খুব অদ্ভুদ একটা ব্যাপার ঘটে গেল।
সিএনজির দরজার ছিটকিনি ঠিক মত
লেগেছে। দরজা লাগাতে গিয়ে হাত কচলা
কচলি হবে তারপর সামনে থেকে ড্রাইভের
হুক লাগিয়ে দিবে। এই হল নিয়ম। তিনি
আরাম করে সিগারেট বের করলেন। আগুন
না জ্বালিয়ে খাবেন। ইদানীং এটা করছেন।
এতে ফুসফুস অক্ষত থাকে। ফুসফুস অক্ষত
রাখা খুবই জরুরী। তার বয়স ষাট। আরো
দশ বছর তাকে বাঁচতে হবে। দশ বছর সমান
৩৬৫০ দিন। এই ৩৬৫০ দিন তিনি কী কী
করবেন সব তার খাতায় লিখা আছে।
তবু মাঝে মাঝে বারান্দায় ফেরিওালার
ডাক শুনলে তার অতীতের কথা মনে পড়ে।
ফেরিওয়ালার ডাকের সাথে এটার সম্পর্ক
কী সেটা ভিন্ন আলোচনা। কলেজ জীবনে
বাসস্টপে বসে বীথিকে ভাবতেন। দশ
টাকার বাদাম খেয়ে তারপর উঠতেন। বড়
ভাল মেয়ে ছিল। একদিন ৩২ নাম্বার
রোডে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল খুব। -এই
মেয়ে কাঁদছ কেন তুমি?
-আমি জানি না
-না তুমি কাঁদবে না
চুড়ি বিক্রি করে আকাশ কিনেছিল।
তার বিয়েতে তিনি উপহার হিসেবে পাউডার
দিয়েছিলেন। এত কিছু থাকতে পাউডার
কেন? সেটাও এক রহস্য। বীথির সাথে
অবশ্য নিউমার্কেটে আবার দেখা
হয়েছিল। সে তার ছেলের জন্য সাইকেল
কিনবে। ছেলে পা ছুয়ে সালাম করল। তিনি
তাকেও একটা পাউডার কিনে দিল। এতে
বীথির পুরনো সৃতি মনে পড়বে। এটার
দরকার আছে।
তিনি ঠিক করেছেন আরেকটি খাতা
বানাবেন। সেখানে লিখা থাকবে তার ষাট
বছরের জীবনের প্রতিটি দিন। সামান্য
একটা ফুটবল ম্যাচের সমস্ত পরিসংখ্যান
রেকর্ড করা থাকে আর একটা জীবন
বাদামের ছোলকার মত নষ্ট হবে!
ট্যাক্সির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে আছে।
ড্রাইভার পেশাব করতে গিয়েছে। আশে
পাশে ড্রেন পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি
সিগারেটে আগুন ধরালেন। বীথির কথা মনে
পড়াতে আনন্দ বোধ হচ্ছে। আনন্দ একা
ভোগ করা যায়না। ড্রাইভার থাকলে তাকে
বলে যেত। আপাতত ফুসফুসে ছড়িয়ে
দিলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




