somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

এই নামধারী-মুসলমান কবে ভালো ছিল?(প্রথম পর্ব)

০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই নামধারী-মুসলমান কবে ভালো ছিল?(প্রথম পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

গায়ের জোরে, নামের জোরে, আর লোকদেখানো সামান্য-কিছু আচারপ্রথাপালনের জোরে এখন সর্বত্র মুসলমানিত্বপ্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু এটি শুধু এখন নয়—সেই অনেককাল আগে থেকেই এগুলো চলে আসছে। ইসলামের প্রথম-যুগেও ভণ্ডরা মুসলমান-সেজে (কিন্তু মুসলমান না হয়ে) ইসলামের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে, তা লিপিবদ্ধ করতে গেলে কয়েক শতাব্দী পেরিয়ে যাবে। ইসলামের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত ‘চার-খলিফার যুগেও’ ভণ্ডদের ছিল সীমাহীন দাপট। আর তাদের দাপটেই প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য ধর্মপরায়ণ ও সত্যিকারের মুসলমান। এই নামধারী-মুসলমানের দাপট তখন থেকেই। আর এই দাপট এখনও চলছে দুর্বার গতিতে।

এই নামধারী-মুসলমান কবে ভালো ছিল?

এরা আসলে কখনও মুসলমান নয়। তখনও এরা সামাজিক ও রাষ্ট্রিক প্রয়োজনে কিংবা নিজেদের অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রামে মুসলমানের পদে অভিনয় করেছে মাত্র। এখনও একশ্রেণীর মানুষ মুসলমান না হয়ে শুধু মুসলমানের অভিনয় করে যাচ্ছে।

এই নামধারী-মুসলমানদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুক রা.। তিনি মসজিদে নব্বীতে নামাজে ইমামতি করা অবস্থায় একশ্রেণীর মুসলমান-নামধারী পাপিষ্ঠের হাতে শাহাদাতবরণ করেছেন।
ইসলামের তৃতীয় খলিফা আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ‘যুন্নুরাইন’ উপাধিপ্রাপ্ত হজরত উসমান রা. পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় মুসলমান-নামধারী একশ্রেণীর নরপশুর হাতে শাহাদাতবরণ করেছেন। তিনি তৎকালে মহানবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মশহুর সাহাবীদের একজন। তাঁকেও অকালে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বামীকে ঘাতকদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য এগিয়ে এসে উসমানপত্নী লায়লা আহত হন। তাঁর হাতের আঙ্গুল কাটা পড়ে। আর হজরত উসমান-হত্যায় যারা নেতৃত্ব দেয়—তাদের মধ্যে অন্যতম হলো: ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রা.-এর দুই পুত্র আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ও মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর! কী ভয়ংকর আশ্চর্যজনক ইতিহাস! খলিফা আবু বকর তাঁর পুত্রের নাম আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামের সঙ্গে মিল রেখে তার নাম রেখেছিলো ‘মুহাম্মদ’! আর সে-ই কিনা হজরত উসমানের অন্যতম খুনী!

এর পরের ইতিহাস আরও মারাত্মক—আরও ভয়াবহ। হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশকে নির্বংশ করার জন্য চক্রান্তকারীরা ভয়ানক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় মহানবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে ইসলামের অন্যতম যোগ্য-ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতার প্রাণপুরুষ, পবিত্র রাসুলের চিরআশীর্বাদপুষ্ট হজরত আলীর বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। আর এরই ফলশ্রুতিতে মসজিদে নব্বীতে নামাজরত অবস্থায় হজরত আলী রা.-কে হত্যা করে একশ্রেণীর পাপিষ্ঠশয়তান। আর এরাও ছিল সেই সময়কার নামধারী-মুসলমান। ইসলামের চতুর্থ খলিফা, বেলায়েতের ইমাম, ত্বরীকতের ইমাম হজরত আলীকে হত্যা করেই ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। এরপর তারা আহলে বাইয়্যেতের ইমাম, মুসলমানদের ইমাম—হজরত ইমাম হাসান রা. ও হজরত ইমাম হোসেন রা.-কে হত্যা করে। হজরত ইমাম হাসানকে হত্যা করা হয় মারাত্মক বিষপ্রয়োগে। আর নিরীহ হজরত ইমাম হোসেনকে সপরিবারে হত্যা করা হয় ফোরাতনদীর তীরবর্তী ‘কারবালা’ নামক স্থানে। এই ইতিহাস সবারই কম-বেশি জানা আছে। কিন্তু হত্যাকারীরা কারা? সেই একইগোষ্ঠী আর সেই একইচক্র—নামধারী-মুসলমান বা মুসলমান-নামধারী কালশয়তান। আর এই শয়তানদের আদিপুরুষ মক্কার একসময়কার কাফের-সর্দার আবু সুফিয়ানপুত্র মুআবিয়া ও মুআবিয়ার কুলাঙ্গারপুত্র—শয়তানের জারজপুত্র এজিদ। এই এজিদের অনুসারীরা কখনও মুসলমান নয়। এরা সবসময় নামধারী-মুসলমান। আর এদের একমাত্র কাজ হলো: জঙ্গীবাদী-নাশকতা, বোমাবাজি, মানুষহত্যা, গুপ্তহত্যা ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা।

যারা সত্যিকারের মুসলমান—তাঁরা মানবজাতির নমস্য। আর তাঁরা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। এঁরা আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত-অনুসারী। আর যারা সবসময় নিজেদের স্বার্থের জন্য ইসলাম-ইসলাম বলে তারস্বরে চিৎকার ও চেঁচামেচি করছে—তারা আসলে ধোঁকাবাজ ও নামধারী-মুসলমান। এরাই ইসলামের প্রথম-যুগের সকল হত্যাকারীদের পরমাত্মীয়। এদের ইসলামে কোনো স্থান নাই।

এই নামধারী-মুসলমানরা ইসলামে ঢুকে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা কোনোকালে ভালো ছিল না। আর এখনও ভালো নয়। এইজাতীয় নামধারী-মুসলমানের সংখ্যাই এখন বেশি। এদের ইসলাম থেকে বিতাড়ন করা জরুরি।

(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৩/০৬/২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ২:৪৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×