somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাটলকথন: ১

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুর ১২টা বেজে ৩০ মিনিট।
বসে ছিলাম শাটলের একদম লাস্ট
বগিতে, ফ্যামিলি বগি।২/১জন অবশ্য
মজা করে বলছিল,হাসপাতাল বগি!
দুইপাশে বসার জায়গা আর
মাঝখানটা ফাঁকা;বেশ ফাঁকাই
বলা যায়।চাইলে ফুটবলও হয়ত
খেলা যাবে। সবাই তার সাধ্যমত
সিট ধরে রেখেছে।ছোট পাথরের
টুকরা,সাদা একটা পৃষ্ঠা থেকে শুরু
করে যার যা আছে তাই দিয়েই
চলে সিট ধরার মজার খেলা!
চুইয়ান'রা এই খেলাটা খুব ভাল
বোঝে! প্রথম প্রথম
এইগুলা দেখে টাশকি খেতাম!এখন
আমি নিজেও এই গেমের নিয়মিত
পারফর্মার।যদিও পার্রফম্যান্স খুব
একটা ভাল না!

অনেকক্ষন একা একা বসে ছিলাম।
হাতেগোনা ভাইয়া-আপুও আছে।
আমি বসে বসে অবশ্য
সিংগারা চিবুচ্ছিলাম আর
ভাবছিলাম।কেউ খাচ্ছিল,কেউ গল্প
করছে,কেউ ফেসবুকিং আবার কেউ
সেলফি তোলায় মত্ত।কিছুক্ষন পর
একজন মাঝবয়সী লোককে দেখলাম
একদম কোনার
একটা জায়গাতে এসে বসতে।
সাথে ৩টা বাচ্চা মেয়ে।
বাচ্চাগুলা বেশ দুষ্টু!৩টার
হাতে ৩টা কেকের প্যাকেট।
লোকটার বাম
হাতটা ভেংগে গেছে।প্লাস্টার
করা দেখলাম!বেশ হতদরিদ্র মনে হল।
সবাই এক নজরে ওদের
দিকে তাকিয়ে আছে।
লোকটা বিব্রত
হয়ে বলল,"আমরা এহানে বসমু না।
উইঠ্যা যামু অহনি।
অহনি উইঠ্যা যামু।"তার উত্তর
পেয়ে আমরা আবার স্ব-স্ব
কাজে মননিবেশ করলাম।

সবই সাধারন দৃশ্য।অন্যান্য সাধারন
দিনগুলির মতন।
ছোট মেয়েটা কেকের প্যাকেট
টা ছিড়তে পারছে না।ওর
বাবাকে দেখলাম,একহাতেই দাঁত
কামড়ে প্যাকেটটা ছিড়ে ফেললেন।।
এরপর ঘটল দারুন একটা ঘটনা।
৩টা বাচ্চা মেয়ে প্রথমে বাবাকে
মুখে তুলে খাইয়ে তারপর
নিজেরা খাওয়া শুরু করল।বাবার
মুখে তৃপ্তির হাসি;অসাধারণ সেই
হাসি।দেখে মনে হচ্ছিল,এই বাবা এই
মূহূর্তে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ!!!
সৃষ্টিকর্তা তার একটা হাত সাময়িক
অচল করে, ৩টা নিষ্পাপ সচল হাত
পাঠিয়ে দিয়েছেন!৪জন সাধারন
মানুষ, সাধারন সময়টাকে,
মূহূর্তে অসাধারণ করে তুলল। এ রকম
ভাগ্যবান কি সবাই হয়?!?
নাহ!সবাই হয় না।

(এক বছর আগের লেখা)

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৩২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×