ষণ,নির্যাতন ও যৌন হয়রানির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
গত মাস থেকে এ পর্যন্ত নাকি অন্তত শতাধিক নারী,শিশু ও কিশোরী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।
আমি তার লেখাটার কিছু অংশ তুলে ধরলাম............
কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৭ ফেব্র“য়ারি ভোলাইল এলাকায় গার্মেন্টকর্মী (১১) এক কিশোরীকে রাত ১০টায় অজ্ঞাত দুই যুবক হাত পা চেপে ধরে ছুড়ির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোতালেরবাগ এলাকার রজব আলীর বাড়ি থেকে জোসনা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জোসনাকে রাতভর আটক রেখে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মাটি খুঁড়ে লাশ চাপা দিয়ে গুমের চেষ্টা করা হয়। ১৬ ফেব্র“য়ারি দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় আবুল কাশেমের ছেলে মাসুদ ভালো চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাতে বাসা থেকে ডেকে এনে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এর পরদিন কিশোরীকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ মাসুদকে না পেয়ে তার ছোট ভাই মামুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব কলসভাঙ্গা থেকে ফতুল্লার ভুইঘর এলাকায় ডেকে এনে ১৮ ফেব্র“য়ারি সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে স্বামীকে দিয়ে ধর্ষণ করানোর অভিযোগে মাকসুদা বেগম নামে এক গার্মেন্ট কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৫ জানুয়ারি কোতালেরবাগ এলাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে অপহরণের পর দুদিন আটক রেখে ধর্ষণ করে স্থানীয় সন্ত্রাসী উজ্জ্বল। - See more at: Click This Link
চাকুরীর লোভ দেখিয়ে কিছু নরপিশাস অসহায় মেয়ে,মহিলাদের ধর্ষণ করে।
২০১৪ সালে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে এক ১৪ বছরের কিশোরীকে তার বড় ভাইয়ের কথিত অপরাধের শাস্তি হিসাবে ধর্ষণ করা হয়েছে।ওই কিশোরীর ভাই গ্রামের এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিল – এই অভিযোগে তার বোনকে ধর্ষণের সাজা দেন গ্রামের প্রধান।
ইস্পাত নগরী বোকারোর কাছে গোমিয়ার একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ করেছে যে তাদের গ্রামের মোড়ল ঘোষাল পাসির নির্দেশে গ্রামের এক ব্যক্তি – নাকাবন্দী পাসি বাড়ী থেকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে।
অভিযুক্তের স্ত্রী একটি পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন যে ওই কিশোরীর দাদা তার শ্লীলতাহানি করতে গিয়েছিল রবিবার। পরের দিন পঞ্চায়েতে সেই অভিযোগ জানানোর পরে মোড়লই ধর্ষণের শাস্তির বিধান দেন।
নির্যাতিতা কিশোরীর মা স্থানীয় একটি টেলিভিশন সংবাদ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, “আমার মেয়েকে বাড়ী থেকে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। গ্রামের অন্যান্য মানুষরা সবাই হাজির ছিলেন – কেউ কিছু করেন নি। সবার কাছে হাত জোড় করে কেঁদেছি – কেউ এগিয়ে আসে নি। সবাই গোষ্ঠী প্রধান ঘোষাল পাসিকে ভয় পাচ্ছিল।“
দোষ মেয়েটির ভাই করেছে কি করেনি সেই সব তদন্ত করা ছাড়াই গ্রামের প্রধান রায় দিলেন যে ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করা হোক ।
ছিঃ ছিঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



