
কে বলেছে আমার কেউ নেই
এইযে সুনীল আকাশ
যার বুক ভরা থোকা থোকা মেঘের দল
নক্ষত্রের উঠানামা
ওরা কি আমার পর?
এইযে রোদ
যা গায়ে মেখে চলে যাই কতোদূর
নিমেষে দু:খ ভুলি
এইযে বৃষ্টি জল
কখনো কখনো নিয়ে আসে আনন্দ
কখনো দেয় কিছু কষ্ট
ওরা কি আমার পর?
কে বলে আমার কেউ নেই
এইযে সবুজ অরণ্য
থৈ থৈ জলস্রোত নিয়ে ছুটে চলা নদী
যার একুল ওকুলে কতো কি
মাঝির সুললিত কন্ঠের গান
মাথার উপরে ঘুরপাক খায় চেনা অচেনা পাখি
এতো আয়োজন!
তবু একা আমি?
না, হতেই পারে না।
এইযে লিখছি যে কবিতাটি
যার শব্দে শব্দে পাঁজর ভেঙে আসা কথার ধ্বনি
এরপরেও শূন্য আমি!
না, তা কিছুতেই নয়।
কে বলে একা আমি?
জানে না বলেই লোকে বলে
রাস্তার পাশে যে ছেলেটির হাতে আইসক্রিম
কতো কিছু জানার ইচ্ছে নিয়ে বসে আছে
মাঠ দাপিয়ে ছুটছে আগামী ছুঁতে
যে কিশোরী পুকুরে নেমেছে
ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে
আবার হাসছে
যে মজুর বিড়িতে সুখটান দিচ্ছে
গামছায় মুছে নিচ্ছে সারাদিনের পরিশ্রমের দাগ এবং গ্লানি
যে দেশের আলোতে, বাতাসে
আমার শরীর, মন বেড়ে উঠেছে
এসব কি মিথ্যে?
না, একেবারেই নয়
কতো সুখ!
কতো স্মৃতি!
কে বলে আমার কেউ নেই?
যে কুকুরটি দেখছে
জলপাই পোষাকের আর্মি
সংবিধানের পাতায় পাতায় হাজারো ঘুমপাড়ানি গপ্পো
এসব এতো কিছু?
এ নিয়ে কতো জীবন পার করা যায় অনায়াসে।
যে লাটিমটি ঘুরছে
ঘুরতে ঘুরতে থেমে যাবে এই নিয়ম
আবার ঘুরবে
তা কেন ভুলে যাও
ছাতিম গাছে মধ্যরাতের প্যাঁচা
জেগে থাকার মন্ত্র শোনায়
দিন চলে যায়
রাত ফুরায়
যে পিতার হাত ধরেছে মোনাজাত
সে হাত কতটুকু শক্ত!
সে জানে ইশ্বর।
যে স্ত্রী রান্নাঘর সামাল দিয়ে
নয়টা পাঁচটার অফিস শেষে
বাড়ি ফিরবার পথে
পরিবারের কথা ভাবে
শপিং মলের কাঁচে বন্দী পোষাকটি
সন্তান এবং স্বামীর গায়ে বেশ মানাবে
এ ভেবে কখন বাড়ি পৌঁছে
সে খবর কে কে রাখে?
যে শিশুটি ভূমিষ্ট হবার পরে জানলো না
মাতা-পিতা দখলদারদের গুলিতে না ফেরার দেশে
বারুদ রক্তের ঘ্রাণ যার প্রতিটি কোষে।
যে রমনীটি গোপনে চুমু খেলো
যে পুরুষটি উহা নিয়ে ঘুমুতে গেলো
পরে জানলো,
তার প্রেম ও কামনায়
অন্য কেউ ছিলো
ইশ! কতো গপ্পো
কতো দৃশ্য!
সাদা কালো এই শহরে!
এসব মিশে যায় আমার
প্রাপ্তবয়স্ক শরীর থেকে মগজে
কে বলে আমি একা?
এই যে তুমি আছো
প্রেম আছে কামনা আছে
এক মূহুর্তের জন্য মনে হয় না একা
কে বলে আমি চুমু খাইনা
প্রেমিকার গায়ের ঘ্রাণ
সারা শরীরে মাখি না
চোখ লাল হয়না বিরহে!
ওরা জানে না তাই বলে।
আমি লুকিয়ে রাখি
সব প্রেম প্রকাশ হতে নেই!
ইশ্বর এবং কবি
কখনো একা নয়
কখনো ভেসে বেড়াই সৃষ্টি পাগল ছন্দে
আবার কখনো জড়াই কতো যে দ্বন্দ্বে
কে বলে আমি একা?
এইযে তোমাকে ছুঁয়ে গেলাম
গভীর চুমু খেলাম
তোমার মানস সরোবরে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




