হীরক রাজার দেশে সত্যজিৎ রায় দেখিয়েছিলেন যে অত্যাচারী রাজা তার শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য একজন গবেষক নিয়োগ দিয়েছিলেন। যার কাজ ছিল মগজ ধোলাই যন্ত্র আবিষ্কার করে জনগণের মগজ ধোলাই করা যাতে তারা রাজা যা বলবে তাই শুনবে এবং রাজা অনায়াসে তাঁর পারপাস সার্ভ করতে পারেন। তো অনেক দিন ধরে গবেষণার পর মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র আবিষ্কার করলেন। এবার রাজার দারবারে এক খনি শ্রমিক এসে ফরিয়াদ জানালেন যে, খনিতে কাজ করে তার আর শরীর চলছে না,খনিতে বিষ থাকে, তখন সভাকবি সেই শ্রমিককে শেখালেন, ‘যে করে খনিতে শ্রম তারে যেন ডরে যম।’ এরপর সেই শ্রমিক যখন বলে যে, সে যে টাকা পায় তাতে সে ঠিক মতো খেতে পায় না। তখন সভাকবি তাকে বলেন,‘কম খেলে নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ।’ আর গবেষকের মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্রে নিয়ে গবেষক সেই শ্রমিককে মগজ ধোলাই করে দিলে সে অমায়িক পরিশ্রম ও খাওয়ার কথা ভুলে তাকে শিখিয়ে দেয়া মন্ত্র মুখে আওড়াতে থাকে, ভুলে যায় শ্রমের বেদনা, ক্ষুধার যন্ত্রনা। আমাদের মিডিয়া এখন ঠিক সেই কাজটিই করছে। পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রচার ও প্রসারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আমাদের এই মিডিয়া। পশ্চিমা বেনিয়া দলের সাথে হাত মিলিয়ে ওরা আমাদের তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাই শুরু করেছে খুবই সুচিন্তিত ভাবে। হীরক রাজার দেশে রাজার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা আর এই বেনিয়াদের হিডেন পারপাস হচ্ছে ব্যবসা বৃদ্ধি করা, নিজেদের পন্যের বিক্রি বাড়ানো আর তরুণ প্রজন্মকে ভোগবাদী করে তোলা কারণ তরুণরা ভোগবাদী না হলে ওদের বাৎসরিক টার্নওভার কমে যাবে। আর তাই এই ফেব্রুয়ারি মাসে এসে দেখছি ভালোবাসা দিবস উদযাপনের জন্য সপ্তাহব্যাপী মহারণ। ওরা বলছে ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে, ৮ ফেব্রুয়ারি প্রোপোজ ডে, ৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে, ১০ ফেব্রুয়ারি টেডি ডে, ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিজ ডে, ১২ ফেব্রুয়ারি কিস ডে, ১৩ ফেব্রুয়ারি হাগ ডে আর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেনটাইন ডে। মজার ব্যাপার হলো প্রত্যেকটি দিনের সাথে জড়িয়ে আছে ব্যবসা। ব্যবসাটা সামান্য গোলাপ ফুল দিয়ে শুরু হচ্ছে অর্থ্যাৎ প্রথম দিন কম খরচে পার পেয়ে গেলেন কিন্তু খরচের অভ্যাসটা গড়ে উঠল। এবার যেদিন প্রোপোজ করবেন সেদিন তো আর এমনি এমনি করা যাবে না, তার জন্য নিজেকে ফিটফাট হিসেবে জাহির করতে হবে। তারজন্য দরকার ফ্যাশনেবল জামা-প্যান্ট, ঘড়ি, চেইন, চশমা, পারফিউম ইত্যাদি ইত্যাদি অর্থ্যাৎ আপনি একটা দিন প্রপোজ করবেন তার জন্য আপনাকে কত কোম্পানীকে বড়লোক করে দিতে হচ্ছে আর নিজের পকেট ফাঁকা হচ্ছে। এভাবে যদি প্রপোজ করে সফল হন তাহলে নানান দিবস পেরিয়ে শেষে আসছে ভ্যালেন্টাইন ডে অর্থাৎ খরচের চূড়ান্ত দিন। এদিন প্রিয়তমাকে খুশি করতে আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, আপনার পকেট ফাঁকা হবে আর লাভ হবে ঐ বেনিয়াদের। এভাবে সুকৌশলে ওরা আমাদের মগজ ধোলাই করে ওদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে আর আমাদেরকে ওদের সাংস্কৃতিক দাস বানিয়ে ফেলছে। আচ্ছা এভাবে বলে কয়ে, দিনক্ষন মেপে, গিফট দিয়ে কি ভালোবাসা হয়? ভালোবাসা তো হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। আর হৃদয়ের ভাবাবেগের কাছে এই সব গিফট-টিফট একেবারে তুচ্ছ। ভালোবাসা করা যায় না ভালোবাসা হয়ে যায়।
আলোচিত ব্লগ
জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?
জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন
রংয়ের মানুষ

গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন
অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন
লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।