somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিভুজ প্রেমের মিষ্টি ছবি !

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি নেট।

বসে বসে বোরিং লাগছিল। এ চ্যানেলে সে চ্যানেল ঘুরে হয়রান ক্লান্ত। পিয়াসা, একা, মৌ, শেষমেশ পরিমনি! বিরক্ত ধরে গেছে। একটা জিনিস কমন সবার বাসায় মদ মজুদ থাকে। যে যতনে মদ রাখে সে মদের মামলায় ফাঁসে। আহারে জীবন!

যাক সে সব কথা। বসে বসে বোরিং যখন তখন মাথায় এই খেয়াল এলো। বাংলা ছবির কিছুটা হলে অদল বদল মানে মাল একই খালি বোতল পরিবর্তন করলাম আর কি! চলেন কামে লেগে পড়ি বোরিং দূর করি।

বিশাল ড্রয়িং রুমে চৌধুরী সাহেব বসে আছেন। হাতে হাভানা চুরুট। মোবাইল ঘাটছেন। এমন সময় আই টি ইঞ্জিনিয়ার আমাদের নায়ক এর প্রবেশ।

চৌ সা - কি চাই? নাম কি? কি কর?

নায়ক - একসাথে তিন প্রশ্ন! আপনার মেয়েকে চাই। যাকে আমি ভালোবাসি। নাম শাহেদ। আই টি ইঞ্জিনিয়ার।

চৌ সা - খামোশ! বেয়াদব। বামন হয়ে চাঁদে হাত। আমার মেয়ে ভুল করতে পারে আমি নই। জানো, আমার মেয়ে দেশের কোন কসমেটিকস ব্যবহার করে না। লরেল, গুচি, গার্নিয়ার আরও অনেক কিছু ব্যবহার করে। যা বাইরে থেকে আসে। তারপর মাসে দুইবার যায় দুবাই, সিংগাপুর। তুমি ছা পোষা কর্মচারী কয় টাকা বেতন পাও? পারবে এসব যোগাতে।

(টান টান উত্তেজনা)

নায়ক - সব জানি। ও বলেছে, ও আমাকে ভালোবাসে। আমি যেভাবে রাখব সেভাবে থাকতে পারবে কোন অসুবিধা নাই। (ঠান্ডা মাথায় উত্তর) তাছাড়া...

চৌ সা - তাছাড়া... তাছাড়া কি?

(এমন সময় নায়িকা কুতকুতির প্রবেশ)

কুতকুতি - তাছাড়া বাবা আমি ওর বাচ্চার মা হতে চলেছি!

চৌ সা - কি? ( ভীষণ উত্তেজিত ) ঐ হারামি! বাজারে কি কনডম, বড়ি ছিল না? ছিঃ! এখন আমি মুখ দেখাব কি করে? এ সমাজ কি মেনে নেবে?

নায়ক - বিশ্বাস করেন ছিল সবই। সব ব্রান্ড ব্যবহার করেছি কিন্তু কনডম ফেটে গেলে আমার কি করার? আজকাল কিছুতে ভরসা নাই! সব দুই নাম্বার!

চৌ সা - বেড়িয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে। আই সেইড গেট আউট! এই কে আসিছ
এদিকে আয়! এই হারামজাদা কে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দে...

(এর মাঝে চৌধুরী সাহেব এর পালিত কুকুরগন হাজির)

নায়ক এর সাথে ডিসুম ডুসুম সেইরম মারপিট।

(নায়িকা কুতকুতির শুধু চিৎকার।উপর তলার এ মাথা থেকে ও মাথা দৌড়ঝাঁপ। আর বলছে, " ও! বাবা ওদের থামতে বলো প্লিজ! ) "

এক সময় নায়কের মাথায় চৌধুরী সাহেব আঘাত করে। নায়ক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। নায়িকা কুতকুতি কে ভেতর রুমে আটকে রাখে।

চৌধুরী সাহেব পুলিশ কে ফোন করে বলে তার বাড়িতে ডাকাত এসেছিল। হাতেনাতে ধরেছে। জলদি আসুন।

যথারীতি পুলিশ হাজির। আধা মরা নায়ক কে পুলিশ ভ্যানে করে নেয়া হয়।থানার ওসি কে চৌধুরী সাহেব মোটা অংকের ক্যাশ দিয়ে বলে দেন " মারাত্মক মামলা যাতে করা হয় যাতে আর বাইরে আসতে না পারে। "

পুলিশ নায়ক কে ইয়াবা রাখা এবং বেঁচার মামলা দেয় তারপর চৌধুরী সাহেব এর বাসায় ভাংচুর ও ক্ষয়ক্ষতি এবং চুরির দায়ে মামলায় অভিযুক্ত করে।

নায়িকা কুতকুতি আস্তে আস্তে শাহেদ কে ভুলতে বসে। আউট অফ সাইট আউট অফ মাইন্ড এই সুত্র মোতাবেক।

এমতাবস্তায় জামিন না পেয়ে নায়ক অস্থির হয়ে পড়ে। তিন মাস মামলা চলার পর আদালত রায় দেয় নায়ক কে পাঁচ বছর এর জেল অনাদায়ে আরও কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নায়ক এ রায় শুনে চিৎকার করে বলে " বিশ্বাস করেন! জজ সাহেব আমি নির্দোষ! "

চৌধুরী সাহেব এ খবর শুনে বিশাল পার্টি দেয়। সেখানে নায়িকা কুতকুতির প্রেম পড়ে যায় আরেক যুবক জাবেদ!

ঘটনা এভাবে এগুতে থাকে। প্রেম থেকে জলদি করে বিয়ে। বাসর রাতে জাবেদ রুমে ঢুকার পর কুতকুতির পায়ে পা ঘষার কিছুক্ষণ পর নায়িকার বমি বমি ভাব শুরু হয়।মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়।

ডাক্তার ডাকা হলে জানতে পারে সে গর্ভবর্তী!

জাবেদ - কেমনে? কিছু না করতেই কেমনে? ভাবতে ভাবতে পাগল হয়ে গেল।

নায়িকা তার বাপের বাড়ি চলে আসে। দশ মাস পর নায়িকার বাচ্চা হয়। সবাই খুশী।
ছবি শেষ।

ত্রিভুজ প্রেমের এমন জটিল ধাঁধার ছবিটি দেখতে চোখ রাখুন টিভির পর্দায়। জলদি আসছে। ও ভুলেই গেছিলাম ছবির নাম

" পা ঘষে জাবেদ বাপ হয় শাহেদ! "

হা হা হা.....

আর পুরো ঘটনা টি কাল্পনিক কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে আমি দায়ী নই । ভালো থাকবেন সকলে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২১ রাত ১১:৫৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিন বুদ্ধিজীবী

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪




বুদ্ধিজীবী হওয়া এখন খুব কঠিন কিছু না- শুধু একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই হলো। মাথার ভেতর কিছু আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় না; আসল বিষয় হলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×