
মেয়েটির গায়ের গন্ধে কেমন যেন অন্যরকম মাদকতা মেশানো।নাদের সরাসরি শামার চোখে চোখ রাখে।
-আমাকে কি প্রয়োজন আপনার?
শামার কন্ঠে বিরক্তি ঝরে।
-আসলে আমি আপনাকে ডাকিনি।
-মনি যে বললো?
মনির ডাক শুনে শামা ঘরে চলে আসে।নাদেরর অপজিটে চেয়ার টেনে নিয়ে বসে।
-আপনি বসার ঘরে বসেছিলেন।আপনাকে নতুন মনে হলো তাই মনির কাছে জানতে চেয়েছিলাম আপনি কে।
-তাই বলেন।আপনি কতদিন হলো মনিকে পড়াচ্ছেন?
-দিন ষোল হলো।
-এই কয়দিন আমি দেশে ছিলাম।আমি মনির একটিমাত্র ফুপী।
নাদের খেয়াল করে মনি অংক কষা বাদ দিয়ে ওদের গল্প শুনছে।
-মনি,অংক করা থামালে কেন?
নাদেরের কথা শুনে মনি আবার অংক কষতে শুরু করে।
-আপনি ছাত্র?
শামা প্রশ্ন করে।
-কি মনে হয় আপনার?
নাদেরের পাল্টা প্রশ্নে শামা হেসে ফেলে।
খুব সকালে নাদেরের ঘুম ভেঙ্গে যায়।তাড়াতাড়ি লুঙ্গি আর সাবান নিয়ে বাথরুমে ছুটে।গোসল শেষে রুমে ফেরার সময় সোহেলের সাথে করিডরে দেখা হয়।সোহেল ব্রাশ নিয়ে বাথরুমের দিকে আসছিল।সোহেল আর নাদের একই সেশন ও ডিপার্টমেন্টে পড়ে।একটু পোংটা প্রকৃতির সোহেল।নাদেরকে এত সকালে গোসল করে ফিরতে দেখে কুটিল চোখে তাকায়।নাদের প্রমাদ গুনে।
-কি ভায়া খবর কি?গতরাতে পরী এসেছিল স্বপ্নে?
সোহেল প্রশ্ন করে।
-হ পরী এসেছিল।
নাদের উত্তর করে।
-তা পরী কি সব সময় তোমার নীচে ছিল না উপরে ছিল।
-উপরে ছিল।
নাদের উত্তর করে।
-সাবাস।চালিয়ে যাও।আর হ্যাঁ এটাও জানিও যে তোমার নতুন ছাত্রের বাড়িতে যে হুর-পরী থাকে তা দেখতে কেমন।
নাদের আর কথা বাড়ায়না।হাসতে হাসতে রুমের দিকে চলে যায়।লুঙ্গি মেলতে মেলতে ভাবে স্বপ্নে শরীর আসে কিন্তু মেয়েটির মুখ কেন আসেনা।
শামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে ওর বড় ভাই ওকে ইডেনে ভর্তি করে দেয়।কলেজের প্রিয় বান্ধবীদের একজনও ইডেনে ভর্তি হয়নি।প্রথম প্রথম খুব নিঃসঙ্গ লাগত শামার।এরপর বেশ কিছু বান্ধবী জুটিয়ে নেয়।আর এ পর্যায়ে ও যা আবিষ্কার করে,সেটা হলো ওর সবগুলি বান্ধবীই প্রেম করছে।একদিন ও কয়েক বান্ধবীদের নিয়ে কাটাবনে এক রেষ্টুরেন্টে বসে।
-ওয়াসিফা,তুই প্রেম করিস কেন?
শামা প্রশ্ন করে।
-সময় কাটানোর জন্যে।
-আমি অবশ্য অন্য ধান্ধায়। যতক্ষণ ও পাশে থাকে শরীরটা বেশ গরম থাকে।আর যদি মৃদল ভালো চাকরী পায় তবে গলায় ঝুলে পড়বো।
গড়গড় করে পৃথ্বীলা বলে যায়
-যদি ভালো চাকরী না পায়?
ওয়াসিফা প্রশ্ন করে।
-স্রেফ কেটে পড়ব।
পৃথ্বীলার কথার ধরণে সবাই হো হো করে হেসে উঠে।
-সবার কথা তো হলো।শামার কথা কিছু জানা হলো না।শামা তুই বল।
ওয়াসিফা বলে।
-আমি?শীঘ্রই একটি প্রজেক্ট নেবো সময় কাটানোর জন্য।
শামা বলে।
-তাহলে গরম লাগলে এই মূহুর্তে কি করিস?
পৃথ্বীলা প্রশ্ন করে।
শামা আম্পেয়ারের মত আঙ্গুল তুলে ধরে।পৃথ্বীলা আর ওয়াসিফা কিছুক্ষণ থমকে থাকে।বড় বড় চোখ করে পরস্পরের দিকে তাকায়,তারপর হো হো করে হেসে উঠে।
ঠগী (১ম অংশ)(Click This Link)
ঠগী (২য় অংশ)(Click This Link)
চলবে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




