ব্যাক্তিগতভাবে শেষ কয়েকদিন ধরে খুব ঝামেলায় আছি। উপরমহল অর্থাৎ বউ থেকে কড়া নির্দেশ হল, পলিটিকাল কোন কিছুতেই যেন অনশগ্রহন না করি। অবশ্য দুই বছর ধরেই কানের কাছে প্যান প্যান করে যাচ্ছে, তবে এবার আর প্যানপ্যানানি না। সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়ে বসছে, হয় পলিটিক্স নতুবা ও... অগত্যা সব ছেড়ে দিয়ে বউকেই বেছে নিতে হল! তাই আপাতত পলিটিক্সের কার্যক্রম থেকে দূরে আছি, তবে শেষ কয়েকদিন ধরে পলিটিক্সের বেহাল দশা দেখে আর চুপ করে থাকতে পারছি না, কিছু বলার জন্যেই আজ আবার কিবোর্ডের উপর আঙ্গুল চালাচ্ছি...
বাদ দেন, মূল কথায় আসি। আজ রাতে চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে হঠাৎ একাত্তরের টিভিতে টকশোর মাঝে চিল্লাচিল্লি দেখে থমকে গেলাম, ব্যাপার কি? দেখলাম যেই লোকটা সমানে চেচিয়ে যাচ্ছে, তার নাম এবি সিদ্দিকী না কি যেন একটা, কোন এক পত্রিকার সম্পাদক। সে একটার পর একটা রেফারেন্স ছাড়া তথ্য দিয়ে যাচ্ছে যে, এত তারিখ অমুক এলাকায় পেট্রোল বোমা হাতে যুবলীগ নেতা আটক, অমুক এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা আটক, অমুক এলাকায় আওয়ামিলীগ নেতা আটক। সেসময় টকশোর সঞ্চালক ও আরাফাত রহমান যখন রেফারেন্স দিতে বললেন, তখন তিনি গড়গড় করে বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউ এইজ, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক দিনকাল টাইপের কিছু পত্রিকার নাম বলে দিলেন। উল্লেখ্য যে, এই সবগুলো পত্রিকায় কট্টরপন্থি বিএনপি হিসেবে চিহ্নিত, ও বিভিন্ন সময় নানা ভূল সংবাদ ছাপানোর জন্যে সমালোচিত হয়েছে। এইসব পত্রিকাগুলোতে আসলেই এরকম কোন নিউজ প্রচার হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই, তবে এসব পত্রিকায় কি ধরনের সংবাদ ছাপা হয়, সেসম্পর্কে আমার কিছুটা ধারনা আছে। গত একমাসে প্রথম আলোসহ অন্যান্য সব পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলাতে যেসব খবর পাওয়া যায় না, তারা সেসব খবর নিয়মিত সৃশটি করে তাদের পত্রিকায় প্রচার করছে।
এরপর সে দাবী করে, গত এক মাসে বিএনপির ১৩৬ জন নেতা গুম হয়েছে। তাকে যখন রেফারেন্স দিতে বলা হয়, সে তখন বলে যে রেফারেন্স দেয়া যাবে না, কারন এটা নাকি গোপনীয়। অথচ এধরনের কোন তথ্যই কোন মিডিয়াতে কখনোই আসে নাই, অর্থাৎ অন এয়ারে তিনি মিথ্যা বলে খুব সহজেই সকলকে বোকা বানাতে চাচ্ছেন।
এরপর তিনি সবচেয়ে বড় আর মারাত্মক একটা মিথ্যা বলে বসলেন যে আমি কিছুক্ষন স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। তারমতে ১৯৯৬-এ নাকি আওয়ামিলীগের হরতালের কারনে এসএসসি পরীক্ষা ২মাস পেছাতে হয়েছিল। অথচ সবাই জানি, ১৯৯৬-এ পরীক্ষা মাত্র ৭ দিনের জন্যে পেছানো হয়েছিল, আর তখন কোন হরতাল ছিল না। অন এয়ারে কোন পত্রিকার সম্পাদক কিভাবে এতগুলো মিথ্যা তথ্য দিতে পারে? আর এরকম মিথ্যুকের হাতে যখন কোন পত্রিকা থাকে, তখন তারা কিরকমের নিউজ প্রচার করবে?
আসলে বিএনপি এমন একটা রাজনৈতিক দল, যারা আগা-গোড়া মিথায় মোড়ানো। হেফাজতের লাখ লাখ লাশের তত্বের মত অসংখ্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেশটা করছে। জানি না তারা কতটুকু সফল হয়েছে, তবে কিছুটা সফল যে হয়েছে, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। হাজার হোক, এদেশে বিএনপির গু খাওয়ার মত লোকের অভাব নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





