somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রী নরক (গল্প)

০২ রা মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লেখক: সৌরভ সাফওয়ান
নরেশ কুমার আমার নাম। গ্রামের সকলে নরেশ বলেই ডাকে, আর পরিবারের সকলে আদর করে নরু ডাকে। পরিবারের কাছে খুব আদরের আমি। কারন বাবা মায়ের চার সন্তানের মধ্যে এক মাত্র ছেলে আমি। দিদিরা সকলেই আমার বড়। দিদিদের বিয়ে হয়ে গেছে, যে যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে, আমারও পড়াশোনা নিয়ে মোটামুটি ব্যস্ততায় কাটছে সময়।
দেখতে না দেখতে অনেক সময় পার করে দিলাম, সময়ের স্রোত থেমে নেই, সময়ের সাথে জীবনের স্রোতও কম গড়ায়নি। বয়স টা পঁচিশ পেরিয়ে ছাব্বিশে পা দিয়েছি।
এদিকে বাবা মাও বৃদ্ধ হয়ে পড়েছে, বার্ধক্য রোজগার এর বাধা হয়ে দাঁড়ালো। রোজগারের এক মাত্র ব্যক্তি ছিল আমার বাবা। বাবার বয়সের কারনে এখন আর কর্ম করতে পারে না। এদিকে আমার পড়াশোনাটাও শেষ হল না। বাবারা সন্তানদের জন্য ভগবান থেকে পাওয়া বিশাল এক ছায়া। গাছের পাতা যত দিন থাকে ততদিন গাছের ছায়া থাকে যখন গাছের পাতা ঝরে যায় তখন আর গাছ ছায়া দিতে পারে না।
ছায়া চাইলেও বেশিদিন থাকে না, একটা সময় না চাইতেও ভগবানের দেয়া সেই ছায়া ভগবান নিয়ে যায়।
মাথার উপরের ছায়া টুকু ভগবান কেড়ে নিয়েছে। এটাই নিয়ম, একদিন সবাইকে এই রঙ্গমঞ্চ ত্যাগ করতে হবে, আমিও থাকবো না এই মঞ্চ থেকে আমাকেও যেতে হবে একটা সময়। কখন যাবো সেই সময় টুকু ভগবান ছাড়া কেউ জানে না। হয়তো বাবার মত আমিও কারো ছায়া হওয়ার পর তার ছায়া টাকে ভগবান নিয়ে যাবে, আর না হয় কারো ছায়া হওয়ার আগেই নিয়ে যাবে এই রঙ্গমঞ্চ থেকে।
দুনিয়া টা রঙ্গমঞ্চ হলেও এটা এখন আমার জন্য নরক। এর মাঝে কোন রঙ্গঢং নেই, কোথাও শ্রী খুজে পাই না, দেখি শুধু অশান্তি আর হতাশা।
যত দিন যায় ততই মাকড়সার মত জালের মত বৃদ্ধি হচ্ছে নিজের মাঝে থাকা হাজারো রকমের হতাশা। মাকড়সা তার জাল বসবাসের যোগ্য করে তুলে এবং সেখানে জন্ম গ্রহণ করে তার নিজের অনেক গুলো বাচ্চা। অবশেষে যে জাল তৈরি করে সেই জালেই নিজের প্রাণ হারাতে হয়। মানুষ নিজেকে হতাশায় বন্দি করে ধীরে ধীরে নিজেকে শেষ করে দেয়। একই ভাবে আমিও নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি হতাশায় মোড়ানো জালে বন্দী হয়ে।
বয়স ছাব্বিশ হওয়া মানেই যুবক, না চাইতেও অনেক দায়িত্ব কাদে আসা শুরু করে এই বয়সে। এখন আর অতীত নিয়ে ভাবার কোন সুযোগ নেই, ভাবতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ সকল ভাবনা হচ্ছে হতাশার জাল বুনার প্রথম ধাপ। যেদিন থেকে হতাশা শুরু সেইদিনই অন্ধকার নেমে আসে নিজের মাঝে। সূর্যের আলো থাকা সত্ত্বেও মনে হয় সব কিছুই অন্ধকার।
শুধু বাবার মৃত্যুর কারনে হতাশা তৈরি হয়নি, হতাশা কয়েক বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। এর কারন হিসেবে রয়েছে পরিবার, সমাজ, ধর্ম ও রাজনীতি।
রাজনীতি শুধু রাষ্ট্রীয় দল বল নয়, পরিবার সমাজ ধর্ম গোষ্ঠী সহ সকল কিছুতেই রাজনীতি রয়েছে৷ এসকল রাজনীতির প্রভাবে একজন যুবককে মানসিক ভাবে বিকলাঙ্গ করে ফেলে। শেষ করে ফেলে তার প্রবল ইচ্ছে শক্তি, বিশ্বাস, নৈতিকতা, ও আত্তবোধ।
কি করে একটা সমাজ, গোষ্ঠী, রাষ্ট্র উন্নত হবে! কি করে নিজেদের পরিবর্তন করে সাদা মনের মানুষে পরিণত করবে! এর কোন সুযোগ নেই। ছোট বেলা থেকে শিশুরা পরিবারে সমাজে সকলের থেকে অনিয়ম দেখে বড় হচ্ছে। সেই শিশু গুলো কিশোর বয়সে পা দিয়ে আরো বেশি অনিয়ম দেখে। সকল অনিয়ম তাদের মাঝে নিয়মে পরনিত হয়, সকল অনিয়ম তাদের ভালো লাগা শুরু হয়। অনিয়ম গুলোর মধ্যে একটা অনিয়ম কিশোরদের খুব বেশি ভালো লাগে এবং নিজেই সেই অনিয়মকে হাতিয়ার হিসেবে নিজের মধ্যে ধারণ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। সেই অনিয়ম হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার। সব মহল্লায় ক্ষমতাসীন কিছু ব্যক্তিবর্গ থাকে যারা সর্বদা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের অন্যায় কে ন্যায়ে পরিনত করে। এধরনের পরিবারের অধিকাংশ কিশোররা বড়দের থেকে এই ক্ষমতার অপব্যবহারের পন্থা নিজের মধ্যে ধারন করে নেয়। শুধু নিজের পরিবারের নয় এদের আত্মীয় পরিজন সহ এদের দূরসম্পর্কের যত লেজ, লতাপাতা আছে এদের অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার নিজের মধ্যে ধারন করে। এরাই বড় হলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অরাজগতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সব স্তরে।
ক্ষমতাসীনদের দেখে কিছু কিশোর অনুপ্রাণিত হয়। ইস এর মত যদি হতে পারতাম তাহলে সবাই আমাকে ভয় করবে, এর সাথে যদি ভালো সম্পর্ক করতে পারতাম তাহলে মহল্লায় আমারও ক্ষমতা থাকতো। তারপর নিজেকে ঠেলে দেয় এই পথে। এই ধরনের কিশোররা যখন যুবকে পরিনর হয় তখন নিজের চাওয়া সেই স্থানে পৌছায়। তখন ভাবে তাকে সবাই ভয় পায়, নিজের ক্ষমতার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে সে। আসলে এদের শেষ পরিনতি হয় টোকাই এর কাতারে, এরা সমাজের জন্য বিষাক্ত কীটপতঙ্গ। এদেরকে মানুষ সর্বদা ঘৃণার চোখে দেখে। সামনে কিছু না বললে পিছনে ঠিকই গালি দেয়।
আর ক্ষমতাসীনরা এদেরকে প্রয়োজনে ব্যবহার করে, প্রয়োজন পুরিয়ে গেলে টিস্যু পেপার এর মত ছুড়ে ফেলে দেয়। আমার দেখা অতীতের কিশোর যারা বর্তমানে যুবক, তাদের জীবন এই গণ্ডিতে পড়েছে।
আমি এদের মত নয়, কিশোর বয়সে আমার মাঝে এরকম কোন অনিয়ম চাওয়া পাওয়া ছিল না...

চলবে.....।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৫৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×