somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথ্যার সরল অংক আর মিলবে না!

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিরে মন খারাপ কেন?
না মামা এমনিই! বলেই ভাগ্নে ঠোঁট উল্টালো!
আমি বললাম, কারণ তো একটা কিছু আছেই, নাহলে তো তোর মন খারাপ থাকে না কখনো! বল কি হইছে?
আমার বলার তেমন কিছু নেই মামা, তুমি কি খবরগুলো পড়েছো?
কোন গুলো?
এই আল জাজিরা বলেছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নাকি তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছে! আবার বিএনপি’র প্রধানের উপদেষ্টা এডভোকেট মাহবুব আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছে, ১৯৭১ সালে নাকি বাংলাদেশে কারো কোন ক্ষতি হয়নি, যুদ্ধাপরাধ হয়নি; মানে আমাদের দেশে কিছুই ঘটেনি! তারেক জিয়া তো বঙ্গবন্ধু ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ক্রমাগত ভুল তথ্য দিয়েই যাচ্ছে! ২০১৪ সালের পৃথিবীতে বাস করেও যদি এই সব বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়; তাহলে আগামী দশ বছর পরে হয়ত কেউ বলবে, ১৯৭১ সালে বড়জোর হাজার তিনেক মানুষ মারা গেছিলো! অন্য কেউ এসে বলবে, মুক্তিযুদ্ধ আবার কি? সেটা আবার কবে হয়েছিল? এসবই মিথ্যা প্রচারণা! এবং তা এক শ্রেণীর মানুষ বিশ্বাসও করবে, যা এখনই করছে! – আমি আসলে এসব দেখেশুনে চিন্তিত, আর মন খারাপের এটাই কারণ!
আমি বললাম, শোন! সেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই প্রচারণা শুরু হয়েছে। তুই কি জানিস যে, রেডিও-টিভিতে শেখ মুজিবের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলা নিষেধ ছিল এই ১৯৯০ সাল পর্যন্ত! ‘জাতির জনক’ বলা তো ছিল কল্পনার বাইরে! সেই সময়গুলিতে সরকারি তথা অধিকাংশ বেসরকারি পত্র-পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-ধর্ষণের বর্ণনায় ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী’ না বলে বলা হত ‘হানাদার বাহিনী’। আর মাঠে ময়দানে কথা-বক্তৃতায় মুক্তিযুদ্ধকে বলা হত ‘গণ্ডগোল’, ১৯৭১ সালকে বলা হত ‘গণ্ডগোলের বছর’! দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমি আমার হাইস্কুল জীবনে দুই-তিন জন শিক্ষক পেয়েছিলাম যারা ছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ‘শান্তি কমিটি’র সক্রিয় সদস্য ও রাজাকার! তারা ক্লাসেই কি দম্ভ নিয়ে যে বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধকে তাচ্ছিল্য করত তা এখন মনে পড়লে গা গরম হয়ে ওঠে! এখানে আর একটা মজার তথ্য তোকে জানিয়ে রাখি, এই স্যারদের মধ্যে এক স্যারের ছেলে ‘মুক্তিযোদ্ধা’র সার্টিফিকেট নিয়ে সরকারের পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চপর্যায়ে চাকুরীতে নিয়োজিত আছে বর্তমানে; যার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আসল বয়স ছিল মাত্র ৫-৬ বছর! এখন তারা বাইরে পুড়াই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে! এটা আমি কিভাবে জানলাম তা তোকে পরে বলবো!
আর শোন! এখন তো পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে। তোদের মত নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা অন্তত মিথ্যা ধরতে পারছিস! আমরা ছোটবেলায় তো তাও পাড়তাম না; লোকে যা বলত অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাইই বিশ্বাস করতে হত। ভাগ্যিস আমি পরিবার থেকে কিছু আর বইপত্র পড়ে জেনেছি অনেক সত্য।
মামা, আমি তোমার সব কথাই মেনে নিলাম কিন্তু তাই বলে এই বর্তমান সময়েও বিনা বাঁধায় এইরকম মিথ্যা প্রচারণা চালাবে?
চালাতে দে, বাংলার বুকে আজ যুদ্ধাপরাধীদের এই যে বিচার চলছে, কার্যকর হচ্ছে রায়, অপরাধীরা পাচ্ছে শাস্তি! একদিন দেখবি সব মিথ্যা প্রচারণাকে ‘মিথ্যা’ প্রমাণ করে দিয়ে এই রায়গুলোই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’র ‘সত্য’ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে দিচ্ছে! মিথ্যার সরল অংক আর মিলবে না সেদিন। কারণ অংকের ফল লেখা হয়ে যাচ্ছে আদালতে।
ধৈর্য ধর !!!
০৭/১১/২০১৪ দুপুর ১১.৫৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×