somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

সৌদি-আরবে ভিন্নমতালম্বীদের গণহারে হত্যা করা হচ্ছে।

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৌদি-আরবে ভিন্নমতালম্বীদের গণহারে হত্যা করা হচ্ছে।
সাইয়িদ রফিকুল হক

ফিরাউনী-বংশের “রাজতন্ত্র-রক্ষার” স্বার্থে ইদানীং সৌদি-আরবে ভিন্নমতালম্বীদের গণহারে হত্যা করা হচ্ছে।সম্প্রতি একজন ধর্মীয় নেতাসহ ৪৭জনকে নিষ্ঠুরভাবে শিরোচ্ছেদ করা হয়।এই ধর্মীয় নেতার নাম “শাইখ নিমর বাকের আন-নিমর”।হত্যার পর তাঁকে “শিয়া” বলে আখ্যায়িত করা হয়।আসলে, এঁরা হজরত আলী(রা.)-এর অনুসারী পবিত্র মুসলমান।আর এঁরা আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত।তাঁর বয়স হয়েছিলো আনুমানিক ৫৬বছর।
তিনি তাঁর দেশের ও দেশের জনগণের জন্য ভালো-কাজ করেছিলেন।দেশবাসীর মৌলিক-মানবিক অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি “ফিরাউনী-সৌদি-রাজতন্ত্রের” বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন।আর একজন মুসলমান হিসাবে তিনি যথার্থ কাজই করেছেন।সৌদি-রাজতন্ত্রের ধারক-বাহক শয়তানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অভিযোগে তাঁকে শিরোচ্ছেদ করা হয়।এটি ভয়ানক নিষ্ঠুর ও মানবতাবিরোধী অপকর্ম।আর এখন “রাজপরিবারের” লম্পট-পুরুষগণ যত্রতত্র ব্যভিচারে লিপ্ত।নারী-সংসর্গে তারা দিনরাত পার করছে।তবুও তাদের কোনো অপরাধ নেই।আর একজন ভালোমানুষ শয়তানীশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার কারণে তাঁকে জীবন দিতে হলো।

শাইখ নিমর বাকের আন-নিমর ছিলেন একজন সাচ্চা-প্রতিবাদী ও সাহসী মানুষ।তিনি মৃত্যুকে ভয় পাননি।আর তাই, তিনি ২০১১ সালে সৌদি-সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন।বর্তমান সৌদি-সরকার পৃথিবীর ভয়াবহ “জালিম-সরকার” ও গণমানুষের শত্রু।এরা ইসলামের নামে, মুসলমানের নামে সম্পূর্ণ “কুফরীশাসন” পরিচালনা করছে।নিজেদের স্বার্থের রাজনীতিকে রক্ষা করার জন্যই বছরের-পর-বছর এরা পবিত্র ইসলামধর্মের দোহাই দিয়ে “গণতন্ত্রকামী” ও “সত্যিকারের মুসলমানদের” হত্যা করছে।এদের পাপের সীমা নাই।এরা নিজেরা হাজার অপরাধ করলেও কারও “ফাঁসি” কিংবা “শিরোচ্ছেদ” হবে না।আজ পর্যন্ত শুনিনি, সৌদি-রাজপরিবারের কোনো সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বহু বৎসর আগে, একবার শুধু “বাদশাহ ফয়সাল”কে হত্যার কারণে মাত্র একজনকে দায়সারাভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো।আর এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে থাকা আসল ‘ষড়যন্ত্রকারীদে’র ক্ষমা করে দেওয়া হয়।এরা মনে করে, ইসলাম তাদের ‘রাজতন্ত্র-রক্ষা’র হাতিয়ার।আর তাদের পরিপূর্ণভাবে ইসলামধর্মপালন করার কোনো প্রয়োজন নাই।ইসলাম-পালন করবে সাধারণ মুসলমান।তাই, সৌদি-রাজপরিবারের সদস্যরা জিনাব্যভিচার-ভোগবিলাস-যৌনবিলাস-অর্থবিলাস-অর্থঅপচয় ইত্যাদি নানারকম পাপাচারে লিপ্ত হয়েও বহাল তবিয়তে সৌদি-আরবে বসবাস করছে।আর প্রায়শঃ ধর্মের নামে সাধারণ মুসলমানদের শিরোচ্ছেদ করছে।এরা প্রকৃতপক্ষে শয়তানের অনুসারী।
এরাই, এই সৌদি-রাজপরিবার ধর্মের নামে কিছুকাল আগে, আমাদের দেশের ৮জন গরিব-মানুষকে শিরোচ্ছেদ করেছিলো।এরা পেটের দায়ে সৌদি-আরবে গিয়েছিলো।সেই সময় এই নিয়ে দেশে একটা সৌদি-আরববিরোধী মনোভাবও গেড়ে উঠেছিলো।এই শয়তানরা কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলো।

একজন ধর্মীয় নেতা নিমরকে হত্যা করে তারা তাদের শয়তানী-রাজতন্ত্রের রাজক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে।কিন্তু প্রকৃতির অভিশাপ থেকে তারা বাঁচবে না।এই সৌদি-রাজপরিবার সম্পূর্ণ অভিশপ্ত।কিছুদিন আগে হজ্জের সময়(চলতি বছরে)সৌদি-আরবের বর্তমান বাদশাহ-লম্পট সালমানের ‘রাজকীয়-শয়তানী-অনুষ্ঠানে’র জন্য মিনায় হাজার-হাজার হাজী মারা গিয়েছে।নির্ভরযোগ্য-সূত্রের মতে, সেই সময় মিনায় কমপক্ষে “দশসহস্রাধিক হাজী” নিহত হয়েছে।সালমান-শয়তান তাদের তাড়াহুড়া করে কোনোরকমে মাটিচাপা দিয়েছে।আর এরাই এখন মুসলমান!

এই লম্পট-সালমানের আমলেই সৌদি-আরবে সাধারণ মানুষ ও ভিন্নমতালম্বীদের হত্যার পরিমাণ ভয়াবহ-রকমভাবে বেড়ে গেছে।এজিদবংশের “প্রকৃত-উত্তরাধিকারী” হিসাবে সে দোর্দণ্ডপ্রতাপে ভোগবিলাসের রাজতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।এদের স্বার্থে কেউ কথা বললেই সে হয় “অপরাধী” আর “শিয়া”।অথচ, এরা এজিদের অনুসারী।এদের বিচার কে করবে?এরা নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের অবাধ “যৌনসুখে”র স্বার্থে, আর “ভোগ-বিলাসের” রাজতন্ত্রের স্বার্থে এভাবে আর কত সাধারণ মানুষ ও মুসলমানকে হত্যা করবে?

একজন নিমরের পবিত্র-আত্মা মানুষের জন্য নিবেদিত হয়েছে।আর তিনি মানুষ, তাই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।এখন মানুষ মরে যাচ্ছে, আর শয়তানগুলো হাসছে।সৌদি-আরবে শয়তানের এখন ফাঁসি হয় না।সেখানে এখন শুধু “মানুষের” মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।কিন্তু আমাদের দেশে একজন ‘শয়তানে’র ফাঁসি দিতে গেলে সারাবিশ্বে কতোরকমের শয়তানী-টালবাহানা শুরু হয়ে যায়।আর তখন কতো ওয়াজ-নসিহত শুনি।কিন্তু এখন “বিশ্ববিবেক-নামধারী” নরপশুরা ‘শয়তানের কদমবুসি’ করতে ব্যস্ত।ধিক্ এই শয়তান-কুলাঙ্গারদের।ধিক্ “ইউরোপীয় ইউনিয়ন” নামক শয়তানের সংঘকে।
জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৩৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×