
আমি ১৯৯৮ সালের বন্যার কথা বলছি। প্রতিদিন দেখি পানি বাড়ছে। চোখের সামনে ডুবতে দেখছি সব। কিছু করার নাই। আমার পরিচিত এক শিক্ষক তাঁর গবাদি পশু কোথায় রাখবে সেই চিন্তায় তাঁকে ব্যকুল হতে দেখেছি। শেষমেশ উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি গবাদি পশুদের ছেড়ে দিছেন যদি ওরা বাঁচে !
খাবার সংকট হওয়ার ভয়ে অনেকে নিত্যকার প্রয়োজনীয় জিনিস গুলি স্টক করা শুরু করল।
আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে বারান্দায় গিয়ে দেখি পানি আরও বেড়ে গেছে। মুখ মলিন করে টিভি দেখি।
ভিতরে ভিতরে হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। বাইরে যেতে পারছি না তেমন। অবশেষে যখন ফ্লাটের সবাই মিলে চাঁদা তুলে নৌকা কেনা হলো। কি যে আনন্দ! উফ! মসজিদে যাই নৌকায় করে ছাদে নামাজ আদায় হয়।
সারাদিন নৌকা নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি ইয়ার দোস্তদের বাড়িতে যাওয়া।
অনেকে ছাদে আশ্রয় নিয়েছে এক তলা তাদের বাসাটি ডুবে গেছে। যাক শেষমেশ দীর্ঘ তিন মাস পর আস্তে আস্তে পানি কমতে শুরু করল। আমরা আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেলাম।
আর এখন সাল ২০২১। এইযে, করোনা চলছে এর থামার কোন লক্ষ্মণ নেই। থামবে বলে মনে হয় না।
ভারতের খবর দেখছি আরও ভয়ে মরছি। চোখের সামনে কেমনে মানুষ গুলি ছুটছে অক্সিজেন নাই, হাসপাতালে বেড নাই। রাস্তার পাশে বেঞ্চ এ মানুষ।গাড়ী তে বসে অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরে বসে আছে। বাঁচতে কে না চায়?
যে ধনী। আপনি ও বাঁচতে পারবেন কি না সন্দেহ! পর্যাপ্ত অক্সিজেন নাই, আই সি ইউ তে সংকট, ভেন্টিলেটর সংকট। ভাবা যায় প্রতিটা মানুষ ধীরে ধীরে অন্য মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে। ভারত পাশের দেশ তাই ডর বেশী।
বাংলাদেশে এমন হলে আল্লাহ না করুক কি যে হবে? ভাবতেই গলা, বুক, চোখ, মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। কেয়ামত চলে আসছে মনে হয়। আমাদের ও হাসপাতালে তেমন সিট নাই। অক্সিজেন কতদূর মজুদ আছে আল্লাহ মালুম ! ভেন্টিলেটর সংকট, আই সি ইউ তে জায়গা খালি নাই।
এর পরেও কিছু মানুষের চাপাবাজী থামছে না। অহংকার করা থামছে না। অনেকে করোনার সুযোগে লুটপাটের প্লান করছে। খুব কাছ থেকে এখন আমরা মরণ দেখছি। হয়তো সামনে এর চেয়ে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। পরিবেশ দূষণ বেড়ে যাচ্ছে। এইতো কানাডায় কয়দিন আগে বরফে সব ঢেকে গেল। লন্ডনে তুষারপাত হলো। সব মিলিয়ে লক্ষ্মণ যে সুবিধার হচ্ছে তা মনে হচ্ছে না। ঢাকার বাতাসে যে হারে সীসা, পেট্রোল, ডিজেল, পোড়া মবিল আছে এমনিতেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
আল্লাহ মাফ কর।
আসলে এখন টের পাই নাক, মুখ খোলা রাখতে পারাও একটা বিশাল স্বাধীনতার ব্যাপার। বাংলাদেশের কথাই ধরেন, একজন রিক্সা চালক এই গরমে ঘেমে গোসল করে ছুটছে তার উপর মুখে এক টুকরা কাপড় নাক, মুখ ঢাকা নিশ্বাস নিতে কেমন কষ্ট হচ্ছে খালি একটু ভাবেন।
দেখবেন মগজ শীতল হয়ে যাবে এই ভেবে কিসের জন্য এত ছুটে মরা যেখানে এ জীবন এর কোন গ্যারান্টি নাই। কিসের জন্য অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেংগে খাওয়া যেখানে মরণ ঠেকানোর রাস্তা নাই।
এই যে পাশের দেশ ভারতের এই হালে অনেক আলু, পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দিবে। এমনিতেই রোজা আসলে দাম বাড়ে আর এখন বাড়তি যোগ হইছে করোনা। ছিঃ! থু !
বর্ডার বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে ভাবা যায় সামনের দিন কি হবে? পকেটে টাকা থাকবে কিন্তু না খেয়ে মরতে হবে।অনেকের তো চাকরি চলে গেছে। পুরা পরিবার নিয়া কি যে কষ্টে আছে।
আমরা প্লান করি দুই বছর পাঁচ বছরে হেনতেন করে ফেলব। আরে ভাই আগে তো বাঁচেন !
করোনা আংগুল দিয়ে দেখাচ্ছে আমাদের ভুল কি ছিল। যা হবার হয়ে গেছে এখন মরার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আল্লাহ কে ডাকতে হবে যদি তিনি রহম করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




